জরুরী সেবায় শিথিল

করোনা সংক্রমন রোধে কঠোর লকডাউন শুরু

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০২:১০:৪৫ || পরিবর্তিত: ১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০২:১০:৪৫

করোনা সংক্রমন রোধে কঠোর লকডাউন শুরু

নূর মোহাম্মদ, স্টাফ করোসপনডেন্ট : মহামারি করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ এর সংক্রমণ বাড়ায় সরকার কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের মোড়ে বসানো হয়েছে পুলিশি তল্লাশী চৌকি। রাস্তার মোড়গুলোতে দেয়া হয়েছে ব্যারিকেড। ভোর সাড়ে ছয়টার আগেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়েছে।

সরকার ঘোষিত আট দিনের লকডাউনের প্রথমদিন বুধবার সকাল থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে কঠোরতা অবলম্বন করছে সরকার। তবে জরুরী সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের যানবাহন, শ্রমিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে চলাচলে শিথিল রাখা হয়েছে।

রাজধানীর ঝিগাতলা, সায়েন্সল্যাব, হাতিরপুল, শাহবাগ বাংলামোটর, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অন্যদিন যানজট লেগে থাকলেও আজ সব পয়েন্টই যানবাহন ও পথচারী শূন্য। দু’একটি গাড়ী ও লোক দেখা গেলেই পুলিশ তাদের থামিয়ে দিচ্ছে। পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয়তা জেনে তারপর পথ অতিক্রম করার অনুমতি দিচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় মনে করলে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে।

দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, ‘সরকারের পক্ষ থেকে মানুষের জীবন রক্ষায় কড়া লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সরকারের কর্মসূচী বাস্তবায়নে পুলিশ বিভাগ থেকেও বেশ কিছু পরিকল্পনা ও দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আমরা দেশের মানুষের জীবন রক্ষা, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে তৎপর আছি। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মোটর সাইকেলে টহল, চেকপোস্ট স্থাপন, জরুরী সেবা প্রদানসহ বেশ কিছু কর্মকান্ডের মাধ্যমে আগামী আটদিনের লকডাউন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করবে।’

রাজধানীর সায়েন্সল্যাবে রিকসা যাত্রী মাসুদ খান জানান, ‘আমি একটি হাসপাতালে চাকুরী করি। লকডাউনে বাসা থেকে বের হতে না চাইলেও জরূরী সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর ফলে দায়িত্ব পালনে অফিসে যেতে হচ্ছে। পুলিশ ২ পয়েন্টে বের হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে। কার্ড দেখিয়েছি, যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।’

এদিকে সরকার এটিকে `কঠোর লকডাউন' হিসেবে বর্ণনা করা হলেও গার্মেন্টসসহ শিল্প কারখানা এবং ব্যাংক খোলা রয়েছে। এ দফায় `কঠোর লকডাউন' কার্যকর করতে সরকারের ১৩ দফা বিধিনিষেধে বলা হয়েছে- অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ঔষধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনা, চিকিৎসা সেবা, লাশ দাফন এবং টিকা কার্ড নিয়ে টিকার জন্য যাওয়া) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না।

সরকারী প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, করোনা ভাইরাসের সংক্রমন রোধে আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে কঠোর লকডাউন। তবে পরিস্থতি বিবেচনায় তা আরো বাড়তে পারে এমন আভাসও পাওয়া গেছে। এর আগে ৫ থেকে ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত বিধিনিষেধ দেয়া হলেও সেটি মোটেও কার্যকর হয়নি। পুলিশের তরফ থেকে ইতোমধ্যে বলা হয়েছে, বুধবার থেকে কঠোর লকডাউন কার্যকর করতে সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে তা বাস্তবায়নে এবার কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এজন্য ‘মুভমেন্ট পাস’ ছাড়া কাউকে বাড়ির বাইরে আসতে দেয়া হবে না বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে ভোরে বিভিন্ন চেকপোস্টে দেখা গেছে দু’একজন ছাড়া রাস্তায় চলাচলকারীদের কাছে পুলিশ ‘মুভমেন্ট পাস’ দেখতে চায়নি।

এদিকে পূর্ব ঘোষিত লকডাউনের কারণে ঢাকা থেকে ঢাকার বাইরে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কঠোর লকডাউনের ঘোষনার পর থেকেই বিভিন্ন পেশার লোকজন কর্মহীন হওয়ার আশায় মোটর সাইকেল, পিকাপ, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে রাজধানী ছাড়তে দেখা গিয়েছিল। এরফলে ঢাকার লোকবল অনেকটাই কমেছে। এর ফলে এবারের লকডাউন কার্যকর অনেকটা সহজ ও ফলপ্রসূ হবে মনে করছে নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ঠরা।

প্রজন্মনিউজ২৪/নূর মোহাম্মদ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন