দিনাজপুরে এক কাপড় ব্যবসায়ীর মানবতার গল্প

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল, ২০২১ ০৩:৪৭:৫৫ || পরিবর্তিত: ২৭ এপ্রিল, ২০২১ ০৩:৪৭:৫৫

দিনাজপুরে এক কাপড় ব্যবসায়ীর মানবতার গল্প

তাফহিমুল ইসলাম, দিনাজপুরঃ
কাপড় দোকানের সামনে সারি সারি শাক- সবজি সাজানো। বিক্রির জন্য নয় এসব শাক- সবজি। মার্কেটে কাজ করে এমন কর্মচারী, অটোওয়ালা, টেইলার্সের কারিগর, পাহারাদারসহ আয় কমে গেছে, ঘরে খাবার নেই। এমন ৪০০ মানুষের জন্য ফ্রি শাক-সবজি দিচ্ছেন এক কাপড় ব্যবসায়ী।
 
ব্যবসায়ীর নাম শাহ্ কামল। দিনাজপুর শহরের মালদহপট্টি এলাকায় আল‌-আমিন বস্ত্রালয় নামে কাপড়ের ব্যবসা করেন তিনি। 

ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় মানুষকে খাবার দেওয়ার কর্মযজ্ঞ শুরু করেন তিনি। প্রতিদিন ৪০০ মানুষকে সবজি দিয়ে সহযোগিতা করেন শাহ কামাল। বাহ্যিক দিক থেকে দেখলে মনে হবে কাপড়ের দোকানের সামনে ফুটপাতে সবজির দোকান সাজিয়ে বসেছেন। মানুষ আসছে প্রয়োজন মতো শাক-সবজি উঠিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে।

দেখে কৌতূহলী মনে হয়, কথা হয় দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শাহ কামালের সাথে। তিনি বলেন,"বিক্রির জন্য নয় ফ্রি দিচ্ছি"। তার কথা শুনে কৌতুহল আরো বৃদ্ধি পায়। সবকিছুই বিস্তারিত জানতে চাই তার কাছে। তিনি জানান, গরীব, অসহায়, দুস্থ, এই মার্কেটে কাজ করে এমন টেইলার্সের কারিগর, কাপড়ের দোকানের স্টাফ, বিভিন্ন দোকানের কর্মচারী, মার্কেটের পাহারাদারসহ ৪০০ লোককে আমি কাঁচাবাজার দেই। দুই বছর ধরে এভাবেই আমি মানুষকে সহযোগিতা করি। আমার দোকানের সামনে রাখা থাকে। তারা আসে তাদের প্রয়োজন মত নিয়ে যায়। তাছাড়া কিছু পথিক, আট-দশজন অটোওয়ালাও নেয়।

তিনি আরো জানান, আমি চেষ্টা করি আমার এলাকার মানুষকে খাওয়াতে। সবজির দাম অল্প, কিন্তু বাজারে কিনতে গেলে অভাবগ্রস্ত মানুষদের ১০ টাকার সবজি কিনে আনতে ২০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। এ কাজে আমাকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছে এটা আরও বাড়াতে বলে। আমি আমার এলাকায় করছি, খাওয়াচ্ছি। যদি অন্য মানুষেরা তাদের এলাকায় এমন কাজ করে। তাহলে আমি মনে করি গরিবদের জন্য ভালো হয়।

 শাহ কামালের সাথে কথা বলার সময় কিছু মানুষ সবজি বিক্রি করছে এমন ধারণা নিয়ে জিজ্ঞাসা করে কত করে দিচ্ছেন। কাপড় বিক্রি করতে থাকায় কর্মচারী বের হয়ে গিয়ে বলেন, এগুলা গরিব মানুষের জন্য। শুনে তারা অবাক হন। মানুষ কি এখনো এত ভালো আছে। এ ফ্রি সার্ভিস দেখে অবাক হওয়া আয়েশা আক্তার বলেন, নিশ্চয়ই এটা ভালো উদ্যোগ। নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য করতে চাওয়া আসলেই ভালো কিছু। আমি প্রথমে মনে করেছিলাম এখানে সবজি বিক্রি করতেছে।

সবজি নিতে আসা আসমা বেগম জানান, আমারা প্রতিদিন এখান থেকে মাছ, লালশাক, পাটশাক, ডাটাশাক, আলু যা থাকা সব ফ্রি ফ্রি নিয়ে থাকি। কোন টাকা নেয় না আমাদের কাছ থেকে।

মালদহপট্টি এলাকায় সেলাই এর কাজ করে রঞ্জিত। সেও আজকে সবজি নিয়েছেন এখান থেকে। কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, বিভিন্ন তরকারি-শাকসবজি আমাদের তিনি(শাহ কামাল)দিয়ে থাকেন এর বিনিময়ে তিনি টাকা নেন না। প্রতিদিনই এখানে অনেক সবজি থাকে। সবাই আসে নিয়ে যায়। আমিও এখান থেকেই নিই।

বেশ কয়েকজন স্থানীয়দের সাথে কথা হয় তারা জানান, শাহ কামাল বেশ কয়েক বছর ধরে প্রতিদিনই শাকসবজি যখন যেটা থাকে সব কিছুই ফ্রি দিয়ে থাকেন মানুষকে। আসলে এটা একটা মহৎ উদ্যোগ। সকলের দ্বারা এমন কাজ হয়না। 

প্রজন্মনিউজ২৪/এএআই

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ