ভালো বন্ধু কে কিভাবে জানবেন?

প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর, ২০২১ ০৬:২৮:৩০ || পরিবর্তিত: ১৬ নভেম্বর, ২০২১ ০৬:২৮:৩০

ভালো বন্ধু কে কিভাবে জানবেন?

বন্ধুর হাতে বন্ধুর অনিষ্ট হচ্ছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে বাঁচতে বন্ধু নির্বাচনে সচেতন হওয়া জরুরি। মনে রাখতে হবে- মা, বাবা, ভাইবোনও শ্রেষ্ঠ বন্ধু হতে পারে। অভিভাবকদের উচিত সন্তানের আচার-আচরণ, চলাফেরার গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি রাখা এবং তাদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করা।

দুটি কল্যাণকামী আত্মার আন্তরিকতাপূর্ণ ও শক্তিশালী বন্ধনই বন্ধুত্ব। বন্ধু নেই এমন মানুষ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। জগৎ-সংসারে বন্ধুর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বন্ধুর কাছেই মনের সুপ্ত আবেগ-অনুভূতি নিঃসংকোচে প্রকাশ করা যায়। বিপদে-আপদে বন্ধুই বন্ধুর পাশে দাঁড়ায়। সমাজ-বাস্তবতায় একজন মানুষের জন্য বন্ধুর উপস্থিতি অনিবার্য।

কল্যাণকামিতাই বন্ধুত্বের ধর্ম। এমন বন্ধু নির্বাচন করা যাবে না, যে ইহকাল ও পরকালে আমাদের ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে এবং অসৎ কাজের প্ররোচনা দিবে। বরং বন্ধু-নির্বাচনে সর্বাগ্রে তার ইমান-আমলকেই গুরুত্ব দিতে হবে। প্রবাদ আছে, সঙ্গদোষে লোহা ভাসে। আপনি যতই ভালো মানুষ হোন, অসৎ মানুষের সঙ্গ আপনাকে প্রভাবিত করবেই।

তাই আল্লাহর কাছে বন্ধুত্বের মাপকাঠি ইমান। মুসলমানের বন্ধুত্ব ইমান ও কল্যাণকামিতার ভিত্তিতেই হওয়া জরুরি। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর ইমানদার পুরুষ ও ইমানদার নারী একে অপরের বন্ধু। তারা সৎকাজের আদেশ দেয়, অসৎ কাজে নিষেধ করে, নামাজ কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবনযাপন করে। তাদের ওপরই আল্লাহ দয়া করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী। (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৭১)

অবশ্য, অবিশ্বাসীদের সঙ্গে সামাজিকভাবে সুসম্পর্ক রাখতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে তাদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠতা ইসলাম অনুমোদন করে না। আল্লাহতায়ালা বলেন, মুমিনরা যেন মুমিনদের রেখে কোনো অবিশ্বাসীকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ২৮)

যারা দুনিয়া-আখেরাতের কল্যাণ কামনা করে, তারাই একজন মুমিনের প্রকৃত বন্ধু। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ, তার রাসুল এবং বিশ্বাসীরা, যারা নামাজ কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহর কাছে অবনত হয়। (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৫৫)

বন্ধুত্ব রক্ষা করতে গিয়ে ইমানবিরোধী কাজ করা এবং আল্লাহর অবাধ্য হওয়া ইসলাম অনুমোদন করে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, সীমালঙ্ঘনকারী সেদিন নিজের দুহাত দংশন করতে করতে বলবে, হায়, আমি যদি রাসুলের সঙ্গে সৎপথ গ্রহণ করতাম! হায়, আমার দুর্ভাগ্য, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছিল। শয়তান মানুষকে বিপদকালে ধোঁকা দেয়। (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ২৭-২৯)

আয়াতটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে। সেই ঘটনা আয়াতের অর্থ আরও স্পষ্ট করবে। উকবা ইবনে আবি মুইত মক্কার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি ছিল। সে একবার অনেকের সঙ্গে রাসুল (সা.)-কেও ভোজনের নিমন্ত্রণ করল। রাসুল (সা.) তার বাড়িতে খাবার খেতে অসম্মতি প্রকাশ করলেন। তবে শর্ত দিলেন, যদি সে ইমান আনে এবং কালেমা পড়ে তবে খাবার খাবেন। শর্ত মোতাবেক উকবা নবীজির কাছে ইসলাম গ্রহণ করল। নবীজি নিমন্ত্রণে অংশগ্রহণ করলেন। এদিকে উকবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল উবাই ইবনে খালফ। এ ঘটনায় সে খুবই অসন্তুষ্ট হলো। উকবা বলল, মুহাম্মদের মতো সম্মানিত ব্যক্তি আমার নিমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলে তা আমার জন্য লজ্জাজনক ছিল, তাই আমি তাকে রাজি করতে কালেমা পড়েছি। উবাই এতেও সন্তুষ্ট হতে পারেনি। সে বলল, তোমার সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের সম্পর্ক শেষ। তবে তুমি যদি মুহাম্মদের মুখে থুথু মেরে আসতে পারো, তাহলে আমাদের বন্ধুত্ব বহাল থাকবে। হতভাগা উকবা বন্ধুত্ব রক্ষা করতে গিয়ে রাসুল (সা.)-এর মুখে থুথু নিক্ষেপ করল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উকবার পরিণতি বয়ান করে আল্লাহ আয়াতগুলো নাজিল করেন।

তাই বন্ধুত্ব হতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। প্রিয়নবী (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ভালোবাসল, আল্লাহর জন্য শত্রুতা করল, আল্লাহর জন্য দান করল এবং আল্লাহর জন্য দান থেকে বিরত থাকল, সে নিশ্চয়ই নিজের ইমান পূর্ণ করল। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৬৮১)

ভালো বন্ধু ও খারাপ বন্ধু নির্ণয়ের কষ্টিপাথর আমাদের হাতেই রয়েছে। যার সঙ্গে চলার কারণে তার ভালো গুণ আমাদের ভেতর আসতে থাকে, সেই আমাদের ভালো বন্ধু। আর যার সঙ্গে চলার কারণে তার খারাপ গুণ আমাদের প্রভাবিত করতে থাকে এবং আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত করে, সে নিশ্চয়ই খারাপ বন্ধু। তাই যারা চরিত্রবান, দয়াবান, দেখা হলেই যারা আমাদের মহান আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যারা সব সময় আমাদের সংশোধনের চেষ্টা করেন, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব হোক। সুস্থ, আন্তরিক ও কল্যাণকামী বন্ধুর সংসর্গে আলোকিত হয়ে উঠুক আমাদের জীবন।

প্রজন্মনিউজ২৪/টিএফ 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন