আকাশে মেঘ হলেই বিদ্যুৎ নেই

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২১ ০৮:৪৭:০৪ || পরিবর্তিত: ১৩ মে, ২০২১ ০৮:৪৭:০৪

আকাশে মেঘ হলেই বিদ্যুৎ নেই

মোস্তাফিজুর রহমান, পিরোজপুর প্রতিনিধি: আকাশে সামান্য মেঘের ঘনঘটা দেখলেই বিদ্যুৎ উধাও হয়ে যায় পিরোজপুরের নাজিরপুরে! আর একটু ঝড়বৃষ্টি হলেতো দু-একদিনেও বিদ্যুতের নাগাল পাওয়া যায়না।

এছাড়াও দিনে রাতে সীমাহীন লোডশেডিংতো নিয়মিত ব্যাপার। মাঝে মধ্যে ঘোষণা দিয়ে, আবার অনেক সময় ঘোষণা ছাড়াই লাইন সংস্কারের নামে সারাদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।
এটা হলো পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার চিত্র। বছরের পর বছর ধরে পিরোজপুর পল্লীবিদুৎ সমিতির এমন অব্যবস্থাপনায় একদিকে যেমন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
কিছু দিন আগে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে খুঁটি ও তার পরিবর্তনসহ নানা সংষ্কার কাজ করা হয়েছে। কিন্তু এর পরেও সামান্য মেঘ-বৃষ্টি হলেই খুঁটিপড়ে যাওয়া বা তার ছিড়ে যাওয়ার অজুহাতে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। বর্তমান সরকারের আমলে সারা দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক উন্নতি ঘটলেও নাজিরপুর বরাবরই অতি মাত্রায় লোডশেডিং থেকেই যাচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। “আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ যায় না মাঝে মাঝে আসে” এটা সাধারণ জনগণের যেন কমন ডায়লগ হয়ে গেছে । এ ছাড়া মিটার রিডিং নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। মিটার রির্ডিং ম্যান মিটার রিডিং করতে আসে না মনগড়া রির্ডিং করে দেয় এতে যে বাড়িতে বিল হওয়ার কথা ১০০ টাকা সেখানে আসে কোন কোন মাসে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বর্তমান এজিএম ফুয়াদ আল আরেফিন নাজিরপুর পল্লীবিদ্যুত অফিসে যোগদান করার পর থেকেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়া, মিটার রিডিং নিয়ে বিল বেশি-কম হওয়া, নতুন লাইন সংযোগের নামে কালক্ষেপন করা, অফিসে দালালের দৌড়াত্ব বেড়ে যাওয়ার মত ঘটনা আগের থেকে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। আবার লাইনে সমস্যা হলে তা ঠিক করতে ও লাইনম্যানদের দিতে হয় মোটা অংকের ঘুষ। নাজিরপুরের ঐতিহ্যবাহী কালিবাড়ী বাজারের মন্নান ইঞ্জিনিয়ারীং ওয়ার্কশপ এর ম্যানেজার মোঃ আলম এ প্রতিনিধিকে জানান, আমাদের ব্যবসাই হলো বিদ্যুৎ নিয়ে, লেদ মেশিন, ওয়েল্ডিং মেশিন, গ্রান্ডিং মেশিন সহ বিভিন্ন মেশিন বিদ্যুৎ ছাড়া চালানো সম্ভব নয়। সামান্য মেঘের গর্জন বা আকাশে দু একবার বিদ্যুৎ চমকালেই বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কিছু সময় পর মেঘ সরে গেলেও বিদ্যুৎ আর আসেনা। অনেক সময় সারা রাতেও বিদ্যুৎ না আসায় আমাদের এ বাজার অন্ধকারে ভুতুড়ে অবস্থায় পরিনত হয়। এমনকি অন্ধকারে বহুবার বাজার চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
এ বিষয় নাজিরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার ফুয়াদ আল আরেফিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়। তাই তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন বলেন মূলত ৩৩ কেভি ফোর্ত লাইনের ফল্ট থাকার কারনে বাগেরহাট থেকেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আমরা কি করব। আর মিটার রিডিং এর অভিযোগের কথা বলছেন বিষয়টা হচ্ছে রিডিং করতে আমাদের অফিস থেকে বাড়িতে বাড়িতে যায় বেশি হওয়ার কথা না, কম হওয়ারই কথা তবে যদি বেশি হয় তাহলে আমাদের অফিসে আসলে সমাধান পাবে।
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান জানান, নাজিরপুরে অতিমাত্রায় লোডশেডিং নিয়ে পল্লী বিদ্যুতের এজিএম এর সাথে বহুবার কথা হয়েছে। সবসময় তিনি টেকনিক্যাল সমস্যার কথা বলেন। যার কারনে আমাদের কিছু বলার থাকে না।

প্রজন্মনিউজ২৪/শাওন

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন