গাইবান্ধায় ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে জি.আর অর্থ বিতরণ

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২১ ০২:৫৩:৪৫

গাইবান্ধায় ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে জি.আর অর্থ বিতরণ

গাইবান্ধার ফুলছড়ি  উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নে তদারকি কর্মকর্তার (ট্যাগ অফিসার) অনুপস্থিতিতে জি.আর নগদ অর্থ বিতরণ করে জোরপূর্বক ট্যাগ অফিসারের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

শুধু তাই নয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মন্ডল ট্যাগ অফিসারদের আটকে রেখে বিতরণ হয়নি এমন মাষ্টার রোলে স্বাক্ষর নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, করোনার এই মহাদূর্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায় গরীবদের জন্য ফুলছড়ি ইউনিয়নে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জি.আর (জেনারেল রিলিফ) বরাদ্দ দেওয়া হয়।

যা ৫শ’ জন হতদরিদ্রের প্রত্যেকে ৫শ’ টাকা করে পাবেন। নিয়ম অনুযায়ী তা বিতরণের সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মনোনিত তদারকি কর্মকর্তার (ট্যাগ অফিসার) উপস্থিতিতে বিতরণ করার কথা।

কিন্তু ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মন্ডল বিতরণকালে কোনো সরকারি কর্মকর্তাদের না রেখে ওই ইউনিয়নের সচিব জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে ৯ মে ও ১০ মে কিছু বিতরণের দাবি করেন।

এদিকে, একই দিন ওই ইউনিয়নে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম ও উপজেলা সমবায় অফিসের সহকারী পরিদর্শক আলতাব হোসেন তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে ভিজিএফ এর টাকা বিতরণ করেন।

ভিজিএফ বিতরণ শেষ হলে ট্যাগ অফিসারদের কাছে জি.আর বিতরণ শিটে স্বাক্ষর চান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মন্ডল। ট্যাগ অফিসারদের সমন্বয়ে জিআর বিতরণ করা হয়নি এমন অভিযোগ এনে অফিসাররা জিআর বিতরণ শিটে স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে এক ধরনের বাগবিতন্ডার সৃষ্টি হয়।

তর্কবিতর্কের মধ্যদিয়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম শিটে স্বাক্ষর না দিয়েই চলে যান। কিন্তু চেয়ারম্যান অপর দুইজন অফিসারের কাছে জোরপূর্বক জি.আর বিতরণ শিটে স্বাক্ষর নেন।

স্বাক্ষর না দিয়ে ফিরে যাওয়া ট্যাগ অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, "আমরা ভিজিএফ বিতরণ করেছি। জিআর বিতরণ বিষয়ে আমাদের কিছু বলা হয়নি। চেয়ারম্যান সচিবের দ্বারা নিজ দায়িত্বে জি.আর বিতরণ করেছেন।

জোর করে আমাদের কাছে স্বাক্ষর নিতে চেয়েছিলেন কিন্তু যেহেতু আমরা জিআর বিতরণ করিনি তাই আমি স্বাক্ষর না দিয়েই চলে এসেছি"। এছাড়া বিষয়টি ইউএনও মহোদয় জেনে তাকে স্বাক্ষর করতে নিষেধ করেছেন বলেও জানান তিনি।

বিতরণ না করে স্বাক্ষর দিতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সঠিক উত্তর দিতে পারেননি ট্যাগ অফিসার জাহাঙ্গীর আলম ও আলতাব হোসেন। তবে তারা বলেন, "ওই পরিবেশে তাদের করার কিছুই ছিলনা"।

ট্যাগ অফিসার ছাড়াই জিআর বিতরণ করার বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলছড়ি ইউনিয়নের সচিব জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে বলেন, "আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবোনা চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে কথা বলেন" এবং ফোন কেটে দেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মন্ডল বলেন, ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে জিআর এর অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এখানে কোন প্রকার অনিয়ম করা হয়নি।

এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু রায়হান দোলন বলেন, জিআর বিতরণে কোনো প্রকার অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। তদারকি কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে জিআর বিতরণ করা হয়ে থাকলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

প্রজন্মনিউজ২৪/ শামীম / মামুন 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ