করোনা ভেঙ্গেছে স্বপ্ন তবুও দেখছে মানুষ

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল, ২০২১ ০৬:১৫:৪৮ || পরিবর্তিত: ২৮ এপ্রিল, ২০২১ ০৬:১৫:৪৮

করোনা ভেঙ্গেছে স্বপ্ন তবুও দেখছে মানুষ


অসীম আল ইমরানঃ
পৃথিবতে যখন সময় থমকে দাঁড়ায় -
নিরাশার পাখি দু'হাত বাড়ায়
খুঁজে নিয়ে মন নির্জন কোন
কি আর করে তখন
স্বপ্ন-স্বপ্ন-স্বপ্ন, স্বপ্ন দেখে মন ----নচিকেতা |

পৃথিবীতে মানুষের জন্ম-মৃত্যুর এই প্রক্রিয়া নিয়েই শুধু আসা যাওয়া নয়। এখানে আাসা-যাওযার মাঝে তো অনেক কিছু করতে হয়। জীবন নামক যন্ত্র কে পরিচালিত করতে, পরতে হয় সংকটে, করতে হয় সংগ্রাম, আসে নানা বাধা বিপত্তি। তার মাঝেই চালিয়ে যেতে হয় জীবন নাম গাড়িকে। কেউ পৃথিবীতে স্বপ্ন নিয়ে আসে না বরং পৃথিবী তাকে স্বপ্ন দেখায়।

জন্ম-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে নানা জাতির মানুষের সাথে উঠাবসা করতে হয় সকলকে। এখানে তারা সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে কাজকর্ম পরিচালনা করে থাকে। সবাই কোন না কোন সর্ম্পকের সাথে জড়িত থাকে, দেখা যায় আত্মীয়তার সম্পর্ক, ব্যবসায়িক সর্ম্পক, বন্ধুত্ব সর্ম্পকসহ আরও নানা মানব রচিত সর্ম্পক বিদ্যমান।

এই সুন্দর পুথিবীতে হঠাৎ আগমন করোনা নামক এক মহামারী ভাইরাসের যা সারা পৃথিবীকে করে তুলছে বিভীষিকাময়। যার আতংকে আজ সারা বিশ্বই আতংকিত, মানব দেহের সংর্স্পশে এসে বাসা বাধে দেহের ভিতরে। শুরু করে কার্যক্রম, ক্রমেক্রমে আক্রমন করে দেহের প্রাণ কেন্দ্র নামক অঙ্গ হৃৎপিন্ডকে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির উপর প্রভাব বিস্তার করে তাকে শেষ করে দেয়, দেয় অমানবিক কষ্ট, যন্ত্রনা, ক্ষণে ক্ষনে তাকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। হয়ত কেউ করোনার সাথে যুদ্ধে করে বেঁচে যায়, না হয় মৃত্যু নামক উপহারকে গ্রহণ করে বিদায় নিতে হয় এই সুন্দর পৃথিবী থেকে। তেমনি শুরু হয়েছে পৃথিবতে মৃত্যুক্ষণ এ যেন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।

দেহে থেকে প্রান চলে গেলে হয় লাশ কিন্তু করোনা অনেকেই জীবন্ত লাশ করে রেখে যাচ্ছে। অনেকের স্বপ্ন ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়েছে এই করোনা।

করোনাকালীন সময়ে জীবনযাপন নিয়ে কথা হয় পান্থপথের মোড়ে এক ভ্রাম্যমান চা বিক্রেতা আবুলের সাথে তিনি জানান, এ জীবনে অনেক কাজ করেছি একটু সুখ ও আয়েশের জন্য। জমানো টাকা যা ছিল শেষ করে ফেলেছি, পরিবারে অনেক গুলো খাওয়ার লোক, ভালো মন্দ না খেলেও তো ভাত টুকু খেতে হয়। পরিবারে কাজ করে আবুল ও তার স্ত্রী সালমা। সালমা কাজ করে মানুষের বাড়িতে গিয়ে এতে তাদের জীবন যাচ্ছিল কোনো রকম খেয়ে না খেয়ে। কিন্তু তা আর সহ্য হল না করোনার।

আসচ্ছে রমজান ঈদে বাড়ি যাওয়ার কথা বললে আবুল বলেন, টাকা পয়সা কামাই নাই, ঈদে বাড়ি গেলে অনেক টাকার দরকার হয়। বাড়ির জন্য কিছু না কিছু কেনাকাটা করতে হয়, তাছাড়া বাড়ি যাব কেমন করে?

এভাবেই স্বপ্নভঙ্গ করে গ্রামে চলে গেছেন, অনেকে মেসের ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে, চাকুরী হারিয়ে নানা প্রকার সমস্যায় পড়ে। হয়ত তারা শহরের ভাঙ্গা স্বপ্ন নিয়ে অন্য কোন জায়গায় আবার স্বপ্ন দেখা শুরু করবে। 

প্রজন্মনিউজ২৪

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন