বেড়েছে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম, ক্রেতারা হতাশ

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২১ ০৩:০৬:১৬

বেড়েছে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম, ক্রেতারা হতাশ


দেশের ৫০তম প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (৩ জুন)। ২০২১-২২ অর্থবছরের এই বাজেটে দেশে অনেক কিছুরই দাম বাড়ানো ও কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বাজেটের পরের দিনই দেশের কাঁচাবাজারে প্রভাব কিছুটা হলেও পড়েছে। বেড়েছে তেল-চাল-ডালসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম।

শুক্রবার (৪ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 

বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পেঁয়াজের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা। যা গত শুক্রবার বিক্রি হয়েছ ৪৫ টাকা কেজি।  তবে রসুনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আমদানি করা রসুনের দাম ১৪৫ থেকে ১৫০  টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। 

এছাড়া ক্রেতাদের বাড়তি দাম গুণতে হচ্ছে সয়াবিন ও পাম তেলের জন্য। লুজ সয়াবিন তেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা, যা গত শুক্রবার ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকার মধ্যে। আর পাম সুপার বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়, যা আগে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বেগুনের দাম ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা, বরবটি ৫ টাকা বেড়ে ৪৫ টাকা কেজি, মিষ্টি কুমড়া প্রতি পিচ (কেজি) ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পটল ৪০ টাকা কেজি, করলা ৫০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ১০ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকা, ঢেঁড়স ৫ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা, টমেটো ৬০ টাকা, ফুলকপি প্রতিপিচ ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ২৫ টাকা, গাজর ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, লাউ প্রতিপিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকা, লাল শাক ১০ টাকা আটি, আলু ২০ টাকা কেজি, মুসুর ডাল প্রকার ভেদে ১৭৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা কেজি, শসা ৫০ টাকা।  ডিম প্রতি হালি ৩০-৩২ টাকা, চিনি ৬৫-৭০। 

এদিকে কমেছে বয়লার মুরগির দাম।  গত দুই দিন আগে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। পাকিস্তানি মুরগি ২৪৫- ২৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ২২৫-২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।  এছাড়া গরুর মাংস ৫৮০- ৬০০ টাকা কেজি। 

মিরপুর-১ নম্বর বাজারে ক্রেতা মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, গতকাল প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।  কিন্তু এর আগেই বাজারে অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।  প্রতি বছরই বাজেটের পরের দিন থেকে কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। করোনার মধ্যে চালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দাম কমাতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। বাজার মনিটরিং জোরদার করা উচিত ছিল।

বাজারে ব্যবসায়ী আতাহার হোসেন বলেন, বাজেটের প্রভাব এখনো পড়েনি। করোনার কারণে ভারত থেকে অনেক কিছুই বাংলাদেশে না আসার কারণে কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে সরবারাহ কম থাকায় দেশি সবজির দামও বেড়েছে। 

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, চিকন, মাঝারি ও মোটা সব ধরনের চালের দাম গত তিন দিনের ব্যবধানে কেজিতে আরও ১ থেকে ২ টাকা বেড়ে গেছে।  চিকন চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৬ টাকায়, যা দুই দিন আগেও ৬০ থেকে ৬৪ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল। মোটা চালের কেজি ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা।  

এছাড়া দাম বেড়েছে আটা ও ময়দার।  ৩২ থেকে ৩৪ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া এক প্যাকেট আটার দাম বেড়ে এখন ৩৪ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্যাকেট ময়দার কেজিও ২ টাকা বেড়ে  বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৬ টাকায়। 

প্র্রজন্মনিউজ২৪/এএআই

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন