অলি আহমদকে সামনে রেখে নতুন জোট

প্রকাশিত: ০৭ জুলাই, ২০২১ ০২:২৮:৪৬

অলি আহমদকে সামনে রেখে নতুন জোট

এল ডি পি প্রধান
অলি আহমদকে সামনে রেখে নতুন জোট


আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির নিষ্ক্রিয়, পদবঞ্চিত ও পদত্যাগকারী কিছু নেতা, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও আমলা,২০ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামী, কল্যাণ পার্টি এবং বি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের কয়েকটি দল নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।এছাড়া এর সঙ্গে বেশ কয়েকটি বাম-ডান ও ইসলামি ঘরানার দল যুক্ত হতে পারে। এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে সামনে রেখে নতুন এ জোট গঠনের তোড়জোড় চলছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নতুন জোট গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন দলের নেতারা ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। ঈদুল আজহার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, এক সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপি সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রীর এক ছেলেও এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর আড়াই বছরও নেই। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অপরদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নেতা হিসাবে সামনে এনে নির্বাচন করার বিষয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে সামনে রেখে বিএনপি অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু এবার ড. কামাল হোসেনের বিষয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের সন্দেহ ও অবিশ্বাস রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতার সমকক্ষ বর্ষীয়ান ও অভিজ্ঞ নেতাকে সামনে রাখার মতো রাজনীতিবিদ বিএনপিতে নেই বলে অনেকে মনে করছেন। আর থাকলেও কাকে সামনে আনবেন তা নিয়ে বিএনপির মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে। তাই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ অলি আহমদকে দিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব বলে আমরা মনে করছি। নতুন জোট হবে সরকারবিরোধী জোট। ওই নেতা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে অনেক দলের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। এ ব্যাপারে শিগগিরই ভালো খবর পাওয়া যাবে।

জানতে চাইলে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বলেন, এসব নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছি না। তবে শুধু এতটুকু বলছি যে অনেকে আমাকে বলছেন-‘আপনি ছাড়া এখন দেশের কোনো উপায় নেই। আপনি প্রথম সারির বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একজন সফল মন্ত্রী ছিলেন। আপনার ৫০ বছরের দীর্ঘ রাজনীতির অভিজ্ঞতা ও সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। সবার কাছে আপনার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সুতরাং আপনাকে দায়িত্বটা নিতে হবে।’

বিএনপি ছাড়া এ প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে এমন প্রশ্নের জবাবে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘এখন তো এন্টি আওয়ামী লীগ সেন্টিমেন্ট বিএনপির দিকে যাচ্ছে। তখন আরেকটা ফোকাস হবে হয়তো। এন্টি আওয়ামী লীগ ভোট তাদের পক্ষেও যেতে পারে। কারণ এ সরকারের বিরুদ্ধে যিনি দাঁড়াবেন তিনিই সমর্থন পাবেন।

এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিএনপির দুই ভাইস-চেয়ারম্যান ও এক যুগ্ম মহাসচিব জানান, অলি আহমদকে ঘিরে নতুন জোট গঠনের প্রক্রিয়ার ব্যাপারে তারা বিভিন্নভাবে শুনেছেন। এ নিয়ে দলের কিছু নেতা ও ২০ দলীয় জোটের কয়েকটি শরিক দলের তৎপরতার দিকে নজর রাখা হচ্ছে। তবে বিএনপিকে ছাড়া কোনো জোট দেশ ও জনগণের কাজে আসবে বলে তারা বিশ্বাস করেন না। এ তিন নেতা মনে করেন, এ প্রক্রিয়ায়ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হাত থাকতে পারে। কারণ আগামী নির্বাচনে বিএনপিকেই শক্ত প্রতিপক্ষ হিসাবে দেখছে আওয়ামী লীগ। এখন বিএনপিকে দুর্বল করতে দলটি নানাভাবে কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। ‘সরকারবিরোধী’ বলে নতুন জোটকে মাঠে নামিয়ে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা চলছে-এমন খবরও দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে রয়েছে। তাদের আহ্বান-দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সব বিরোধী রাজনৈতিক দলকে এক মঞ্চে এসে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামা উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলডিপি ও কল্যাণ পার্টির একাধিক নেতা বলেন, গত বছরের শেষের দিকে বেশ কিছু দল সরকারবিরোধী নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে সক্রিয় হয়।এসব দলের পেছনে ‘তৃতীয় শক্তি’ রয়েছে বলে তখন অনেকে বলেন। এসব কর্মসূচিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতাও ছিলেন।

প্রজন্মনিউজ২৪/আদনান 


 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ