গাইবান্ধায়

শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির লক্ষাধিক টাকা আত্মসাত, আজও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০২১ ১১:৩৫:৪৪

শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির লক্ষাধিক টাকা আত্মসাত, আজও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি


আনোয়ার হোসেন শামীম, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ  গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এফ হক উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি তদন্তে প্রমাণিত হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

আইনী কিংবা বিভাগীয় কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন দেয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিভাবকদের সুত্রে জানা গেছে, চন্ডিপুর এফ হক উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. মোজাম্মেল হক ও স্কুল শাখার শিক্ষক-কর্মচারীরা যোগসাজস করে বিগত ২০২০ সালে ১২০ জন শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। পর পর দু’ দফায় তারা একই ঘটনা ঘটায়। এভাবে তারা ৭ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেন। ভূয়া শিক্ষার্থী ছাড়াও বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ১২০জন শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বরের স্থলে শিক্ষক-কর্মচারীর বেশকিছু মোবাইল ফোনের নম্বর অর্থাৎ বিকাশ নম্বর দিয়ে ওই টাকাগুলো আত্মসাৎ করা হয়।

বিষয়টি জানতে পেরে অভিভাবক এবং সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সেসময় আত্মসাতের বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে সেসময় বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাহমুদ হোসেন মন্ডল। প্রতিবেদন দাখিলের ছয় মাসেও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় আভিভাবকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।
 
এ ব্যাপারে কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এমএ রউফ সরকার বলেন, বিষয়টি আমার সময়ে ঘটেনি। তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এ বিষয়ে তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. মোজাম্মেল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। ভুল বোঝাবুঝি থেকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাহমুদ হোসেন মন্ডল বলেন, যথাযথ তদন্ত করে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তারা পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। 

এব্যাপারে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. এনায়েত হোসেন বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। যা সুষ্পষ্ট নয়। তাই স্কুল খোলার অপেক্ষায় রয়েছি। পুনরায় সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মারুফ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। #

প্রজন্মিনউজ২৪/এফএম

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ