পর্যটনকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সাইকেলে পথ  চলা

প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারী, ২০১৭ ০৫:৩৬:৩২

অপার সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। ইতিহাস,ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি মিলে বেশ সমৃদ্ধ করে রেখেছে বিশ্বে ‘ব’ দ্বীপ নামে পরিচিত বাংলাদেশ নামের দেশটিকে। পর্যটনে দেশটির রয়েছে অনেক বেশি সম্ভাবনা । তবে নানা সীমাবদ্ধতার  কারনে এখনো বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের আলোচনা গৌন।                                                                                                                   

                                                                            
সরকার ২০১৬  সালকে পর্যটন বর্ষ হিসেবে ঘোষনা করেছিল। এই পর্যটন বর্ষ উপলক্ষে সরকারি পর্যায়ে কিছু কাজও হয়েছে। পাশাপাশি এগিয়ে এসেছে বেসরকারি বিভিন্ন  প্রতিষ্ঠানও । তাদেরই একটি পথিক লিমিটেড। ২০১৬ সালে পথিকের যাত্রা শুরু হয়। এর সঙ্গে যুক্ত আছে সাইক্লিষ্ট মুহাম্মদ আবুল হোসেন যিনি ইতিপুর্বে বিশ্বের ৪২ টি দেশে সাইকেলে পরিভ্রমন করেছেন। দেখেছেন নানান দেশের  নানান ঐতিহ্য , কৃষ্টি, ও কালচার । এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত আছেন ভ্রমন পিপাসু ব্যবসায়ী মো: রফিকুল ইসলাম।


দেশের পর্যটনকে এগিয়ে নিতে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে পথিক।  পর্যটন বর্ষ ২০১৬ কে সফল করার লক্ষ্যে  অধিকতর পর্যটকদের দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে  আকৃষ্ট করার জন্য এবং দেশের মানুষকে নিজের দেশ দেখানোর উদ্যেশে  ‘দেখুন বাংলাদেশ , জানুন বাংলাদেশ’ শ্লোগানে  গত শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে পথিক লিমিটেড এর উদ্যোগে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়কে  সাইকেল অভিযাত্রা শুরু করে পথিক এর তিন তরুন মুহাম্মদ আবুল হোসেন , মুহাম্মদ রুবেল হোসেন , গাজী মুনছুর আজিজ।

                                                                                                                                                              
কক্সবাজার থেকে টেকনাফ, মেরিন ড্রাইভ রাস্তা ধরে তারা সেদিন সাইকেলে অতিক্রম করে ৮৭ কিলোমিটার । সকালে কক্সবাজার কলাতলী হাঙর ভাস্কর্য থেকে তাদের যাত্রা শুরু হয়।বঙ্গোপসাগরের বেলাভুমির পাড়ঘেষা কক্সবাজার থেকে যে রাস্তাটি চলে গিয়েছে সোজা টেকনাফের দিকে সেই রাস্তাটিই মেরিন ড্রাইভ। মেরিন ড্রাইভের একদিকে রযেছে   উত্তাল সাগরের আছড়ে পড়া ঢেউ। 


অন্যদিকে ঝাউবন, পাহাড় , ঝোপ ঝাড় আর অরন্যানীর অনাবিল সৌন্দর্য। সাইক্লিং এর জন্য  মেরিন ড্রাইভ বেছে নেবার কারন হিসেবে অভিযাত্রার দলনেতা মুহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন , মেরিন ড্রাইভ এর নয়নাভিরাম নৈসর্গিক দৃশ্য, মেরিন ড্রাইভের  পরিবেশ-প্রতিবেশ আন্তজার্তিক মানের। মেরিন ড্রাইভ সড়কটি সাইকেল চালানোর যথেস্ট উপযোগী, সহজেই এখানে যে কোন সাইকেলিং ইভেন্ট করা যায়। 


এখানে রয়েছে  একই  সাথে পাহাড় সাগর এবং জনজীবনের মিতালি যা বিশ্বের অন্য কোথাও দেখা যায় না। উপযুক্ত প্রচারনার মাধ্যমে এই মেরিন ড্রাইভ আন্তজার্তিক সাইকেল প্রতিযোগিতার ভেন্যু হয়ে উঠতে পারে এই জন্য সাইকেল অভিযাত্রা। মেরিন ড্রাইভে সাইক্লিং শুরু করতে পারলে  দেশে বিদেশে ব্যাপক সাড়া মিলবে বলে আশা করা যায় এবং এর ফলে অধিক সংখক  বিদেশি পর্যটকদের আগমন ঘটবে।  


কলাতলী থেকে যাত্রা শুরুর পর তিন তরুন ুবড়ছড়া, দরিয়া নগর, হিমছড়ি, ইনানী, মনখালি, শাপলাপুর, শিলখালি, ছেপটখালি  পাটোয়ারটেক, বাহারছড়া, জাহাজপুরা,  মহেশখালী পাড়া, টেকনাফ বাসষ্ট্যান্ড  ১৫ টি স্থানে পথসভা করে বিকেল পাচঁটার  দিকে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চত্তরে গিযে পৌছান। 


এসময় তারা পর্যটক সহ স্থানীয় লোকজনের সাথে বিশ্বের দীর্ঘতম  সমুদ্র সৈকত ও দৃষ্টিনন্দন মেরিনড্রাইভ সড়কের সুরক্ষা, জীববৈচিত্র সংরক্ষন ও পরিবেশ রক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর তারা টেকনাফ থেকে পুনরায় কক্সবাজার শহরে ফিরে আসেন। মুহাম্মদ আবুল হোসেন জানান  সাইকেল অভিযানের সময় বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, হিমছড়ি ঝর্না, ইনানীর পাথুরে সৈকত, টেকনাফের মাথিনের কুপ, নাফ নদী , জালিয়ারদিয়ার অপরুপ সৌন্দর্য ও চলার পথের দর্শনীয় স্থানগুলোর উপর ভিডিও চিত্র ধারন করা হয়েছে। 


পর্যটনের অপার এই সম্ভাবনা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হবে। মুহাম্মদ আবুল হোসেন আরো বলেন,  দেশের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই এই সাইকেল অভিযান। বাংলাদেশকে পজিটিভ ভাবে বিশ্বের বুকে তুলে ধরে বাংলাদেশের পর্যটন, দর্শনীয় ও প্রতœতাত্বিক এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন সমুহ  প্রচারনার মাধ্যমে বিশ্বের মানুষদের কাছে আগ্রহ সৃষ্টি করাতে পারলে তবেই ব্যাপকভাবে পর্যটকের আগমন ঘটবে এদেশে। তাছাড়া  দেশের   মানুষদেরকেও দেশ ভ্রমনে উদ্ধুদ্ব করার পাশাপাশি সচেতন করা গেলে সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে দেশ, এগিযে যাবে বাংলাদেশ।  

প্রজন্মনউিজ২৪/মোমনে
 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন