চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে রাস্তার বেহাল দশা, ভোগান্তিতে পথচারীরা

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৪:৪৬:৩০

 চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে রাস্তার বেহাল দশা, ভোগান্তিতে পথচারীরা

 চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে গত শনিবার প্রবল বর্ষণে মিলিক-বাগান বাড়ি আঞ্চলিক রাস্তা ভেঙ্গে বেহাল দশা হয়ে পড়েছে। সেই সাথে কানসাট মিলিক-বাগান বাড়ি ঈদগাহের প্রায় ৩০/৩৫ ফিট প্রস্থ ও ৬০/৬৫ ফিট দৈর্ঘ্যের মাটি ভেঙ্গে নদীর গর্ভে চলে গেছে। এর কারণে ১০/১৫ ফিট গর্তে পরিণত হয়েছে। যার ফলে ভাঙ্গা রাস্তার উপর দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা রাস্তায় চলাচল করছেন পথচারীরা। ভারী বর্ষণের কারণে রাস্তা ও ঈদগাহের মাটি কেটে যাওয়ায় ঈদগাহ সংলগ্ন তিনটি বাড়ি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোন সময় ওই বাড়ি তিনটি ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেমজিনে দেখা গেছে, গত শনিবারের প্রবল বৃষ্টির ফলে পাঁকা রাস্তা কেটে গেছে। সেই সাথে রাস্তার পাশের তিনটি বাড়ি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যে কোন মূহুর্তে বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর থেকে ভারী বর্ষণের কারণে ঈদগাহের মাটি ফাটল ধরতে থাকে কিন্তু ঈদগাহ কমিটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। কিন্তু ঈদগাহ কমিটি সরকারের ড্রেন বন্ধ করে দিয়েছিলো এক বছর আগে। তখন ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দেয়া হলে ঈদগাহ কমিটির লোকজন চেয়ারম্যানের ডাকে সারা দেয়নি।

স্থানীয়রা আরো জানায়, গত বছর ইউপি চেয়ারম্যান ঈদগাহ কমিটিকে ড্রেন মেরামতের জন্য সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ঈদগাহ কমিটি উক্ত প্রস্তাব গ্রহণ না করে ড্রেন বন্ধ করে দেয়ায় বৃষ্টিসহ গ্রামের সব বাড়ির পানি নিষ্কাষন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এলাকাবাসী এক প্রকার পানি বন্ধ অবস্থায় ছিলেন। পরবর্তীতে রাতের আধারে কে বা কারা কিংবা পানির গতির কারণে বন্ধ থাকা প্রটেকশন ওয়ার ভেঙ্গে যাওয়ার পর গ্রামের বদ্ধ পানি নদীতে চলে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তার বেহাল দশা হওয়ায় এবং পথচারিদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য লাল পতাকা দিয়ে সর্তক সংকেত টাঙিয়ে দেন। সেই সাথে বিভিন্ন যানবহন চালকসহ সাধারণ পথচারিদের সর্তক সংকেত দিতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথোপকথন করছেন।

এদিকে, কানসাট মিলিক-বাগান বাড়ি ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি ও সদস্য মজবুল আক্তার ভদু জানান, ড্রেনেজ সংস্কারের জন্য গত এক বছর আগে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করা হলেও তিনি সংস্কারের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। ফলে আমাদের ঈদগাহের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। তবে, চেয়ারম্যান সাহেব বাজেট পেলে সংস্কার করে দেয়ার আশ্বাস দেন।

তারা আরো বলেন, কানসাট বাগান বাড়ি এলাকাটি অনেক বড় এলাকা নিয়ে গঠিত। শুধু বৃষ্টির পানি নয়, এই ড্রেন দিয়ে সমস্ত বাড়ির পানি যায়। প্রথম যখন দেখলাম আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাটি কেটে নদীর গর্ভে চলে যাচ্ছে তখন এক প্রকার বাধ্য হয়ে ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কেননা, এই ঈদগাহটি বাঁচাতে হলে এটা ছাড়া উপায় ছিলো না। কিন্তু পরে রাতের আধারে কে বা কারা বন্ধ রাখা মুখ আবারও খুলে দেয়। ফলে বৃষ্টির পানিসহ গ্রামের সমস্ত পানি একই ড্রেন দিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে আজকে রাস্তার এই দশা। যদি আগে থেকে উদ্যোগ নেয়া হতো তাহলে হয়তো রাস্তা ভেঙ্গে পড়তো না।

এ ব্যাপারে কানসাট ইউপি চেয়ারম্যান মো. বেনাউল ইসলাম বলেন, স্থানীয় ও ঈদগাহ কমিটির সদস্যদের সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম যে, ড্রেনের বড় পাইপ দিয়ে সংস্কার করে দিবো। কিন্তু ঈদগাহ কমিটির লোকজন আমার সাথে যোগাযোগ করেনি। যদি তাঁরা না আসে তাহলে আমি কিভাবে উদ্যোগ নিবো? এছাড়া রাস্তাটি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের। রাস্তা মেরামতের জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে রাস্তা মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
 
অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তা প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙ্গে পড়ার বিষয়টি জানা ছিলো না আমার। আমি আগামীকাল সোমবার সকালেই পরিদর্শনে যাবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ইনশাআল্লাহ।  


প্রজন্মনিউজ২৪/এন হাসান
 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ