মেয়র আব্বাসকে আ.লীগের পদ থেকে অব্যাহতি

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর, ২০২১ ১০:১৬:৪০

মেয়র আব্বাসকে আ.লীগের পদ থেকে অব্যাহতি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণ নিয়ে কটূক্তি ও বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ায় কাটাখালি পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় জরুরি সভা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ দারা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছে বঙ্গবন্ধু একটি আদর্শের নাম। তিনি আমাদের আবেগের স্থান। সংবিধানেও এটি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এরপরও আব্বাস আলী যে মন্তব্য করেছেন সেটি চরমভাবে নিন্দনীয়। সভায় উপস্থিত নেতারা সর্বসম্মতভাবে আব্বাসকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য মতামত দিয়েছেন। আমরা এ ব্যাপারে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ পাঠাব। ইতোমধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন— সহ-সভাপতি জাকিরুল ইসলাম সান্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাবলু, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন, উপদেষ্টা সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেসা তালুকদারসহ নেতারা।

এর আগে বুধবার বিকালে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদ থেকে আব্বাস আলীকে বহিষ্কার করা হয়। সেদিন দলীয় কার্যালয়ে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি বৈঠকে বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে কেন দলীয় সদস্য পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না- তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণকে কেন্দ্র করে কটূক্তি এবং সেটি নির্মাণের প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে বক্তব্য দেন নৌকা প্রতীকে দুইবারের নির্বাচিত মেয়র আব্বাস আলী। এরপর তার ফাঁস হওয়া অডিও ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সোমবার রাত থেকে অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ইসলামের দৃষ্টিতে পাপ... সেজন্য রাজশাহী সিটি গেটে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল না বসানোর নির্দেশ দেন এই মেয়র; যা জীবন দিয়ে হলেও প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তিনি। তার এমন বক্তব্যে রাজশাহীসহ সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। যদিও পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করেছেন মেয়র আব্বাস। তবে এ ঘটনায় মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে রাজশাহী মহানগরীর পৃথক তিন থানায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে দল থেকে বহিষ্কার এবং মেয়র পদ থেকে অপসারণের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।

প্রজন্ম/এসকে

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ