চলতি অর্থবছরে সর্বোচ্চ কালো টাকা সাদা করার রেকর্ড

প্রকাশিত: ০৬ মে, ২০২১ ০৪:৪২:০৫ || পরিবর্তিত: ০৬ মে, ২০২১ ০৪:৪২:০৫

  চলতি অর্থবছরে সর্বোচ্চ কালো টাকা সাদা করার রেকর্ড

চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সর্বোচ্চ কালো টাকা সাদা করার রেকর্ড হয়েছে। এ বছর প্রায় ১০ হাজার করদাতা কালো টাকা বৈধ করেছেন স্বাধীনতার পর এটিই সর্বোচ্চ।
তাদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি ব্যাংকে রাখা বিভিন্ন আমানত, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র বা নগদ টাকার ওপর ১০ শতাংশ কর দিয়ে নিজেদের অর্থ বৈধ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এখান থেকে এনবিআর রাজস্ব পেয়েছে ১ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। যার বিপরীতে নগদ বা ব্যাংকে থাকা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা সাদা হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরিচালক সৈয়দ মু’মেন এসব তথ্য জানান।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, জুলাই থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি মধ্যে শেয়ারবাজার, নগদ টাকা কিংবা জমি-ফ্ল্যাট কিনে সব মিলিয়ে মোট ৯ হাজার ৯৩৪ জন কালো টাকা সাদা করেছেন। এদের মধ্যে শুধু জমি-ফ্ল্যাট কিনে কিংবা নগদ টাকা সাদা করেছেন ৯ হাজার ৬২৩ জন।
মূলত শেয়ারবাজার চাঙা করতেই বাজারে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। এতে করহার ধরা হয় ১০ শতাংশ। এবার মাত্র ৩১১ জন বিনিয়োগকারী এই সুযোগ নিয়েছেন এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন মাত্র ৪৩০ কোটি টাকা।

এর আগে চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৯৩৮ জন করদাতা জমি, অ্যাপার্টমেন্ট, নগদ, ব্যাংক আমানত এবং অন্যান্য সম্পদকে বৈধ করেছেন। এক সাময়িক হিসাব অনুসারে, তাদের অবৈধ সম্পত্তি বৈধ করতে গিয়ে মোট প্রায় ৮৮৫ কোটি টাকা কর আদায় হয়েছে। আর শেয়ারবাজারে প্রায় ২২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করেছেন ১৮৮ জন ব্যক্তি। ওই খাত থেকে রাজস্ব আসে ২২ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

জানা যায়, ব্যক্তি পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণির করদাতারা ভিন্ন ভিন্ন সম্পদের বৈধতা নিচ্ছেন। কিন্তু প্রক্রিয়াটিকে তারা জটিল বলে দাবি করছেন। অনেক করদাতারা তাদের আয়কর রিটার্নে এসব সম্পদের ঘোষণা দিচ্ছেন। আমাদের কর কর্মকর্তারা রিটার্নে তথ্য যাচাই-বাছাই করে তথ্য সংগ্রহ করছেন। ফলে সঠিক হিসাব বের করা সময় সাপেক্ষ। ভবিষ্যতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার হিসাব আরও বাড়বে। কারণ আগামী জুন পর্যন্ত এই সুযোগ বিদ্যমান রয়েছে।

চলতি বছরের বাজেট অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের বিষয়ে বলা হয়েছিল, প্রচলিত আইনে যাই থাকুক না কেনো, ব্যক্তি শ্রেণির কর দাতাদের চলতি অর্থবছরে আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত জমি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের প্রতি বর্গমিটারের ওপর নির্দিষ্ট হারে এবং নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড বা যেকোনো সিকিউরিটিজের ওপর ১০ শতাংশ কর দিয়ে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করলে কর্তৃপক্ষসহ কেউই প্রশ্ন করতে পারবে না। একই সময় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা পুঁজিবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করলে, ওই বিনিয়োগের ওপর ১০ শতাংশ কর দিলে, আয়করসহ কোনো কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন করবে না।

এছাড়া দেশীয় বিনিয়োগ চাঙা করতে এর আগের অর্থবছরে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে একই হারে কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয় সরকার। ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত এই সুযোগ বলবৎ আছে।

এদিকে চলতি ২০২০-২১ করবর্ষে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন দাখিল হয়েছে প্রায় ২০.৪২ লাখ। এবার অতিরিক্ত সময়ের চেয়ে ১.৫০ লাখ করদাতা আবেদন করেছেন। যদিও প্রত্যাশা অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল হয়েছে বলে মনে করে না এনবিআর। দেশে ই-টিআইএনধারীর বর্তমান সংখ্যা ৫০ লাখ ৭২ হাজার। গত অর্থবছরের আয়কর রিটার্নের সংখ্যা ছিল প্রায় ২২ লাখ।

জহুরুল হক

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন