শতবর্ষী পাকুড় গাছে অর্ধশতাধিক মৌচাক

প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০৪:৫০:৫৩ || পরিবর্তিত: ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০৪:৫০:৫৩

শতবর্ষী পাকুড় গাছে অর্ধশতাধিক মৌচাক

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: শতবর্ষী একটি পাকুড় গাছে ছেঁয়ে গেছে মৌচাকে। মধূ আহরণের জন্য প্রতিনিয়ত চাক কেটে ফেললেও কমছে না মৌচাকের সংখ্যা। এক স্থানের চাক কেটে ফেললেও  গাছটিতে অন্যত্র নতুন করে বাসা বাঁধছে মৌমাছিরা। গাছে বাসা বাঁধা মৌমাছিগুলো মধু তৈরীতে মেতে উঠেছে। এই শতবর্ষী বিশাল আকৃতি পাকুড় গাছ মধুর পাশাপাশি যোগান দিচ্ছে অথনৈতিক যোগানও।  

মৌমাছির গুনগুন শব্দে মুখরিত হয়েছে এলাকা। বিশাল আকৃতির গাছের  গোড়ায়, ডালের উপর নিচের অংশসহ প্রায় ৭১ টি মৌচাক রয়েছে। ঝুলানো চাক গুলো দূর থেকে দেখতে মনে হয় পাখির বাসার মত। মৌমাছির আনাগোনা ও দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য দেখতে  অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন এখানে।  

মৌমাছির শতবর্ষী পাকুর গাছটি  গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের পূরণদহ গ্রামের মেঘারচরে মাঝি পাড়ায়। গাছটি কয়েক বছর ধরে এভাবেই মোমাছি চাক বাঁধছেন। তবে অন্যবারের তুলনায় এবারে অনেক বেশী। গাছটি মন্দির সংলগ্ন হওয়ায় অনেকেই ’দেব-দেবীর আতর’ গাছ বলে থাকেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই গ্রামে সরকারি একটি খাস জায়গার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা গাছের নিচেই রয়েছে সনাতন ধর্মাবম্বীদের ছোট্ট একটি মন্দির ঘেঁষে ও নলেয়া নদীর পাশে  পাকুড় গাছের গোড়া থেকে ডাল পর্যন্ত সব অংশেই মৌমাচির চাক ঝুঁলছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা শির্শা রাণী (৫৫)  জানান, বিয়ের পর আমার শ্বাশুড়ীর মুখে প্রাচীন এই গাছটির গল্প শুনেছি। তিনিও জানতেন না এই গাছটির বয়স কত। বিয়ের পর তিনিও আমার মত গাছটি দেখেছেন। গাছটিতে প্রতি বছরই মৌচাক বাসা বাঁধে কিন্তু একসঙ্গে একগুলো মৌচাক আগে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে প্রতিদিনি পাশের গ্রামসহ দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসছেন।

ওই গ্রামের অরেক বাসিন্দা শচিন চন্দ্র (৬০) জানান, বর্তমানে সরিষা চাষের মৌসুম চলছে। মৌমাছি সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে থাকে।প্রায় দু মাস আগে থেকে গাছটি মৌমাছি বাসা বাঁধতে শুরু করে। গাছটিতে সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ৮৫টি মৌচাক ছিল। দেড় মাস ধরে ওইসব মৌচাক থেকে মধূ আরোহণ করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, স্থানীয় আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে চলতি সরিষা মৌসুমে মধু বিক্রির জন্য ২০ হাজার টাকায় চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। ওই টাকা মন্দিরের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

গাইবান্ধা বিসিক শিল্প নগরীর সহকারী মহাব্যাবস্থাপক রবিন চন্দ্র রায় জানান, মৌমাছিরা সবসময় দলবদ্ধ ভাবে উচু স্থানে বসবাস করে থাকে। সে কারণে মৌমাছিগুলো প্রাচীন এ পাকুড় গাছটিতে বাসা বেঁধেছে। এছাড়াএলাকায় প্রচুর সরিষার আবাদ হওযায় মৌমাছিরা সহজেই মধু সংগ্রহ করতে পারছে।

প্রজন্মনিউজ২৪/আল-নোমান

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ