নিখোঁজ ত্ব-হার হোয়াটসঅ্যাপ সচল, মুক্তিপণের দাবি

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২১ ১০:৪৩:২১

নিখোঁজ ত্ব-হার হোয়াটসঅ্যাপ সচল, মুক্তিপণের দাবি

চার দিন হয়ে গেলেও খোঁজ মিলছে না আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই। অনেকের টাইমলাইনে আবু ত্ব-হার সন্ধান চাই হ্যাস ট্যাগ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘অনীহা’ হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। অনেকের ধারণা, আবু ত্ব-হা নিখোঁজ হননি, নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে আছেন। যে কারণে এতোদিন হয়ে যাওয়ার পরও মামলা নিচ্ছে না পুলিশ। সাম্প্রতিক আদনানের মায়ের মোবাইল ফোনে আশা মেহেদি হাসান পরিচয়ধারী ব্যক্তির এখন পর্যন্ত কোনো অস্তিত্ব পায়নি পুলিশ। মেহেদি তার কাছে মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে ত্ব-হার হোয়াটসঅ্যাপ সচল আছে। সেটি থেকে মেসেজ রিপ্লাই করা না হলেও সিন করা হচ্ছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন বলেন, ইন্টারনেটভিত্তিক নম্বর (০৯৬৯৬৯৭৭০৬৪৭) থেকে নিখোঁজ ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের মায়ের ফোনে আসা সেই মেহেদি হাসানকে ট্রেস করা এখনো সম্ভব হয়নি। তার কোনো অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে মেসেজ সিন হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আদনান ত্ব-হার বোন রিতিকা রুবাইয়াত ইসলাম অনন্যা বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পরের দিন শনিবার সন্ধ্যায় ইন্টারনেটভিত্তিক নম্বর ০৯৬৯৬৯৭৭০৬৪৭ থেকে মোবাইল ফোনে একটি কল আসে যে নাম্বারটি আমার ভাইয়া ব্যবহার করতেন। কিন্তু বহুদিন থেকে ওই নাম্বার টি বন্ধ ছিল। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে নিজেকে মেহেদি হাসান বলে পরিচয় দেন এক ব্যক্তি বলেন, আদনানসহ অন্যরা তাদের কাছে আছে। টাকাপয়সা দিলে ছেড়ে দেয়া হবে। এসময় তিনি ইমো নাম্বার খুলতে বলেন। পরে ফোন কেটে দেন। আমরা বার বার চেষ্টা করলেও ওই ফোনে কল ঢুকেনি। ভাবির নাম্বারে আমি ইমো খুললে ওই ব্যক্তি ইমোতে মেসেজ করেন এবং সেখানেও তিনি একই ধরনের কথা বলেন ও টাকা চাওয়ার বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বলেন।

অনন্যা বলেন, গত রবিবার সন্ধ্যায় ঠিক একই সময়ে বেশ কয়েকবার আমার ভাইয়ের টেলিটক মোবাইল ফোন থেকে ভাবির নাম্বারে ফোন আসে। ঘটনার আকস্মিকতায় আমরা ফোন ধরতে পারিনি। কিছুক্ষণ পর ভাইয়ার ওই টেলিটক ফোনে ভাবির নম্বর থেকে কল ব্যাক করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে রাত এগারোটায় ইন্টারনেটভিত্তিক আলাপ নম্বরে ফোন দেই ভাবির ফোন থেকে। অপরপ্রান্ত থেকে মেহেদি হাসান নামের ওই ব্যক্তি ফোনটি ধরে জিজ্ঞেস করেন, আপনাদের টাকা জোগাড় হয়েছে? টাকা দিলে আদনানদের ছেড়ে দেব।

অনন্যা বলেন, এসময় আমি ফোনটি আমার মায়ের কাছে দেই। আমার মা তখন ফোনে তাকে বলেন, আমি আমার ছেলের কন্ঠ চিনি। আপনি আমার ছেলেকে দেন তার সাথে কথা বলি। তারপর টাকা জোগাড় করবো। কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে সেটি না করে রাগ করে ফোন কেটে দেয়া হয়। এরপর ওই নম্বর দুটিতে আমরা বার বার ফোন দিলেও তা বন্ধ পাচ্ছি। কিন্তু, ওই টেলিটক নম্বরটি দিয়েই আমার ভাইয়ের হোয়াটসঅ্যাপ খোলা। হোয়াটসঅ্যাপে আমি বিভিন্ন ধরনের মেসেজ পাঠাচ্ছি। কিন্তু কোনো রিপ্লাই পাচ্ছি না। তবে আমার মেসেজগুলো সিন করার হচ্ছে।

এদিকে ত্ব-হার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘নিষ্কৃয়তায়’ ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় এই বক্তার নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন তারা।

অনলাইন এক্টিভিস্ট কামরুল আহসান নোমানি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন,  চারটা জ্বলজ্যান্ত মানুষ আচমকা নাই হয়ে গেল এটা নিয়ে কারো যেন কোন ভাবান্তর ই নেই! ত্বহা মুহাম্মদ আদনানের পরিবারের তো বিচার চাইবারও কোন জায়গা নেই। এই রাষ্ট্র আমরা গড়েছি। আমাদেরও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। আমরা অবলীলায় সয়ে যাচ্ছি সবকিছু। হ্যাঁ একজন আছেন যিনি সব দেখছেন। চূড়ান্ত ফয়সালার দিন প্রত্যেককেই জাররা জাররা হিসাব দিতে হবে। মজলুমের ফরিয়াদ পৌঁছে যাক সাত আসমান তক!

রফিক সুমন লিখেছেন, ‘আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান তিনি কোনো মতাদর্শ বা কোন সংগঠনের এজেন্ডা হিসেবে কাজ করেন না। তিনি শুধু বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে কোরআন-হাদিস দ্বারা শেষ জামানার মুসলিম উম্মাহকে কিভাবে হেফাজত করা যায় বা হেফাজতে রাখা যায় সে সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করে আসছেন। এতোদিন ধরে তিনি নিখোঁজ, তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তার কোন খবর আমরা সাধারণ জনগণ গণমাধ্যমে পাচ্ছি না এবং পুলিশি তৎপরতা দেখছি না। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে এটা কখনোই মেনে নিতে পারছিনা।’

মোহাম্মদ ইউসুফ আলী লিখেছেন, ‘সাকিব লাথি মেরে স্টাম্প ভেঙ্গে অন্যায়ের  প্রতিবাদ করেছেন, এই নিয়ে যুবক সমাজের কত স্ট্যাটাস ও বাহবা। মিডিয়ায় এই নিয়ে হরেক রকমের নিউজ। এদিকে হাজারো যুবকের অনুপ্রেরণা ও শেষ যামানা নিয়ে স্রেষ্ঠ আলোচক আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান শায়েখ রংপুর থেকে ঢাকা আসার পথে গুম হয়েছে সে বিষয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথ্যা নেই। মিডিয়ায়ও তেমন কভারেজ দেখছি না। নেই যুবক মুসলিম ভাইদের কোনো প্রতিক্রিয়া। আফসোস!’

নুর মুহাম্মদ লিখেছেন, ‘একজন সৃজনশীল তরুণ ইসলামিক বক্তাকে পেয়েছিলাম যে কিনা আমাদের ঘুণে ধরা সমাজের অরাজকতাগুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, অন্ধকার থেকে আলোতে ধাবিত হওয়ার পাথেয় যুগিয়েছেন। সত্য মিথ্যার পার্থক্য বুঝিয়েছেন। উনার সাবলীল জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সকল আলেমদের ছাপিয়ে গেছে। আজ উনি বিপদাগ্রস্ত শকুনের হিংসাত্মক চোখ তার উপর পড়েছে। এই জমিনের উপরে আসমানের নিচে কেউ কি নেই এগিয়ে আসার মতো এই সত্যের পথের দিশারিকে সন্ধান করার জন্য? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার নিকট কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা সকল ষড়যন্ত্রকারী, হিংসুক, জালেমদের হাত থেকে যেন উনাকে হেফাজত করেন। ইসলামের স্বার্থে উম্মাহের স্বার্থে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন, আমিন।’  

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত ২ টা ৩৭ মিনিটের দিকে রংপুর থেকে ঢাকায় ফেরার সময় গাবতলী ও মিরপুরের মাঝামাঝি স্থানে নিখোঁজ হন সাম্প্রতিক জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান, সফরসঙ্গী মোহাম্মদ আবদুল মুহিত আনসারী, ফিরোজ আলম এবং গাড়িচালক আমির উদ্দিন মোঃ ফয়েজ। এ ঘটনায় ঢাকায় দারুস সালাম থানায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার জিডি কিংবা মামলা দিতে গেলে তা গ্রহণ হয়নি। পরে রংপুর কোতোয়ালি থানায় আদনানের মা আজেদা বেগম এবং আমির উদ্দিনের ছোট ভাই ফয়সাল পৃথক দুটি জিডি করেন।

গত ১৪ জুন রংপুরের জিডির সূত্র ধরে রাজধানীর পল্লবী থানায় সাবিকুন্নাহারের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। এরইমধ্যে সাবিকুন্নাহার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, র‍্যাব হেডকোয়ার্টারে দেখা করে আদনানসহ নিখোঁজদের সন্ধানের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। করেছেন সাংবাদিক সম্মেলন। এখন পর্যন্ত তার সন্ধান জানাতে পারেনি পুলিশ।#

প্রজন্মনিউজ২৪/ফাহাদ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন