মাগুরায় খাল খননের মাটি খালে, হুমকিতে দোকান ঘর

প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২১ ০৯:৫০:০৬

মাগুরায় খাল খননের মাটি খালে, হুমকিতে দোকান ঘর

আব্দুল্লাহ আল নোমান, মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরার মহম্মদপুরে এলাকাবাসীর দাবির মুখে বাড়ির কূল ঘেঁষে যাওয়া সর্পরাজ খালটি পুনঃখনন করেছে সরকার। কিন্তু খননের মাটি অপসারণ না করায় বিপাকে পড়েছেন অনেক পরিবার। খাল পাড় বাঁধা (রিটেইনিং ওয়াল) দেওয়া হয়নি। ফলে ভাঙনে দিশেহারা দুই পাড়ের বাসিন্দারা। বৃষ্টির পানিতে খননের মাটি পুনরায় খালে যাচ্ছে। হুমকিতে রয়েছে স্থানীয় চৌবাড়িয়া বাজারের কয়েকটি দোকানঘর, কয়েকটি বাড়ি, ফসলি জমিসহ নানা স্থাপনা।

উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর ও চৌবাড়িয়া বাজার হয়ে নবগঙ্গা নদী থেকে শুরু করে বাবুখালী ইউনিয়নের চুড়ারগাতি হয়ে মধুমতী নদীতে মিলিত হয়েছে খালটি। বর্ষাকালে এই খালে তেমন পানি না থাকায় খালটি পুনঃখনন করা হয়েছিল। এই খালের প্রাণ ফেরানো এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। এই অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়। ২০২১ সালের ৮ মার্চ ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন (১ম পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় এই খালের খনন কাজ শুরু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের তলদেশ চাহিদা অনুযায়ী খনন না করে শুধু পাড়ের মাটি কেটে প্রস্থ বাড়ানো হয়েছে। সেই মাটি আবার খালের পাড়েই ফেলার কারণে আসন্ন বর্ষায় মাটি ধসে ফের খালে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে বৃষ্টিতে কিছু অংশের মাটি ধসেও গেছে। ফলে দুই পাড়ের বাসিন্দাসহ দোকান মালিক ও এলাকাবাসী লাভের বদলে উল্টো ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) স্কিনবোর্ড সূত্র মতে, দেশের ৬৪টি জেলায় ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) আওতায় মহম্মদপুর উপজেলার এমডি-১ খাল পুনঃখননের কাজ শেষ হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয় ৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। ৮ মার্চ শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ ৩১ ডিসেস্বর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর মধ্যেই কাজের ৯০ ভাগের বেশি শেষ হয়েছে। খাল খননের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালীর মেসার্স আবুল কালাম আজাদ এবং মো: মিজানুর আলম (জেভি) নামের এক ঠিকাদারের সঙ্গে এটি খননের ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হন।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট স্থানীয় ঠিকাদারদের একজন আরিফুর রহমান বলেন, ‘চুক্তির মধ্যে মাটি অপসারণের কোনো শর্ত ছিল না। পাউবো মাটি রাখার জন্য যেসব জায়গা দেখিয়ে দিয়েছে, সেখানেই ফেলা হয়েছে। এখানে ঠিকাদারের কোনো গাফিলতি নেই। আমরা যথাসম্ভব মানুষের ক্ষতি এড়িয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি।

সরেজমিনে দেখা যায়, খনন করা মাটি পাড়ে রাখা হয়েছে। বেশ কিছু অংশের মাটি ইতোমধ্যে ধসে গেছে। স্থানীয় চৌবাড়িয়া বাজারের কয়েকটি দোকান ঘর ও কয়েকটি বসতবাড়ি ভাঙনের মুখে রয়েছে। টানা বৃষ্টি হলে যে কোন সময় দোকান ও বাড়ি ধসে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালটি খননের ক্ষেত্রে নিয়মের ধার-ধারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। বাপাউবো লোকজন সঠিক সময়ে খনন কাজও তদারকি করেনি। মাটি দূরে না ফেলে পাড়েই রেখে দেওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হতেই কিছু অংশের মাটি ধসে গেছে। এ ছাড়াও খালের দুই পাড়ে প্রায় ৩ হাজার গাছ লাগানোর কথা থাকলেও এখনো লাগানো হয়নি।

স্থানীয় চৌবাড়িয়া গ্রামের আলী আফজাল মোল্লার স্ত্রী রওশোন আরা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। মাটি ফেলার সময় বাধা দিলেও তাঁরা শোনেনি। উঠানে কয়ডা আম, জাম, জামরুল গাছ ছিল, তা–ও মাটির তলে চলে গেছে। এখন টানা বৃষ্টি হচ্ছে। মাটি ধুয়ে খালে চলে যাচ্ছে। এমন হলে বাড়িঘর খালে গিয়ে পরবি।'

বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিকদার মিজানুর রহমান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্টদের নির্লিপ্ততা ও খামখেয়ালির কারণে খননকাজ ত্রুটিপূর্ণ হয়েছে। ভাঙন বড় আকার ধারন করলে অনেক ব্যবসায়ীর দোকান ঘর, বসতবাড়ি বিলিন হবে। 

এ বিষয়ে মাগুরা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারোয়ার জাহান বলেন, খালের মাটি রাখা আমাদের অধিগ্রহনকৃত জায়গায়। এভাবে খালের পাড় ভাঙ্গার কথা নয়; হয়তো মাটির বৈশিষ্ট্যের কারনে কিছুটা ভাঙন হচ্ছে। তবে কিছু দিনের মধ্যে মাটি শক্ত হয়ে যাবে। এ বিষয়ে দ্রুত খোঁজ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রজন্মনিউজ২৪/শাওন

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ