টাঙ্গাইলে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের মাঝে বিদ্যুতের খুঁটি!

প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২১ ০৮:২৩:৫২

টাঙ্গাইলে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের মাঝে বিদ্যুতের খুঁটি!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। এখনও দেওয়া হয়নি ছাড়পত্র, হয়নি উদ্বোধন, মাঠে গড়ায়নি বল। খেলাধুলার জন্য নির্মিত হলেও খেলার সুযোগ পাচ্ছে না কেউ।

এদিকে খেলার মাঠে বিদ্যুতের খুঁটি থাকার কারণে উপজেলা প্রশাসন স্টেডিয়ামটি বুঝে নিচ্ছে না। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি অঞ্চল খাজারচালা এলাকায় ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে স্টেডিয়ামটি। ২০১৮ সালের অক্টোবরে নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আফতাব এন্টারপ্রাইজ।

 জানা যায়, গ্রাম পর্যায়ে খেলাধুলার মান উন্নয়ন ও প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে সরকার প্রতি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তারই অংশ হিসেবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এটি নির্মিত হয়। স্থানীয়রা জানায়, নির্মাণের পর এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের খেলা এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুতের হাই-ভোল্টেজের লাইনের তিনটি খুঁটি মাঠের মাঝ বরাবর থাকা অবস্থায় নির্মাণকাজ শেষ দেখানো হয়েছে।

ঘাটাইল বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম খান বলেন, স্টেডিয়ামটি নির্মাণের আগেই লাইনটি টানা হয়েছে। খুঁটিগুলো বিকল্প স্থানে স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে স্টেডিয়াম তদারকিতে কেউ না থাকায় এরই মধ্যে আসবাব চুরি হয়ে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

আসবাব থেকে শুরু করে সব ধরনের মালপত্র চুরি হয়ে গেছে বিষয়টি স্বীকার করে আফতাব এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার রেজাউর রহমান বলেন, মাঠের মধ্যে বিদ্যুতের খুঁটি থাকার কারণে উপজেলা প্রশাসন স্টেডিয়ামটি বুঝে নিচ্ছে না। কিন্তু খুঁটিগুলো সরানোর জন্য কোনো টাকা ধরা ছিল না।

ক্রীড়া সংস্থা ঘাটাইল উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহ উদ্দিন শাহীন বলেন, ওই স্টেডিয়ামে খেলার কোনো পরিবেশ নেই। যার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো খেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। পাহাড়ি মাটি ফেলা হয়েছে, যা সমান করা হয়নি। মাঠে বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ বড় বড় গর্ত রয়েছে।

 ইউএনও অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, স্টেডিয়ামের কাজ এখনও বুঝিয়ে দেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মাঠের মাটি এখনও সমান করা হয়নি। মাঠে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। শিডিউলে যা ধরা ছিল সে অনুযায়ী কাজ হয়েছে কিনা তা দেখার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তলব করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে তারা বিল উত্তোলন করছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে এখন পর্যন্ত ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।

প্রজন্মনিউজ২৪/ ফয়সাল / মামুন

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ