ওমিক্রন হতে পারে সর্বোচ্চ সংক্রামক, আতঙ্ক নয়: ডব্লিউএইচও

প্রকাশিত: ০৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ১১:৩৭:৪৯

ওমিক্রন হতে পারে সর্বোচ্চ সংক্রামক, আতঙ্ক নয়: ডব্লিউএইচও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নব্য করোনা ভাইরাসের ধরন ওমিক্রন নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মুখ্য বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথান। তিনি এও বলেছেন, ওমিক্রনই হতে পারে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী ধরন। কারণ, এটি সবচেয়ে সংক্রামক। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌম্য স্বামীনাথান বলেন, ওমিক্রন ধরনে করোনার টিকা কাজ করবে কি না, সেটি নিয়ে কথা বলার মতো সময় এখনো আসেনি।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচওর প্রধান বিজ্ঞানী বলেন, ওমিক্রন করোনার সবচেয়ে প্রভাবশালী ধরন বা সবচেয়ে সংক্রামক হতে হলে ডেলটা ধরনকে পেছনে ফলতে হবে। বর্তমানে সারা বিশ্বের ৯৯ শতাংশ নতুন রোগী এই ডেলটা ধরনে আক্রান্ত।

তিনি আরও বলেন, ‘করোনার নতুন ধরন নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের সব সময় প্রস্তুত এবং সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, গত বছরের চেয়ে আমাদের পরিস্থিতি ভিন্ন।’ সৌম্য স্বামীনাথান বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর দেশটিতে প্রতিদিনই রোগী দ্বিগুণ হচ্ছে। এই অঞ্চলেই প্রথম ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

করোনার নতুন এই ধরনের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বের অনেক দেশেই আফ্রিকার অঞ্চলগুলোর দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের পরিচালক রোচেল ওয়ালেনস্কি জানান, বিশ্বের ৪০টি দেশে ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়েছে। হোয়াইট হাউজের নিয়মিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

ওমিক্রন সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা যায়নি। ইউরোপের অনেক দেশ করোনার ডেলটা ধরনের চেয়ে ভয়াবহ এই ধরনের সঙ্গে লড়াই করছে। ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ার পর নরওয়ের রাজধানী অসলোর একটি ক্রিসমাস পার্টিতে অন্তত ১৩ জনের শরীর নতুন ধরন শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নরওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বলা হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরে এটাই সবচেয়ে বড় গুচ্ছ সংক্রমণ। এদিকে ডব্লিউএইচওর আরেক পরিচালক মাইক রায়ান বলেন, ওমিক্রনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রচলিত করোনার টিকা পরিবর্তন করতে হবে—এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত নেই।

বর্তমানে বাজারে থাকা টিকার মাধ্যমে আরও বেশি লোককে টিকা প্রয়োগের দিকে কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা লোকদের টিকা দেওয়ার দিকে জোর দিতে হবে আমাদের।’

তবে ডব্লিউএইচওর মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, টিকা নির্মাতাদের উচিত তাদের উৎপাদিত টিকাগুলো করোনার নতুন ধরনের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে প্রস্তুত করা।

যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ও জার্মানির বায়োএনটেক যৌথভাবে করোনার টিকা উৎপাদন করছে। নতুন ধরন নিয়ে বায়োএনটেকের সিইও উগুর সাহিন বলেন, চাহিদা অনুযায়ী নতুন ধরনের উপযোগী টিকাও তুলনামূলক দ্রুততম সময়ের মধ্য নিয়ে আসা সম্ভব।

ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় করোনার নতুন ধরনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অর্থাৎ সেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি বিদেশেও ভ্রমণ করেননি এবং আক্রান্ত কারও সংস্পর্শেও আসেননি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অঙ্গরাজ্যে এই ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। আফ্রিকার দেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিবেশী জিম্বাবুয়ে বলেছে, তারা অন্তত ৫০ জনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত করেছে।

প্রজন্মনিউজ২৪/এন হাসান

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ