করোনার মধ্যেও সোনামসজিদ বন্দরে রাজস্ব বেড়েছে ৪৮৮ কোটি টাকা

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২১ ০১:৪৭:২২

করোনার মধ্যেও সোনামসজিদ বন্দরে রাজস্ব বেড়েছে ৪৮৮ কোটি টাকা

করোনার মধ্যেও সোনামসজিদ বন্দরে রাজস্ব বেড়েছে ৪৮৮ কোটি টাকা


চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
বৈশ্বিক মহামারী করোনার মধ্যেও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছে ৭০৭ কোটি ৮০ লাখ ৬ হাজার টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭৩ কোটি ৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৩৪ কোটি ৭৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা বেশি। গত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের তুলনায় ৪৮৮ কোটি ৮৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা রাজস্ব বেশি আয় হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সোনামসজিদ স্থলবন্দরের কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মমিনুল ইসলাম।
কাস্টমসসূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময় রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২১৮ কোটি ৯৩ লাখ ৯ হাজার টাকা। গত বছর থেকে পর্যায়ক্রমে পণ্য আমদানি বাড়ছে এবং রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের দাবি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সোনামসজিদ বন্দরে প্রতিমাসেই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকি ও কঠোর নজরদারির ফলে বন্দরে রাজস্ব আহরণ বেড়েছে।

এদিকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব বৃদ্ধিতে কাস্টমস বদ্ধপরিকর। আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। তবে সুযোগ সন্ধানী একশ্রেণির আমদানিকারক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা রাজস্ব ফাঁকি দিতে সব সময় চেষ্টা করে আসছে।

বিশেষ করে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে এ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। গেল অর্থবছরে মিথ্যা ঘোষণায় দেড়শটির অধিক আমদানি পণ্য আটক, অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় ও জরিমানা করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত ১২ মাসে বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানি ছাড়করণে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, স্থানীয় সাংসদ ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদসহ বন্দরসংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় বর্তমানে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে রাজস্ব আয়।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশেষ লকডাউন কারণে সম্প্রতি সোনামসজিদ পর্যটন মোটেলে কাস্টমস কর্মকর্তা, পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের কর্মকর্তা, আমদানি-রপ্তানিকারকদের গ্রুপ ও সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ভারতীয় গাড়িচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য জিরো পয়েন্টে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসকের উপস্থিতি, ভারতীয় ট্রাক জীবাণুমুক্ত করার লক্ষ্যে স্প্রে করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর বন্দরের আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান রাজু বলেন, অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে আমদানি-রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কালক্ষেপণ করা হচ্ছে না পণ্য দ্রুত ছাড়করণে। সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি ব্যবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় এ বন্দরের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার বেল্লাল হোসেন জানান, পানামা ইয়ার্ডের ভেতরে লোড-আনলোডে নিয়োজিত ৩০০ শ্রমিক মাস্ক পরিধান করে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করছে। পণ্যবোঝাই ভারতীয় ট্রাকের প্রবেশ কমিয়ে আনতে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়, যা আগে ছিল সূর্যাস্থ পর্যন্ত।

সপ্তাহে একদিন কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল টিম নিয়োজিত রয়েছে। এ ছাড়া বন্দরে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে ৯ দফা নির্দেশনা মেনে চলার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্য দ্রæত লোড-আনলোড করার জন্য ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি রোধে অতিরিক্ত শ্রমিকও কাজ করছে বলে জানান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার বেল্লাল হোসেন।

এ বিষয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মমিনুল ইসলাম জানান, রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে আমদানি-রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানির পণ্য দ্রæত ছাড়করণের লক্ষ্যে দ্বিগুণ জনবল পদায়ন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে রাজস্ব ফাঁকি রোধ করতে শুল্ক গোয়েন্দা বিশেষ টিমকে আমদানিকৃত শতভাগ পণ্য চালান নজরদারির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি শূন্যের কোটায় নেমেছে।

তিনি আরও জানান, এ বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে গতিশীল ও সহজতর করতে অনলাইনে আইজি এম দাখিলসহ বাধ্যতামূলক ই-পেমেন্ট সিস্টেম জুলাই মাস থেকে চালু করা হয়েছে। ফলে আমদানিকারকদের ইজি ডুইং বিজনেসের গতিশীলতা বাড়ছে।

বিভাগীয় কাস্টমস কমিশনার রাজশাহীর নিদের্শক্রমে অধিকাংশ আমদানিকারক/স্টেকহোল্ডার আঞ্চলিক হওয়ায় নিয়মিত তাদের সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান সম্পর্কে অবগত করা সম্ভব হচ্ছে। রাজস্ব ফাঁকি রোধে দ্বিগুণ জরিমানাও করা হচ্ছে। কাস্টমস কর্মকর্তারা সঠিক তদারকি ও নজরদারির ফলে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি দুটোই বেড়েছে।

প্রজন্মনিউজ২৪/সিফাতুল্লাহ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ