আগামীতে লিবিয়ার নেতৃত্ব দিতে চান গাদ্দাফি পুত্র

প্রকাশিত: ০৩ অগাস্ট, ২০২১ ০২:০০:৩৫

আগামীতে লিবিয়ার নেতৃত্ব দিতে চান গাদ্দাফি পুত্র

আগামীতে লিবিয়ার নেতৃত্ব দিতে চান দেশটির সাবেক স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির একমাত্র জীবিত ছেলে সাইফ আল ইসলাম। লিবিয়ার স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলামের খোঁজ ছিল না ২০১৪ সাল থেকে। তিনি বেঁচে আছেন কি না, সেটাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সেই সাইফ যে জীবিত, এমনকি তিনি যে রাজনীতিতে ফিরছেন, সেসব নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস। 
তারা গত শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানায়, কয়েক মাস আগে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির দক্ষিণ-পশ্চিমে নাফুশ পার্বত্যাঞ্চলের জিনতান মালভূমি এলাকায় এ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদক ও আলোকচিত্রীর সঙ্গে সাইফের দেখা হয়। তাঁদের সঙ্গে আলাপে সাইফ নিজের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ সময় কথা বলেন।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লিবিয়া এবং নিজের বিষয়ে নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। 

২০১১ সালের নভেম্বরে লিবিয়ার সাবেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী আজমি আল-আতিরি সাইফ গাদ্দাফিকে আটক করে এবং তখন থেকে সাইফ এ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত কারাগারে আটক ছিলেন। পশ্চিমা বিমান হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় ক'জন সঙ্গী নিয়ে পাশের দেশ নিজারে পালিয়ে যাওয়ার সময় সীমান্তে মরুশহর আওবারি থেকে একদল সশস্ত্র বিদ্রোহীর হাতে ধরা পড়েন তিনি।

সাংবাদিক সাইফকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি বন্দী কি না। জবাবে সাইফ বলেন, তিনি এখন মুক্ত এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা ফিরে পেতে কাজ করছেন। এক দশক আগে যারা তাকে গ্রেফতার করেছিল, পরে তারা হতাশ হয়ে পড়ে। একসময় সেই বিপ্লবীরা উপলব্ধি করে, সাইফ তাদের শক্তিশালী মিত্র হতে পারে। সাইফ বলেন, আপনি কল্পনা করতে পারেন? যারা আমাকে বন্দী হিসেবে পাহারা দিয়ে রাখার কথা ছিল, তাঁরা এখন আমার ভালো বন্ধু।

লিবিয়া সরকার অবশ্য দাবি করেছিল সাইফ গাদ্দাফি তাদের নিয়ন্ত্রিত কারাগারে রয়েছেন। ২০১৩ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত সাইফসহ গাদ্দাফির শাসনামলের প্রায় ৩০ জন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে ২০১১ সালের অভ্যুত্থানের সময়কার অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করেছে। ওই অভুত্থানে গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হন। পরে ২০১৫ সালে সাইফসহ আটজনের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

নিউইয়র্ক টাইমসকে সাইফ জানিয়েছেন লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে চান। তিনি বলেন, আমি দশ বছর ধরে লিবিয়ার জনগণ থেকে দূরে রয়েছি। ধীরে ধীরে ফিরে আসতে হবে। জনগণের মন জয় করতে হবে। বাবা গাদ্দাফি হত্যার পর তাকেই লিবিয়ার পরবর্তী উত্তরসূরি ভেবেছিলেন অনেকে। কিন্তু তা হয়ে উঠেনি। গাদ্দাফির সাত সন্তানের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনজন। 

২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আলোচিত ‘আরব বসন্তের’ সময় লিবিয়ার শাসক গাদ্দাফির বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ হয়। পরে নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনে মার্কিন সমর্থনপুষ্ট অ্যাংলো-ফ্রেঞ্চ সেনাদের অভিযানে গাদ্দাফির পতন ঘটে। দেশটির বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন গাদ্দাফি। সে সময় লিবিয়ার একটি মরুভূমি থেকে আটক হন সাইফ।
প্রজন্মনিউজ২৪/সি এইচ খালেকুজ্জামান

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ