লোভনীয় অফারের ছড়াছড়ি

গ্রাহক প্রতারণার নতুন ফাঁদ ই-কমার্স সেক্টর

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২১ ০৮:৪৯:৫৪ || পরিবর্তিত: ২৫ জুন, ২০২১ ০৮:৪৯:৫৪

গ্রাহক প্রতারণার নতুন ফাঁদ ই-কমার্স সেক্টর

নূর মোহাম্মদ, প্রধান প্রতিবেদক: আইনের দূর্বলতা, তদারকির গাফলতি, সচেতনার অভাব ও লোভনীয় অফারের ছড়াছড়িতে প্রতারণার নতুন ফাঁদে পরিণত হয়েছে দেশের ই-কমার্স সেক্টর। বাজারজাতকরণ নীতিমালা উপেক্ষা করে লোভনীয় অফারে চলছে অধিকাংশ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীক কার্যক্রম।  

তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে তুলনামূলক অল্প সময়ের ব্যবধানে দেশের পণ্যসামগ্রী কেনাকাটার ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। গত কয়েকবছরে শতাধিক অনলাইন ভিত্তিক কেনাকাটার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অর্থের অঙ্কে এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য কেনাবেচার পরিমাণও কম নয়। দেশের মানুষের কাছে নতুন হলেও নানা প্রতিবন্ধকতা দূর করে ই-কমার্সের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রলোভনের আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ সৃষ্টি করছে একাধিক চক্র।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ রকম মাত্রাতিরিক্ত অফারে সম্ভাবনাময় ই-কমার্স খাত দীর্ঘমেয়াদে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরির পাশাপাশি জালিয়াতির আশঙ্কাও থাকছে। ই-কমার্স মানেই অনলাইনে বিক্রেতা তার পণ্য বিক্রয়ের অফার করবে। আর ক্রেতা তার পছন্দ মতো পণ্য কিনবেন। কিন্তু এখন ই-কমার্স এমন পর্যায়ে গেছে যে, নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে মূলধন তুলে তা অধিক মুনাফার আশায় ই-কমার্স ব্যবসায় বিনিয়োগ করছে। এটা কোনো ভাবেই বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া হতে পারেনা।

শুধু ইভ্যালি নয়, রমরমা অফারের তালিকায় অসংখ্য প্রতিষ্ঠান যোগ হয়েছে। শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নাম আলোচনায় আসলেও গত দু’বছরে যেসব প্রতিষ্ঠান বাজারে এসেছে এদের সবাই একই পথে হাটছে। কারো অফার কম, কারো অবিশ্বাস্য ও লোভনীয় অফারে চলছে তাদের ব্যবসায়িক কর্মকান্ড।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন :

বেসিসের সাবেক সভাপতি ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আজকের ডিলের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাসরুর বলেন, ‘কিছু ই-কমার্স সাইট ডাবল, ট্রিপল লাভে ভাউচার বিক্রি করছে। বিপুল ভর্তুকি দিয়ে পণ্য বিক্রি করছে। আইন অনুযায়ী সেটি অপরাধ। কারণ, দেশে এত ভর্তুকি দিয়ে পণ্য বিক্রির সুযোগ নেই। ভাউচারে এমন ভর্তুকি দিলে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। তখন ক্রেতাদের মানসিকতাও বদলাবে। ক্রেতারা মনে করবে, অনলাইন মানে বিশাল ছাড়ে পণ্য কেনার মহোৎসব; কিন্তু প্রকৃত অর্থ তো সেটা নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশে ই-কমার্সে কেনাকাটার অভ্যাস তৈরি করতে দীর্ঘদিন কাজ করতে হচ্ছে। এখন যদি শুধু ছাড়ের জন্যই ক্রেতারা কেনাকাটা করেন, তবে অন্য সময় ক্রেতা পাওয়া দুষ্কর হবে।’

তবে এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে ইভ্যালির সিইও মোহাম্মাদ রাসেল বলেন, ‘ই-কমার্সে বিভিন্ন ধরণের ক্রেতা থাকে। ভাউচার ছাড়ার পর কিছু ক্রেতা কম্পিউটার ও কম্পিউটার পণ্য কিনেছেন। কেউবা মোটরবাইক কিনেছেন। মানে নতুন ক্রেতা শ্রেণি তৈরি হয়েছে।’

ব্যবসায়ি ফয়েজ উদ্দিন জানান, ‘আমি একজন ব্যবসায়ী। শুরুতে ব্যবসায়িক মন্দার কারণে স্বল্প পরিসরে ভাউচার কিনেছিলাম। তা থেকে ভালো লাভ হওয়ায় পর্যায়ক্রমে এখন আমার বিনিয়োগ কয়েক লাখ টাকা। ক্ষেত্র বিশেষে পণ্য সংগ্রহ করি। যা অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি। আবার কোনো ক্ষেত্রে চেক সংগ্রহ করি। চেক থেকে নগদ সংগ্রহে সমস্যা হয়নি। তবে বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার আগ পর্যন্ত আতঙ্কে থাকতে হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত তারিখে পণ্য বা চেক দেয়না। নানাসময় গুজব শুনা যায়। তবে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে অফার দেয় তাতে ঝুঁকি আছে। তা জেনেই বিনিয়োগ করি। তবে এখন চিন্তা কম কারণ, লাভের টাকা ই এখন বিনিয়োগে আছে। তার মতো মৌসুমী ক্রেতার সংখ্যা অনেক বলেও জানান তিনি।’

ঝুঁকি জেনেও কেন আকৃষ্ট ক্রেতারা :

অনলাইন প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য কিনলেই অর্থ ফেরতের অস্বাভাবিক ‘ক্যাশব্যাক’অফার দিয়ে ব্যবসা করছে অনলাইন বিপনণ প্রতিষ্ঠান ই-ভ্যালি। এর আগেও অস্বাভাবিক লোভনীয় অফার দিয়ে আলোচনায় আসে প্রতিষ্ঠানটি। সমালোচনার মুখে কয়েকদিন ধীরগতিতে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও কিছুদিনের ব্যবধানেই আরো আকর্ষণীয় অফার নিয়ে হাজির হয় ইভেলি।

এসময় ১০০ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক অফার দেওয়া হয়। অর্থাৎ ১০০ টাকার পণ্য কিনলে সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি অর্থ ফেরত দেওয়ার লোভনীয় অফারে হাজার হাজার গ্রাহক আকৃষ্ট হয়। ইতোমধ্যে লাভবানও হয়েছে কেউ কেউ। তবে এরমধ্যে বেশিরভাগই লাভের অপেক্ষায় আছে।

মাত্র ৫০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভেলি কার্যক্রম শুরুর বিশ মাসে প্রায় একহাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করেছে। এসময়ে ভোগ্যপণ্য, মোটরসাইকেল, রেফ্রিজারেটর, মোবাইল ফোনসেট, টেলিভিশন ইত্যাদি বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি গাড়ি বিক্রির কার্যক্রমও শুরু করেছে ইভেলি।

যেভাবে আলোচনায় ইভেলি:

আলোচিত এ প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি তদন্ত দল ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভেলির অফিস পরিদর্শন করে। তাদের সামগ্রীক কর্মকাণ্ড ও আর্থিক লেনদেন তদারকি করে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ প্রতিনিধি দলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ই-ভ্যালি লোকসানে পণ্য বিক্রি করছে। ফলে ই-কমার্স ব্যবসায় অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে সৎ ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যার ফলে সম্ভাবনাময় এ খাতের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা কমে যাবে। অগ্রিম পণ্যমূল্য নিয়ে, উচ্চহারে ছাড় দিয়ে ই-ভ্যালি গ্রাহকদের অর্থকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গ্রাহকের কাছে এবং পণ্য উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারীদের কাছে বকেয়া বাড়ছে কোম্পানিটির। ফলে কোম্পানির চলতি দায় ও লোকসানের দুষ্টচক্রে বাধা পড়েছে। ক্রমাগতভাবে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব টিকে না থাকার ঝুঁকিও বাড়ছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে ইভেলির দায় আসলে কতটুকু:

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ই–ভ্যালির গ্রাহক ছিল ৪৪ লাখ ৮৫ হাজার। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির দেনা দাঁড়ায় ৪০৩ কোটি টাকায়। চলতি সম্পদ ছিল মাত্র ৬৫ কোটি টাকা। এই সম্পদে কোনও অবস্থাতেই কোম্পানিটি দায় পরিশোধ করতে পারবে না। এ ছাড়া পণ্যমূল্য বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম ২১৪ কোটি টাকা নিয়েও পণ্য সরবরাহ করেনি ই–ভ্যালি। আবার যেসব কোম্পানির কাছ থেকে ই-ভ্যালি পণ্য কিনেছে, তাদের কাছেও এর বকেয়া পড়েছে ১৯০ কোটি টাকা। চলতি সম্পদ দিয়ে বকেয়া অর্থের মাত্র ১৬ শতাংশ পরিশোধ করা সম্ভব।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনভিত্তিক কোম্পানিটির মোট গ্রাহক ৪৪,৮৫,২৩৪ জন। ক্রয়াদেশ বাতিল, ক্যাশব্যাক, বিক্রিত গিফটকার্ডের সমন্বয়ে এসব গ্রাহকদের ইভ্যালি ভার্চুয়াল আইডিতে মোট ৭৩.৩৯ কোটি টাকা মূল্যমানের ই-ভ্যালু সংরক্ষিত ছিল। বিপরীতে ওই দিন শেষে ইভ্যালির ১০টি ব্যাংক হিসাবে ছিল ২ কোটি ৪ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত ইভ্যালির মোট আয় (রেভিনিউ) ২৮.৫৪ কোটি টাকা। এই সময়ে কোম্পানিটির সেলস ব্যয় ২০৭ কোটি টাকা।

প্রথম বছর কোম্পানিটির নিট লোকসান হয় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। গত ১৪ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির পুঞ্জীভূত লোকসান বেড়ে দাঁড়ায় ৩১৬ কোটি টাকায়। এরপরও আগের দায় পরিশোধ ও লোকসান আড়াল করতে কোম্পানিটি ‘সাইক্লোন’, ‘আর্থকোয়েক’ নামের আকর্ষণীয় অফার দিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রয়াদেশের ৪৫ কর্মদিবসের মধ্যে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে কোনও কোনও ক্ষেত্রে গ্রাহককে তার পরিশোধিত মূল্যের পরিবর্তে পণ্যটির বাজারমূল্য ফেরত দিচ্ছে। তাই বিপুলসংখ্যক গ্রাহক বেশি অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় ই-ভ্যালির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অনলাইন কেনাকাটায় এখন থেকে পণ্য বুঝে পাওয়ার পর ই-কমার্সের টাকা পরিশোধ করবে গ্রাহক। প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক বৈঠক শেষে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ক্যাশ অন ডেলিভারী সিস্টেমকে স্বাগত ইভেলির:

নতুন নিয়মে বাড়তি চাপ পড়বে কিনা জানতে চাইলে ই-ভ্যালির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আরিফ আর হোসাইন বলেন, ‘অবশ্যই পড়বে না। আমরা তো সেলারদের কাছ থেকে ক্রেডিটে নেই না, প্রোডাক্ট নেই। এই আইনকে আমরা সাধুবাদ জানাই। যারা ইকমার্স নিয়ে নতুন মার্কেটে আসছে তারাই হারিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ’

এ সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘আমরা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। আমাদের সব কার্যক্রম চলমান থাকবে। আমরা এখানে ব্যবসা করতে এসেছি। সরকার যেভাবে আমাদের ব্যবসা করতে বলবে, আমরাও সেভাবেই ব্যবসা করব।’

‘আমরা গ্রাহকের প্রতি কমিটেড। আমরা ই-ভ্যালির নিজস্ব নীতিমালা অনুযয়ী তাদের পণ্য বুঝিয়ে দেব। এ নিয়ে গ্রাহকের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা মূলত পণ্যভিত্তিক ব্যবসা করি। সাপ্লাইয়ারদের থেকে পণ্য নিয়ে ক্রেতাকে দিই। সুতরাং এখানে তারল্য সংকট কোনো বিষয় না।

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো ই-কমার্স নীতিমালা নেই, যেটির জন্য ই-ভ্যালি নিজেও দীর্ঘদিন অ্যাডভোকেসি করে আসছে। এর ফলে গ্রাহক, মার্চেন্ট, মার্কেটপ্লেসসহ পুরো ইকো-সিস্টেমই উপকৃত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। যেকোনো রেগুলেটরি থেকে আসা সিদ্ধান্ত শুধু ই-ভ্যালি না বরং সবার জন্যই প্রযোজ্য হবে। আমরা এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই’।

সতর্ক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান:

বাণিজ্য মন্ত্রনালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট ই-কমার্সের সাথে লেনদেন করা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান । সম্প্রতি দশটি ই-কমার্স সাইট থেকে ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রি-পেইড কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা স্থগিত করেছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, ব্যাংক এশিয়া এবং ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড।

স্থগিতাদেশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ই-অরেঞ্জ, ধামাকা শপিং, ইভ্যালি, আলেশা মার্ট, সিরাজগঞ্জ শপিং, আলাদিনের প্রদীপ, বুম বুম, কিউকম, আদিয়ান মার্ট এবং নিডস ডটকম বিডি। অনলাইন শপিং সাইটগুলোর বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ব্যাংকগুলো। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন বিষয়ে গ্রাহকদের সতর্ক করেছে ইউসিবি, সিটি ব্যাংক এবং লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স।

প্রজন্মনিউজ২৪/মামুন/নূর মোহাম্মদ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ