গিনেস বুকে নাম লেখালেন সুখী দম্পতি

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২১ ১২:১৯:০৭

গিনেস বুকে নাম লেখালেন সুখী দম্পতি

 

প্রেমের ক্ষেত্রে উচ্চতা কোনো বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, তাই প্রমাণ করলেন এক দম্পতি। সমাজের বিভিন্ন নিয়ম অনুসারে, নারীরা পুরুষের চয়ে একটু লম্বা হলেই শুনতে হয় নানা কটূকথা।

বিয়ে কিংবা প্রেমের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের সঠিক মাপকাঠি হলো নারীর তুলনায় পুরুষরা একটু যেন লম্বা হয়। তাহলেই না-কি সেই দম্পতিকে দেখতে সুন্দর দেখায় এবং তারা পারফেক্ট হিসেবে বিবেচিত হন।

দাম্পত্য সম্পর্ক কি শুধুই লোক দেখানোর জন্য! মোটেও নয়। কারণ যে সম্পর্কে ভালোবাসা থাকে না, সেখানে দু’জন ব্যক্তি যতই সুন্দর হোক না কেন, তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হয় না।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের জেমস ও ক্লো দম্পতি প্রমাণ করেছেন সুখী হতে উচ্চতা কিংবা সঙ্গী দেখতে কেমন, সে বিষয়টি কখনোই প্রভাব ফেলে না। আর তাইতো বিশ্বের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর উচ্চতার পার্থক্যের দিক দিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তারা। বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন গিনেস বুকে নাম লিখিয়ে।

জেমস এবং ক্লো লাস্টেড ২০১৬ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তারা যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। জেমসের বয়স ৩৩ বছর। তিনি একজন অভিনেতা এবং উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে ক্লোর বয়স ২৭ বছর। তিনি একজন শিক্ষিকা।

চলতি বছরের ২২ জুন এই বিবাহিত দম্পতি তাদের মধ্যকার উচ্চতার পার্থক্যর কারণে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। জেমসের উচ্চতা ১০৯.৩ সেন্টিমিটার (৩ ফুট ৭ ইঞ্চি) এবং তার স্ত্রী ক্লোর উচ্চতা ১৬৬.১ সেন্টিমিটার (৫ ফুট ৪ ইঞ্চি)। এই দম্পতির মধ্যকার উচ্চতাগত পার্থক্য হলো ৫৬.৮ সেন্টিমিটার (প্রায় ২ ফুট)।

জেমস বিরল এক বামনত্ব বিষয়ক রোগে ভুগছেন। এ কারণে তার উচ্চতা বাড়েনি বয়স অনুযায়ী। ডায়াস্ট্রোফিক ডিসপ্লাসিয়া, একটি জিনগত ব্যাধি যা হাড় এবং কার্টিলেজ বিকাশকে প্রভাবিত করে।

বামনত্বের কারণে, জেমস কখনোই ভাবেননি তিনি বিবাহিত জীবন পাবেন। জেমস জানান, ‘আমি কখনো চাইনি আমার জীবনসঙ্গী করুণা দেখিয়ে সঙ্গে থাকুক। তবে ক্লো কখনো আমাকে তা বুঝতে দেয়নি। সে আমাকে অনেক ভালোবে। আমিও তাকে ভালোবাসি। আমি ছোট্ট শরীর নিয়েই জীবনে অনেক বড় হতে চাই।’

২০১২ সালে জেমসের সঙ্গে তার স্ত্রী ক্লোরার পরিচয় হয়। ক্লোরাও অন্যান্য মেয়েদের মতোই চেয়েছিলেন তার স্বামী সুঠাম দেহী এবং লম্বা হবেন। তবে জেমসের সঙ্গে পরিচয়ের পরেএই বিষয় নিয়ে আর মাথা ঘামননি ক্লোরা।

তিনি বলেন, ‘সত্যিই আমি তখন ভয় পেতাম, লোকেরা কীভাবে আমাদেরকে দেখবে কিংবা খারাপ প্রতিক্রিয়া জানাবে সে বিষয়ে। তবে সব বাঁধা-বিপত্তি এড়িয়ে আমরা আজ সুখী জীবনযাপন করছি।’

কে কী বলছেন বা বলবেন সেসব বিষয় না ভেবেই তারা ২০১৩ সাল থেকে টানা তিন বছর প্রেম করেন এই দম্পতি। এরপর ২০১৬ সালে বিয়ে সম্পন্ন করেন এই দম্পতি। বর্তমানে তাদের বিবাহিত জীবন ৫ বছরে পদার্পন করেছে। তাদের সংসারে আছে ২ বছরের এক কন্যা। তার নাম অলিভিয়া।

এই দম্পতি তাদের জীবন সম্পর্কে জানান, ‘আমাদের প্রেমের গল্পটি অন্যদের চেয়ে আলাদা এবং দৃষ্টান্তমূলক। অনেক সময় আমরা সঙ্গীর রূপ ও উচ্চতা দেখে সম্পর্ক গড়ে তুলি! এমন সঙ্গীরা কি আদৌ সংসারে সুখী হতে পারেন? তবে উচ্চতায় বিশাল ফারাক থাকা স্বত্ত্বেও আমরা সুখী দাম্পত্য জীবন উপভোগ করছি।’

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন