অনলাইনে কেনাকাটায় প্রতারিত হলে করণীয়

প্রকাশিত: ০৩ মে, ২০২১ ১০:৪৪:৩১

অনলাইনে কেনাকাটায় প্রতারিত হলে করণীয়

চলমান করোনা ভাইরাসের এই মহামারিতে অনলাইনে কেনাকাটার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে বহু মাত্রায়। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রতারণার ফাঁদ। হরহামেশাই শোনা যায় ফেসবুক কিংবা কোন গ্রুপের পেইজে যে পণ্য অর্ডার দেওয়া হয়েছিলো হঠাৎই আগাম অর্থ নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। আবার অনেক সময় অনলাইনে যে মানের পণ্য অর্ডার দেওয়া হয়েছিলো তা হাতে পাওয়ার পর ক্রেতার চোখ একেবারেই চড়কগাছ! এমন ভোগান্তির ক্ষেত্রে নেওয়া যেতে পারে আইনি প্রতিকার। চলুন জেনে নেওয়া যাক অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারিত হলে আইনি কি প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে।

একজন বিবেকবান নাগরিক হিসেবে যে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সচেতনতাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। আইনে ‘ক্রেতা সাবধানতা নীতি’ বা ক্যাভিয়েট এম্পটর একটা মতবাদ আছে। যেখানে ক্রেতাকে প্রতারণার শিকার হতে রক্ষার জন্য সচেতনতার উপর ব্যাপক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যদিও একজন অনলাইন কিংবা অফ লাইনের ক্রেতা হিসেবে কোনও প্রতারণার শিকার হোন তাহলে কয়েক ভাবে আইনের আশ্রয় নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

এই ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ ক্ষতিপূরণের মামলা করা যেতে পারে। ফৌজদারি আদালতে ৪২০ ধারার আওতায় প্রতারণার মামলা করা যেতে পারে। দ্যা সেলস অফ গুডস অ্যাক্টস এর আওতায় প্রতিকার পাওয়া যায়। চুক্তি আইনে প্রতিকার পাওয়া যায়। এমনকি প্রতিটি জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে।

বর্তমানে সামগ্রিক দিক পর্যালোচনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে অভিযোগ করাটাই সবচেয়ে কার্যকরী পন্থা। অনলাইনে প্রতারিত হলে সংশ্লিষ্ট সাইট বা গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগটি লিখিত আকারে ক্রয়ের রশিদ সহ যাবতীয় তথ্য সংযুক্ত করে ভোক্তা অধিকার কার্যালয়ের ফ্যাক্স বা ই-মেইলে দিতে হবে।

ঢাকা ছাড়া অন্য বিভাগের ক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বরাবর অভিযোগ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে পণ্য কেনার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের নিকট অভিযোগ জানাতে হবে। অধিদফতরে অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা নিরূপণে দুই পক্ষ থেকে শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানার আদেশ দিবেন। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জরিমানার টাকা আদায় শেষে ২৫ শতাংশ আদায়কৃত টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তা বা ক্রেতাকে প্রদান করা হবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৪ ধারা মতে- কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্রেতা সাধারণকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে কোনও পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের জন্য অসত্য বা মিথ্যা বিজ্ঞাপন দেন এক্ষেত্রে তাকে অনূর্ধ্ব ১ বছর কারাদণ্ড অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন- 
১. আপনি যেখান থেকে পণ্য কিনতে যাচ্ছেন, খেয়াল রাখতে হবে, তা নির্ভরযোগ্য কোনো পেজ বা সাইট কি না।

২. প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা যাচাই করা।

৩.অগ্রিম টাকা পরিশোধ করার বদলে ক্যাশ অন ডেলিভারি (পণ্য পাওয়ার সময় মূল্য পরিশোধ) পদ্ধতি অনুসরণ করা ভালো।

৪. পণ্য পাঠানোর সুবিধা আছে কি না, তা আগেই নিশ্চিত হয়ে নিন।

৫. স্বাভাবিকের চেয়ে খুব কম মূল্যে কোনো পণ্য অফার করলে তা এড়িয়ে চলাই ভালো। এরূপ ক্ষেত্রে বেশির ভাগই প্রতারণামূলক হয়ে থাকে।

৬. সাধারণত ফেসবুক পেজের চেয়ে ওয়েবসাইট কিংবা বাস্তবের দোকানভিত্তিক ই-কমার্স নির্ভরযোগ্য হয়ে থাকে। কারণ, একটি ফেসবুক পেজ যখন-তখন খোলা বা বন্ধ করা যায়। এ জন্য ওয়েবসাইট বেশি নির্ভরযোগ্য। তবে ওয়েবসাইটটি ক্লোন (অন্য ওয়েবসাইটের মতো একই চেহারার) করা কি না, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৭. ফেসবুক পেজে অর্ডার করার আগে রিভিউ, কমেন্ট ও পেজের অ্যাবাউট বিভাগ দেখে নিতে হবে। তার সঙ্গে পেজটি আগে অন্য কোনো নামে ছিল কি না, দেখে নিতে পারেন। কারণ, যে পেজগুলো থেকে প্রতারণা করা হয়, তারা সাধারণত নিয়মিত নাম পরিবর্তন করে থাকে।

৮. বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রটি গতিশীল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে কাজ করছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। এই সংগঠনের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০। তাদের ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা আছে। অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা এড়াতে তারা নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পণ্য বা সেবা ক্রয় করার জন্য উৎসাহিত করে থাকে, যাতে ক্রেতা কোনো ধরনের সমস্যায় পড়লে সহজে ব্যবস্থা নিতে পারেন।#

প্রজন্মনিউজ২৪/ফাহাদ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন