কেন্দুয়ায় ইউপি সরকারি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিত্যক্ত, দেয়া হয়না সেবা

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৩:৪৩:১৫ || পরিবর্তিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৩:৪৩:১৫

কেন্দুয়ায় ইউপি সরকারি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিত্যক্ত, দেয়া হয়না সেবা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি:  সারা দেশের ন্যায় তৃনমূল পর্যায়ে সরকারি ভাবে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার ৩নং দলপা ইউপি’র উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির (বেখৈরহাটী বাজারে অবস্থিত) দরজা খুললেও সপ্তাহে মাত্র দুই ঘন্টার জন্য আসেন একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার। মাসের কোন সময়ে দেখা মেলে দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শাহেদ হাসান শাওনের, ফলে ইউপি’র কয়েক হাজার মানুষ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত প্রায়। তাই জনস্বার্থ বিবেচনা করে কেন্দুয়া সদর হতে প্রায় ২২ কিমি দূরের এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি গত সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখতে গেলে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। এ সময় এলাকাবাসী অসন্তোষ প্রকাশ করে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। 

বেখৈরহাটী বাজারে আসা অত্র এলাকার রুবেল মিয়া, রমজান মিয়া, ঝুটন, অখিল দেবনাথ এবং বেখৈরহাটী বাজারের ইজারাদার শেখ মোহাম্মদ হেলিম বৈরাগী সাংবাদিকদের দেখে কথা বলতে আসেন এবং তারা বলেন, দেখুন হাসপাতালের কি বেহাল দশা। একটি সরকারি হাসপাতালের চিত্র কি এমন থাকার কথা? ভবনটি জীর্ণ, চতুরদিকে ময়লা আবর্জনা, মানুষের মল-মূত্র, ভাঙ্গা গেইট, প্রবেশ পথটি কাদার জন্য যাওয়া দুস্কর।

তারা আরো বলেন, আমরা এমনই দূর্ভাগা যে কারো অসুখ-বিসুখ হলে কেন্দুয়া, নেত্রকোনা সদর, পাশ্ববর্তী উপজেলা গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ নিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়। এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে কোন স্বাস্থ্যসেবা তো নেই,বরং সন্ধার পর ভূতুরে অবস্থা বিরাজ করে। সপ্তাহে একদিন রোববার ১০টা হতে বেলা ১টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার দাবী করা হলেও ধনেশচন্দ্র ধর নামে একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বেলা ১১টার পর এসে তালা খোলে বসেন আবার একদেড় ঘন্টা পরই বন্ধ করে চলে যান। চাইলেও কোন ঔষধ পাওয়া যায়না।

এ ব্যাপারে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শাহেদ হাসান শাওন এর সাথে মোবাইলে কথা হলে হাসপাতালের সার্বিক বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, এই হাসপাতালে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আমিসহ ১০ জন থাকার কথা কিন্তু এখানে আমিসহ মাত্র দুইজন আছেন তাও আবার ২ জন অন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে এসে সপ্তাহে একদিন কোন রকম সেবা দেন যা যৎসামান্য।তবে এ সেবা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

মাত্র দুই জন লোক দিয়ে এতবড় একটি ইউনিয়নের সেবা দেওয়াও অনেক কঠিন। হাসপাতালটির পরিবেশ খুবই খারাপ স্বীকার করে তিনি বলেন, দলপা ইউনিয়নের বেখৈরহাটী উপস্থাস্থ্য কেন্দ্রটির ভবন সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা এবং জনবল বৃদ্ধির জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি।

প্রজন্মনিউজ২৪/এন হাসান
 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ