ক্রাইস্টচার্চে রেকর্ডের দিনে বাংলাদেশের ভরাডুবি...

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারী, ২০২২ ০১:১৫:৩৮ || পরিবর্তিত: ১০ জানুয়ারী, ২০২২ ০১:১৫:৩৮

ক্রাইস্টচার্চে রেকর্ডের দিনে বাংলাদেশের ভরাডুবি...

 

স্টাফ রির্পোটারঃ ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে রেকর্ডের পসরা সাজিয়ে বসেছে নিউজিল্যান্ড। একর পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন কিউইরা। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল যেন উজাড় করে দিচ্ছে কিউইদের। হ্যাগলি ওভালে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেললেন ক্রাইস্টচার্চের ঘরের ছেলে টম ল্যাথাম। এ মাঠে এর আগের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ছিল কেইন উইলিয়ামসনের। গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৩৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এই হ্যাগলি ওভালে ক্যারিয়ারের ৩০০তম টেস্ট উইকেট পেয়েছেন ট্রেন্ট বোল্টও।

মেহেদি হাসান মিরাজকে বোল্ড করে মাত্র চতুর্থ নিউজিল্যান্ড বোলার হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেট পেয়েছেন ট্রেন্ট বোল্ট। ৭৫তম ম্যাচ খেলছেন এই পেসার। নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় তাঁর ওপরে আছেন রিচার্ড হ্যাডলি (৪৩১), ড্যানিয়েল ভেট্টোরি (৩৬১) ও টিম সাউদি (৩২৮)।

ল্যাথাম ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো নিউজিল্যান্ড অধিনায়কের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ২০০৪ সালে চট্টগ্রামে এর আগে ২০২ রান করেছিলেন স্টিফেন ফ্লেমিং। 

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম ইনিংসে পঞ্চম উদ্বোধনী ব্যাটার হিসেবে দ্বিশতক পেয়েছেন টম ল্যাথাম। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে দ্বিশতক পেয়েছিলেন ব্রায়ান ইয়াং। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে যে কোনো ইনিংসে কোনো উদ্বোধনী ব্যাটারের ২০০ রান করার এটি সপ্তম ঘটনা। ২০১৮ সালে সর্বশেষ ল্যাথামই পেয়েছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম ২০০ রানের দেখা, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়েলিংটনে। 

ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ২৬৪ রানের নিজের রেকর্ড এবার ছুঁতে পারেননি ল্যাথাম। তবে ফ্লেমিংয়ের পর মাত্র দ্বিতীয় নিউজিল্যান্ড ব্যাটার হিসেবে দুটি ২৫০ রানের ইনিংস খেললেন তিনি। ক্যারিয়ারে ১২টি শতকের মধ্যে কিউই অধিনায়কের এটিই সবচেয়ে দ্রুতগতির শতক।

অপরদিকে রেকর্ড গড়েছেন ডেভন কনওয়েও। ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্টে এসে পেয়েছেন তৃতীয় শতকের দেখা। ক্যারিয়ারে প্রথম ৫ টেস্টে কমপক্ষে তিনটি শতক ছিল এর আগে মাত্র চারজনের সুনীল গাভাস্কার (৪), জর্জ হেডলি (৪), কোনরাড হান্টে (৩) ও ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের (৩)। 

ল্যাথামের পর কনওয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের মধ্যে দুজনই পেয়েছেন শতকের দেখা। প্রথম ইনিংসে প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের মধ্যে দুইজনেরই শত রানের ইনিংস নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এমন ঘটনা এ নিয়ে পঞ্চমবার। সর্বশেষ ঘটেছিল ২০১৩ সালে। 

ল্যাথাম ও কনওয়ে দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেছেন ২১৫ রান। বাংলাদেশের বিপক্ষে যেটি নিউজিল্যান্ডের রেকর্ড। এর আগের রেকর্ডটি ছিল কনওয়ে ও উইল ইয়াংয়ের সিরিজের প্রথম টেস্টে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে হয়েছিল সেটি। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম ইনিংসে দ্বিতীয় উইকেটে অবশ্য এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ তালিকায় সবার ওপরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোয়ি ক্যারু ও সেমর নার্স জুটি ১৯৬৯ সালে ক্রাইস্টচার্চেই দুজন যোগ করেছিলেন ২৩১ রান।

শুধু যে নিউজিল্যান্ডই রেকর্ড গড়েছে তা কিন্তু নয়, বাংলাদেশেরও হয়েছে তবে সেটা গর্বের নয় হতাশার। অভিষেকে ০ রানে আউট হওয়া ২৫তম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হলেন মোহাম্মদ নাঈম। ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেকে শূন্য রানে আউট হয়েছেন নাঈম। এ তিনজনই খেলেছেন গত দুই বছরে ২০২০ সালে সাইফ হাসান, গত বছরের শেষে মাহমুদুল হাসান। 

১১ রানে ৪ উইকেটের পর প্রথম ইনিংসে ২৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এর আগে কখনোই এত কম রানে ৪ বা ৫ উইকেট হারায়নি তারা। সবচেয়ে কম রানে ৪ ও ৫ উইকেট হারানোর রেকর্ডটি ছিল ২০০৮ সালে ওয়েলিংটনে। সেবার ৪৪ রানে চতুর্থ ও ৪৫ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে সেবার ১১৩ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল তারা। এবার ১২৬ রানেই শেষ বাংলাদেশের ইনিংস। 


প্রজন্মনিউজ২৪/ মিঠুন হাসান

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন