মনোহরদীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে কিছু দিন যেতে ফাটল

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৫:৪৮:২৬

মনোহরদীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে কিছু দিন যেতে ফাটল

নরসিংদী সংবাদদাতা: নরসিংদীর মনোহরদীতে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের ডোমনমারা গ্রামে ১৪টি পরিবারের জন্য নির্মিত ঘরগুলোর কয়েকটিতে মেঝে, দেয়াল ও পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। 
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের (আশ্রয়ণ প্রকল্প-২)ক তালিকার গৃহহীন ও ভূমিহীন অসহায় পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে গত অর্থবছরে খিদিরপুর ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামে ১৪টি পরিবারকে সেমিপাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়। 

প্রতিটি ঘর তৈরিতে বরাদ্দ ছিল এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে নির্মিত এসব ঘর গত ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়। সেমিপাকা দুই কক্ষ বিশিষ্ট এসব ঘরে একটি রান্নাঘর ও টয়লেট রয়েছে। কিন্তু নয় মাস না যেতেই ঘরগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে। দুটি ঘরের জানালা ভেঙে গেছে। ঘর তৈরিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা।
প্রকল্পের দুপাশে পানি জমে থাকে। পানি নিস্কাশনের প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় আশ্রয়ন প্রকল্পের ভেতরে আটকেপড়া বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সেই সঙ্গে বেড়ছে মশা, মাছি, সাপ, বিচ্ছুর উপদ্রব। ফলে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।
 
উপহারের ঘরগুলোর হস্তান্তরের নয়মাসে ১৪টি ঘরের মধ্যে ১১টিতে পরিবার উঠেছেন। এদের মধ্যে তিনটি ঘরের বাসিন্দারা নিয়মিত থাকেন না। মাঝে মাঝে এসে কিছুক্ষণ অবস্থান করে আবার চলে যান। তিনটি ঘর একেবারেই তালাবদ্ধ দেখা গেছে। 
এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাফিয়া আক্তার শিমু। কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাহমুদা আক্তার। খিদিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জামিল নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ করে কাজ বাস্তবায়ন করেছেন।

উপকারভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘর দেওয়ায় আমরা খুশি। কিন্তু ঘরে নিম্নমানের ইট, বালু, সিমেন্ট ব্যবহার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কয়েকটি ঘরের মেঝে ও পিলার ফেটে গেছে। এসব ঘর বেশি দিন টিকবে না। এছাড়া অপেক্ষাকৃত নিচু জায়গায় ঘর করা হয়েছে বলেও তারা জানান। বৃষ্টি এলে পানি জমে দূর্গন্ধ ছড়ায়। ১৪টি ঘরের মধ্যে টিউবওয়েল রয়েছে মাত্র দুটি। এ ৫টি ঘরে টয়লেট নেই। যে টয়লেটগুলো রয়েছে সেগুলো মাত্র ২-৩ফুট গর্ত করা হয়েছে। নিচে চাকা না দিয়ে শুধু মাটির উপরে স্লাব বসানো হয়েছে। টয়লেটের দূর্গন্ধে খাওয়া-দাওয়া ও থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সুপেয় পানি, যাতায়াতের সু-ব্যবস্থা, ঘরে ফাটল দেখা দেওয়ায় চরম দূর্ভোগে রয়েছে বাসিন্দারা। সমস্যা নিরসনে কাউকে জানিয়েছেন কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে বাসিন্দারা বলেন, প্রশাসনের লোকজন আসার আগেই চেয়ারম্যান লোকজন পাঠিয়ে সমস্যার কথা বলতে নিষেধ করেন। তাছাড়া চেয়ারম্যানকে সমস্যার কথা জানালে তিনি বলেন, সরকার ঘর করে দিয়েছে সমস্যা আপনারা সমাধান করে নেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে তাঁর কাছে মাটি ভরাটের কথা বললেও কোন কাজ হয়নি।

এলাকার লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদী খননের মাটি বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে দেদারসে। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণের আগে এখানে মাটি ভরাট করে নিলে এতো সমস্যা দেখা দিত না। এ ছাড়া বাড়িগুলোতে নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারও অভিযোগ তুলেন এলাকাবাসী।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মিনা বেগম, কামরুল ইসলাম, সালমা সাংবাদিকদের বলেন, ঘরের মেঝেতে ফাটল ধরেছে। এখানের প্রায় সবগুলো ঘরের একই অবস্থা। কোনওটির পিলার ফেটে গেছে, কোনওটির মেঝে ফেটেছে আবার কোনওটির দেয়ালে ফাটল ধরেছে। আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার না করলে দুর্ঘটনা ঘটবে। তিনি বলেন, কম সিমেন্ট দিয়ে ঘর তৈরি করা হয়েছে। এজন্য সব ঘরে ফাটল ধরেছে। ছয় মাসও গেলো না। ঘরগুলোর অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে।

খিদিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জামিল বলেন, নতুন মাটি ভরাট করার কারণে কয়েকটি ঘরের পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। তাছাড়া টয়লেট সমস্যার বিষয়টি আমার জানা নেই।
জানতে চাইলে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম কাসেম বলেন, ঘরগুলো পরিদর্শন করে শিগগিরই সমস্যার সমাধান করা হবে।
প্রজন্মনিউজ২৪/আল-নোমান

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ