৭ জেলায় লকডাউন

আজ থেকে বিচ্ছিন্ন রাজধানী

প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২১ ১০:৫৫:৪০

আজ থেকে বিচ্ছিন্ন রাজধানী

সারা দেশে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। মহামারির ভয়াবহ প্রকোপ থেকে রাজধানীকে সুরক্ষিত রাখতে ঢাকার পার্শ্ববর্তী ৭ জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন) আরোপ করেছে সরকার। ফলে ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলরত দূরপাল্লার কোনও গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে না। লঞ্চ ও ট্রেন চলাচলও নিয়ন্ত্রিত থাকবে। কার্যত দেশের সঙ্গে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকবে রাজধানী ঢাকা।


আজ মঙ্গলবার (২২ জুন) সকাল ৬টা থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই লকডাউন চলবে।লকডাউন ঘোষিত জেলাগুলো হচ্ছে- নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ। সোমবার (২১ জুন) বিকেলে জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, সরকার ঢাকা বিভাগের ৭ জেলায় লকডাউন ঘোষণা করেছে। এই জেলা গুলোরওপর দিয়েই দূরপাল্লার বাস চলাচল করে। যেহেতু লকডাউন তাই গাড়ি যেতে পারবে না। এজন্য দূরপাল্লার গাড়ি বন্ধ থাকবে।

এদিকে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন ঘোষিত এলাকায় কোনও ট্রেন যাবে না। এজন্য কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুর জেলা লকডাউন থাকায় ওই জেলার সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোতে ট্রেনের যাত্রা বিরতি বাতিল করা হয়েছে। সোমবার রেলওয়ের সহকারী চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল আওয়াল সাক্ষরিত এক দফতরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেছেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন গন্তব্যে যেতে যদি কোনও লকডাউন এলাকা পড়ে সেখানে ট্রেন থামবে না। যাত্রীও উঠাবে না, নামাবে না। লকডাউন এলাকা অতিক্রম করে ট্রেন গন্তব্যে যাবে। একইভাবে অন্যান্য এলাকার জন্যও এই বিধি মেনে ট্রেন চালানো হবে। লকডাউন এলাকার রেলস্টেশনসমূহ বন্ধ থাকবে।

লকডাউন সংশ্লিষ্ট সাত জেলায় লঞ্চ চলাচলের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলাগামী লঞ্চগুলো চলবে। যেসব এলাকায় লকডাউন রয়েছে সেসব এলাকার ঘাটগুলোতে ভিড়বে না। সোমবার এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

প্রতিষ্ঠানটির নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে করোনা পরিস্থিতি সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় ২২ জুন সকাল ৬টা হতে ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত সাতটি জেলায় লকডাউন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নির্দেশনা অনুযায়ী উল্লেখিত জেলাগুলোর নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।

নৌপথগুলো হচ্ছে- ঢাকা-মাদারীপুর, ঢাকা-মিরকাদিম/ মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ মুন্সিগঞ্জ/চাঁদপুর/নড়িয়া, শিমুলিয়া (মুন্সীগঞ্জ) - বাংলাবাজার (মাদারীপুর)/মাঝিকান্দি (শরিয়তপুর), আরিচা (মানিকগঞ্জ)-কাজিরহাট, পাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) দৌলতদিয়া (রাজবাড়ী)। এই নৌপথসহ উল্লেখিত জেলার সংশ্লিষ্ট নৌপথে সব ধরণের যাত্রীবাহী নৌযানের (লঞ্চ/ স্পিডবোট/ ট্রলার/ অন্যান্য) বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ নির্দেশনার আলোকে উল্লেখিত জেলাগুলোর লঞ্চঘাট ব্যতীত দেশের যে কোনও স্থান হতে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী নৌযানগুলো পথিমধ্যে মাদারীপুর, পাটুরিয়া, দৌলতদিয়া, আরিচা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মিরকাদিম লঞ্চঘাটগুলোতে ভিড়াতে পারবে না। পণ্য পরিবহন এবং জরুরি সেবা প্রদানকারী নৌযানের ক্ষেত্রে এই আদেশ কার্যকর হবে না।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে আরও চার হাজার ৬৩৬ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় এক হাজার বেশি। এটা প্রায় দুমাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২৭ শতাংশ।

এক দিনে আক্রান্তদের মধ্যে আরও ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের দিন মারা যান ৮২ জন। কোভিড রোগীর চাপে সীমান্ত এলাকার হাসপাতালগুলোয় শয্যা ফাঁকা নেই। প্রতিটি হাসপাতালেই অতিরিক্ত রোগী। অনেকের স্থান হচ্ছে হাসপাতালের বারান্দায়।

সীমান্ত এলাকা থেকে করোনা দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। রাজশাহী ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরও একই অবস্থা। এখানেও করোনা রোগীর জন্য নির্ধারিত আইসিইউ ফাঁকা নেই। ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোয় সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী।

রাজধানীতেও বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। নমুনা পরীক্ষার সঙ্গে হাসপাতালগুলোয়ও রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।#

প্রজন্মনিউজ২৪/ফাহাদ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন