টঙ্গীর কিশোর গ্যাং ডি কোম্পানির ১২ জন অস্ত্রসহ আটক

প্রকাশিত: ০৭ জুন, ২০২১ ১০:৫৫:৩৫

টঙ্গীর কিশোর গ্যাং ডি কোম্পানির ১২ জন অস্ত্রসহ আটক

হাসান মাহমুদ, গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় দুটি পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িত কিশোর গ্যাং ডি কোম্পানির পৃষ্ঠপোষক বাপ্পী ওরফে লন্ডন বাপ্পি ও নীরব ওরফে ডন নীরবসহ ১২ জন সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশ ব্যাটালিয় (র‌্যাব)-১। 

দুই বছর লন্ডনে পড়াশোনা করেছেন রাজিব চৌধুরী বাপ্পি ওরফে লন্ডন বাপ্পি। এরপর দেশে ফিরে প্রতিষ্ঠা করেন 'ডি কোম্পানি' বা ডিয়ারিং কোম্পানি। তার গ্রুপে রয়েছে ৫০ জনের বেশি সদস্য। সপ্তাহে প্রতিজনকে তিনশ থেকে চারশ টাকা করে দেয়া হতো। এই সদস্যদের দিয়ে অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক বিক্রি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রম চালানো হতো। এভাবে প্রতি মাসে দুই লাখ টাকার বেশি উপার্জন করতেন লন্ডন বাপ্পি।

গাজীপুরের টঙ্গীতে দুটি পরিবারের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রবিবার বাপ্পিসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি চাপাতি, দুটি রামদা, তিনটি লোহার পাইপ ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়।

ফুচকার দোকানে বসার জায়গা না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে ডি কোম্পানির সদস্যরা। সেই সূত্র ধরে দুটি বাড়িতে ও একটি টেইলার্সে হামলা চালানো হয়। এতে চারজন গুরুত্বর আহত হয়।

র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার আল মঈন জানান, ২০১৩ সালে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে তিন বছর পর (২০১৬ সালে) 'ডি কোম্পানি' বা ডিয়ারিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন বাপ্পি। এর দুই বছর পর ফেসবুক গ্রুপ বা ম্যাসেঞ্জারে গ্রুপ খুলে অপরাধ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠিত করা হয় একটি 'লোগো'। তার গ্রুপে ৫০ জনের বেশি সদস্য রয়েছে। এসব সদস্যের প্রতি সপ্তাহে তিনশ থেকে চারশ টাকা করে দেয়া হতো। আর প্রতি মাসে অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজি, মাদক, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকা আদায় করত।

র‌্যাব মুখপাত্র আরও জানান, ২০০৭ সালে তার (বাপ্পি) মা মারা যান। এরপর তার বাবা আরেকটি বিয়ে করেন। ২০১৭ সালে বাপ্পি অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। সেই মামলায় ছয় মাস জেলহাজতে ছিলেন। তার ছোটভাই পাপ্পু এই গ্রুপের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। মাদক মামলায় তিনি বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। আর 'ডি কোম্পানির' দ্বিতীয় প্রধান হিসেবে কাজ করেন মইন আহমেদ নীরব। তার বাড়ি চাঁদপুর। এই নীরব এলাকায় ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

রবিবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, ৫ জুন রাতভর রাজধানীর উত্তরা ও টঙ্গী এলাকায় অভিযান চালিয়ে 'ডি কোম্পানির' কিশোর গ্যাং গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক রাজিব চৌধুরী বাপ্পি ওরফে লন্ডন বাপ্পি ও মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়া মইন আহমেদ নীরব ওরফে ডন নীরবসহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। তারা হলেন- তানভীর হোসেন ওরফে ব্যাটারি তানভীর, পারভেজ ওরফে ছোট পারভেজ, তুহিন ওরফে তারকাটা তুহিন, রাজিব আহমেদ নীরব ওরফে টম নীরব, সাইফুল ইসলাম শাওন, রবিউল হাসান, শাকিল ওরফে বাঘা শাকিল, ইয়াছিন আরাফাত ওরফে বিস্কুট ইয়াছিন, মাহফুজুর রহমান ফাহিম, ইয়াছিন মিয়া ওরফে প্রিন্স ইয়াছিন।

র‌্যাব মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ১ জুন গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব আরিচপুর এলাকায় একটি ফুচকার দোকানে বসা নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সেখানে বসে থাকা তুহিন ও তুষার নামে দুই যুবককে এলোপাতাড়ি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ডেয়ারিং কোম্পানির গ্যাং গ্রুপের দুই সদস্য গুরুতর জখম করে। পরে এই ঘটনা বিভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ৩ জুন রাতে একই এলাকার একটি টেইলরের দোকানসহ বিভিন্ন বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে টেইলাসের দোকানি মিসেস রূপালী তার স্বামী আরজু মিয়া ও অন্য একজন সুজন মিয়াকে কুপিয়ে যখম করে। এঘটনায় ভুক্তভোগী টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। র‌্যাব-১ ছায়া তদন্ত করে দুর্ধর্ষ কিশোর গ্যাং গ্রুপ ডেয়ারিং কোম্পানির পৃষ্ঠপোষক ও লিডার নীরবসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, এই গ্রুপটি উত্তরা ও টঙ্গী এলাকায় ছিনতাই, চুরি, মারামারি, মাদকের কারবার হুমকি-ধামকিসহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছিল। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামিরা গ্রুপের অনেক সদস্যদের নাম-পরিচয় বলেছে। আমরা তাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছি। পাশাপাশি এই গ্রুপের সব সদস্যদের ওপর র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে।

র‌্যাব কমান্ডার বলেন, বর্তমান সময়ে কিশোর গ্যাং তথা গ্যাং কালচার এবং উঠতি বয়সি ছেলেদের মাঝে ক্ষমতা বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক গ্রুপের সাথে অন্য গ্রুপের মারামারি করা বহুল আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গ্যাং সদস্যরা এলাকায় নিজেদের অস্তিত্ব  নজরদারি রাখা খুর জরুরি। সন্তানরা কাদের সঙ্গে মেলামেশা করছে তা অভিভাবকদের নজরদারি করা।

স্কুল পড়ুয়া ছেলে মেয়ে গুলো আজ কিশোর গ্যাংয়ের সাথে জড়িয়ে পড়ছে তারা নিজেরাই ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ ছবি তৈরী করে নিজেদে শক্তি ও জনবলের জাগান দিচ্ছে ওই সব কিশোর কিশোরীরা । তারা ফেসবুক বা ইন্টারনেটে কোনসব  বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের উপর চড়াও হয়ে মারামারি-খুনাখুনি করে কিশোর বয়সেই অপরাধী হয়ে উঠতে পারে।

প্রজন্মনিউজ২৪/শাওন

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ