টাঙ্গাইলে কাঁঠালের বাম্পার ফলন

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২১ ০১:৩৮:০৯

টাঙ্গাইলে কাঁঠালের বাম্পার ফলন


ফয়সাল আহম্মেদ, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: বিস্তীর্ণ গ্রাম, যে দিকে চোখ পড়ে সেদিকেই কাঁঠালের সমারোহ। এমন চিত্র টাঙ্গাইলের সখীপুরের প্রতিটি গ্রামেই। এসব জায়গার কাঁঠাল যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। বাজারে উঠেছে সখীপুরের কাঁঠাল, তাই এ উপজেলার কাঁঠাল অর্থনীতি এখন বেশ চাঙ্গা। সুস্বাদু এ ফলের বাণিজ্যে এ জনপদ সরগরম থাকবে আগামী ৩ মাস। কাঁঠালের মৌসুমে বদলে যায় গোটা উপজেলার চিত্র। বদলে যায় মানুষের জীবনমানও। তাই এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এখানকার ব্যবসায়ী-শ্রমিকরা। দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের।

আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। ফলে, এ মৌসুমে লাখ লাখ টাকার কাঁঠালের ব্যবসা হবে বলে আশা করছেন কাঁঠাল চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ৭শ ২০ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল উৎপন্ন হয়। কাঁঠাল গাছের পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষ ৫২ হাজার। উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ২৫ লক্ষ ২০ হাজার পিস। প্রতি মৌসুমে বিক্রি হয় প্রায় ১০ কোটি টাকার কাঁঠাল।

উপজেলার কুতুবপুর, বড়চওনা, কচুয়া, নলুয়া, বাশতৈল, তক্তারচালা, মহানন্দপুরসহ আরও একাধিক জায়গায় কাঁঠালের হাট বসে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের গৃহস্থরা ভ্যান, ঠেলাগাড়ি, অটো, টেম্পোতে, করে কাঁঠাল নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য। এসব হাটে প্রতিদিন হাতবদল হয় লাখ লাখ টাকার কাঁঠাল। ভরা মৌসুমে এ অঞ্চলের বাতাসে বিরাজ করছে কাঁঠালের সুঘ্রাণ। শুধুমাত্র কুতুবপুর বাজার থেকেই প্রতি সপ্তাহে এ মৌসুমে ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক কাঁঠাল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়।

তবে স্থানীয় চাষিরা জানিয়েছেন, প্রায় ৩ যুগ পরেও সখীপুরে কাঁঠাল সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার গড়ে ওঠেনি। ফলে, সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার কাঁঠাল নষ্ট হয়ে যায়। চাষিদের কষ্টার্জিত কাঁঠালের ন্যায্য মূল্য পেতে কাঁঠাল সংরক্ষণের জন্য এখানে একটি হিমাগার স্থাপন করা জরুরি।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে জানা যায়, অতি লোভনীয় ফল কাঁঠাল উপজেলার কৃষকদের জন্য একটি দুর্লভ অর্থকরী ফসল। এ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে বাণিজ্যের আওতায় প্রায় লক্ষাধিক কাঁঠাল গাছ রয়েছে। এছাড়া উপজেলার প্রায় প্রত্যিটি বাড়িতেই রয়েছে কাঁঠাল গাছ। স্কুল-মাদ্রাসার ফাঁকে ফাঁকে দেখা মেলে অসংখ্য কাঁঠাল গাছের। বসতবাড়ির আঙ্গিনায় প্রচুর পরিমাণে কাঁঠাল জন্মে।

কাঁঠাল ব্যবসায়ী মো.বছির উদ্দিন জানান, সখীপুরের কাঁঠালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে কাঁঠাল ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট, লক্ষ্মীপুর, সুনামগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়।#

প্রজন্মনিউজ২৪/এফএম

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ