রাশিয়ার চেয়ে চীনের সাথে বঙ্গবন্ধুর ভালো সম্পর্ক ছিলো: অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন 

প্রকাশিত: ০৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০৬:১০:৪২

রাশিয়ার চেয়ে চীনের সাথে বঙ্গবন্ধুর ভালো সম্পর্ক ছিলো: অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন 

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) 'বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে রাবি প্রশাসন আয়োজিত সাংস্কৃতিক উৎসবের অংশ হিসাবেই এই আলোচনা সভা। 

শনিবার (৪ডিসেম্বর) সকাল এগারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। 

রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে আলোচক হিসাবে ছিলেন অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন।বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন উপ-উপাচার্যদ্বয় অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোঃ জাকারিয়া ও অধ্যাপক ড. সুলতানুল ইসলাম। 
এছাড়াও, অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান, সিন্ডিকেট সদস্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, যে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলায় বঙ্গবন্ধু অনেকটা একা হয়ে গিয়েছিলেন, সেই ধর্মনিরপেক্ষতার কথা এখন আর খুব একটা শোনা যায়না। মূলত, তৎকালে বারবার দাঙ্গা সংঘটিত হওয়ায়, বঙ্গবন্ধু সেটা বন্ধ করার উদ্দেশ্য নিয়েই ধর্মনিরপেক্ষতাকে দলের অন্যতম মেনিফেস্টো হিসাবে নিয়েছিলেন। বর্তমানে একমাত্র ঘাতক- দালাল নির্মূল কমিটি ছাড়া অন্যদের মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার কথাটা শোনা যায়না। 

এছাড়া, তিনি বর্তমান কালের শিক্ষকদের ও ছাত্রলীগের সমালোচনা করে বলেন, তারা পুরোপুরি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পক্ষে কাজ করছেনা। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশীরভাগ শিক্ষক ভিসি, প্রক্টর, প্রভোস্ট হওয়ার জন্য রাজনীতি করেন, তারা প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করছেন না। নিজের একটা অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অধ্যাপক মামুন বলেন, বঙ্গবন্ধু বিষয়ক একটা কোর্স সব বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করার সুপারিশ করেছিলেন একসময়, কিন্তু কোনো ভিসিই কর্ণপাত করেননি।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু কর্তৃক গৃহীত দু'টি  নীতি যথা সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতায়, তাকে হত্যার অন্যতম উপাদান হিসাবে কাজ করেছিলো।
 
রাশিয়ার চেয়ে চীনের সাথে বঙ্গবন্ধুর ভালো সম্পর্ক ছিলো। তিনি বেশ কয়েকবার চূন সফর করেছিলেন। তারপরও চীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করায়,তিনি বলেছিলেন, এরকম করাটা চীনের উচিত হয়নি। বঙ্গবন্ধু বলতেন তিনি কমিউনিস্ট না, কিন্তু কমিউনিস্টদের সাথে তার চলাফেরা ছিলো। এমনকি তিনি কিছু পদক্ষেপ ও নিয়েছিলেন কমিউনিস্টদের মত, যেমনঃ কৃষক-শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ে সবসময় সোচ্চার থাকা। মূলত বঙ্গবন্ধু সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্যই এরকম করেছিলেন।

ড. কুদরত-ই- খোদা শিক্ষা কমিশন বাদে সকল শিক্ষা কমিশনের সমালোচনা করে অধ্যাপক মামুন বলেন, কুদরত-ই-খোদা শিক্ষা কমিশন বাদে সকল শিক্ষা কমিশন ধর্মকে একটা কোর্স হিসাবে রেখেছেন। এখন সবাই নিজেকে প্রগতিশীল দাবি করে কিন্তু কাজে প্রমাণ পাওয়া যায়না। 

তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, সরকার বর্তমানে মডেল মসজিদ তৈরী করছে কিন্তু মডেল সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান তৈরী করছে না কেনো? এছাড়া তিনি আরো যোগ করেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকা উচিত নয়। বাংলাদেশের একমাত্র প্রগতিশীল মানুষ হলো সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

তারপরও বর্তমানে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে থাকায় কিছুটা প্রগতিশীলতার চর্চা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

প্রজন্মনিউজ২৪/আল-নোমান

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ