ভূয়া সচিব পরিচয়ে কোটি কোটি টাকা লোপাট করলো মোস্তাফিজ-বাবুল গং

প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২১ ০১:০১:২১ || পরিবর্তিত: ২২ মে, ২০২১ ০১:০১:২১

ভূয়া সচিব পরিচয়ে কোটি কোটি টাকা লোপাট করলো মোস্তাফিজ-বাবুল গং

নাম তার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। আইসিটি সচিব মোস্তাফিজুর রহমান ও জনপ্রশাসন উপ সচিব এএসএম মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে নামের মিলের সুযোগ নিয়ে নিজেকে সচিব পরিচয় দিয়ে, তার স্ত্রীকে উপ সচিব সাজিয়ে ও বাবুল মৃধাকে পিএস বানিয়ে মানুষের কাছে থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা ও সেই সাথে টাকা পাচার করেছেন বিদেশে।

এমন একজন ভুক্তভোগী মোঃ মহিউদ্দিন খান। পেশায় মাদ্রাসার শিক্ষক। মোস্তাফিয শিক্ষা সচিব পরিচয় দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে ৮৮,৭০,০০০/- আত্মসাদের অভিযোগে মামলা করেছেন রাজধানীর দক্ষিনখান থানায়। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত ভার পরে ডিবির সাইবার ও স্পেশাল ক্রাইম ডিভিশনের কাছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে জনবল নিয়োগের কথা বলে জহিরুল ইসলাম সোহাগ নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৪৩,৫০,০০০/-। কোরিয়ান কোম্পানির কাগজপত্র জাল করে ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছিলেন মোস্তাফিয- বাবুল চক্র। তাই ভুক্তভোগী মামলা করেছেন ভাটারা থানায়।

মোস্তাফিজ- বাবুলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বরিশালের এয়ারপোর্ট থানায়। মামলার এজহার অনুযায়ী মন্ত্রনালয়ে চাকুরীর কথা বলে প্রতারনার মাধ্যমে হাবিবুর রাহমান (ফারুক) এর কাছে থেকে হাতিয়ের নিয়েছে ২৪,০০,০০০/-।

শিল্প মন্ত্রণালয় ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়ার জন্য মোছা ইয়াসমিন খাতুন নামক এক ভুক্তভোগী মামলা করেছেন মতিঝিল থানায়। তার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

এছাড়াও আউট সোর্সসিং এর মাধ্যমে ভুয়া জন নিয়োগ দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে দেওয়ার জন্য সিআইডি তে একটি মামলা চলমান আছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়, পাট মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রানি সম্পদ মন্ত্রণালয়  , শিল্প মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন অফিস, ওয়াসা ও বাংলাদেশ রেলওয়েতে লোক নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।  

ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইতে গেলে মোস্তাফিজ- বাবুলে নিজস সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে হুমকি প্রদান ও মারধর করে। অনেকের নামে আবার ভুয়া মামলা দিয়ে হয়রানি করে। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাদের সান্ত্রাসি বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন মামলার বাদীকে হুমকি প্রদান করে যাচ্ছে।    

বিভিন্ন সময় তাদের নামে মামলা হলেও জামিন নিয়ে আবার জড়িয়ে পরছে প্রতারনার কাজে ও নিঃস্বয় করছে সাধারণ মানুষকে। আবার অনেক মামলাতে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে রয়েজান ধরাছোঁয়ার বাহিরে। কিন্তু এবার আর শেষ রক্ষা হল না। দক্ষিনখান থানায়র মামলায় অবশেষে ধরা পরলো গোয়েন্দা পুলিশের কাছে।

ডিবির সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম ডিভিশনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হাসান মুহতারিম বলেন “ এই মামলার ক্ষেত্রে তারা ভুয়া শিক্ষা সচিব পরিচয় ব্যবহার করে কিছু লাক্সযারিয়াস কিছু গাড়ি বহর নিয়ে পিএস, বডি গার্ড ও আনুসাঙ্গিক অভিনেতাকে সাজিয়ে এই পরিচয় টি এস্টাবলিস করে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট যে কোন চাকরি দেওয়া সম্ভব।”

তাই ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর দাবি এইবার যেন মোস্তাফিয- বাবুল আইনের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে আসতে না পারে। এবং সর্বচ্চো শাস্তি দাবি করেছেন তারা। 

সূত্র- ডিবিসি

প্রজন্মনিউজ২৪/শাওন

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন