নওমুসলিমের কথা,পরিবারিক দূরত্ব থেকে ইসলামের পথে

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২১ ১২:৩৩:১৯

নওমুসলিমের কথা,পরিবারিক দূরত্ব থেকে ইসলামের পথে

প্রজন্মনিউজ ডেস্ক:-আমি এখন মুসলিম। আপনাদের বলছি কেন ও কিভাবে আমি মুসলিম হলাম। ২৩ বছর বয়সে বিদেশে শিশুদের বই বিক্রি করতে একটি আমদানি ও রপ্তানিকারক কম্পানি খোলার চেষ্টা করছিলাম। 

পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্য দেশের তুলনায় সৌদি আরবকে প্রাধান্য দিচ্ছিলাম। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত সৌদি আরবের রাজকীয় দূতাবাসের কমার্শিয়াল অফিসে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, আমার স্পন্সরের সঙ্গে যাবতীয় চুক্তি আরবিতে হওয়া বাধ্যতামূলক। ফলে আমি আরবি শেখার সিদ্ধান্ত নিলাম। যেন আমি স্বাক্ষরিত চুক্তি সম্পর্কে জানতে পারি। আমি স্থানীয় একটি ‘ল্যাংগুয়েজ স্কুলে’ গেলাম এবং সাউদ নামের একজনকে ব্যক্তিগত শিক্ষক হিসেবে গ্রহণ করলাম। তিনি ছিলেন একজন চমৎকার মানুষ। তাঁর মতো ধার্মিক মানুষ খুব কমই দেখা যায়। আমি যেসব বই পড়েছিলাম, অডিও শুনেছিলাম এবং ভিডিও দেখেছিলাম, তার বেশির ভাগই ছিল ইসলামনির্ভর। তাই নিজের অবচেতনেই আমি যেন ইসলামই শিখছিলাম। প্রকৃতপক্ষে আমি কোনো ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে বেড়ে উঠিনি। খ্রিস্টধর্মের মৌলিক বিষয়গুলো আমার জানা থাকলেও কখনো চার্চে যাইনি।

তখন আমি জীবনের কঠিনতম দিনগুলো পার করছিলাম। আমি ছিলাম পূর্ব প্রান্তে আর আমার পরিবার ছিল পশ্চিম প্রান্তে। বন্ধুরাও আমার সঙ্গে সদাচরণ করছিল না। আমি প্রচণ্ড অর্থকষ্টে ছিলাম, প্রতিদিন কান্না করতাম। নিজেকে এর চেয়ে বেশি নিঃসঙ্গ কখনো মনে হয়নি। ব্যক্তিগত জীবনের কষ্টগুলো আমার চাকরি ও আরবি শিক্ষাকে প্রভাবিত করছিল। সাউদ বিষয়টি সম্পর্কে আমাকে সতর্ক করলেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে আমার কথা শুনতেন, আমাকে সর্বোত্তম উপদেশ দিতেন এবং সঠিক পরামর্শ দিতেন। তিনি আমাকে বলেন, আমি যদি মহান স্রষ্টার কাছে পরিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করি, তবে তিনি আমার সব ব্যথা ও একাকিত্ব দূর করবেন। এটা ছিল এক বৃহস্পতিবারের কথা। সেদিন রাতে আমি স্রষ্টার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলাম। পরের সকালে যখন ঘুম ভাঙল, তখন মনে হলো আমার সব কষ্ট দূর হয়েছে। আমার বলা উচিত, এটাই হলো স্রষ্টার আশ্রয় লাভ করা। এর পরের সাপ্তাহিক ছুটি আমি সাউদের সঙ্গে ইসলাম বিষয়ে আলোচনা করে কাটিয়ে দিলাম এবং ধারণাতীত জ্ঞান লাভ করলাম। রবিবার মুসলিম নারীদের এক বৈঠকে ‘শাহাদাত পাঠ করি’। পরবর্তী শুক্রবার ২০ জানুয়ারি ১৯৯৫ জুমার নামাজের পর ভার্জিনিয়ার ‘মসজিদ দারুল হিজরত’-এ ইসলাম গ্রহণের প্রাকাশ্য ঘোষণা দিই। কিছুদিন পরেই রমজান শুরু হয়। রমজানের শেষ দশকে ওমরাহ পালন করে আসি।

মুসলিম হওয়ার পর আমার অভিজ্ঞতা হলো কেউ আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চললে আল্লাহ তাকে সব কিছু দান করেন। তার যেটা প্রয়োজন এবং সে যেটা চায়—সব কিছু। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের চেয়ে উত্তম কিছু মানুষ নিজেকে দিতে পারে না।
সূত্র:কালেরকণ্ঠ
প্রজন্মনিউজ২৪/কে.জামান
 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ