আহমদ শফী হত্যা মামলায়;

মামুনুল-বাবুনগরীসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল, ২০২১ ০৫:৩৪:১৫ || পরিবর্তিত: ১২ এপ্রিল, ২০২১ ০৫:৩৪:১৫

মামুনুল-বাবুনগরীসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

হেফাজত ইসলামের সাবেক আমির আহমদ শফীকে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় সংগঠনটির আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ ৪৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আজ সোমবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল তৃতীয় জজ আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আল্লামা শফীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে হেফাজতের বর্তমান কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিবলু কুমার দের আদালতে মামলার আবেদন করেন তার শ্যালক মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয় মামলা আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে(পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে আহমদ শফীর বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর।

মামলায় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হককে আসামি করা হয়। অন্য অভিযুক্তরা হলেন- নাছির উদ্দিন মুনির, আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মীর ইদ্রিস, হাবিব উল্লাহ, আহসান উল্লাহ, জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, নুরুজ্জামান নোমানী, আব্দুল মতিন, মো. শহীদুল্লাহ, মো. রিজওয়ান আরমান প্রমুখ। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ৮০-৯০ জনকে আসামি করা হয়।

অপরদিকে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ এনে সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন দেশের ২৮ উলামা-মাশায়েখ।

বিবৃতিতে উলামারা বলেন, আল্লামা শফীর স্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বড় ছেলে এবং হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার শিক্ষকরা মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে সাক্ষ্য দিয়েছেন। অথচ দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এবং অদৃশ্য শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য একটি মহল দেশের শীর্ষ ও জননন্দিত আলেম-উলামার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং আমিরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ শীর্ষ মুরব্বিদের শানে বেয়াদবিমূলক বক্তব্য ও আচরণ করে যাচ্ছে। আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি। অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং দেশে শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী এই চিহ্নিত দালাল ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার জোর দাবি জানাচ্ছি।  

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, আল্লামা মুফতি আব্দুস সালাম চাটগামী, আল্লামা শায়েখ আহমদ (হাটহাজারী), আল্লামা নূরুল ইসলাম, আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, আল্লামা শায়েখ জিয়া উদ্দীন, আল্লামা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, আল্লামা আবুল কালাম, মাওলানা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা নোমান ফয়জী (মেখল), আল্লামা নূরুল ইসলাম আদীব, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া, মাওলানা হাফেজ নাজমুল হাসান, মুফতি হাবীবুর রহমান (নাজিরহাট), মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা আরশাদ রহমানী, মাওলানা আবদুল আউয়াল, মাওলানা অ্যাডভোকেট আবদুর রাকীব, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ মোমেনশাহী, মাওলানা আবদুর রহমান হাফেজ্জী, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী, মাওলানা ফয়জুল্লাহ সন্দ্বীপী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসায় এক ছাত্র বিক্ষোভের মুখে মাদ্রাসার সহকারী মহাপরিচালকের পদ থেকে আল্লামা আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীকে মাদ্রাসা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

পরের দিনও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মাদ্রাসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু আন্দোলনরত ছাত্রদের বিক্ষোভ বন্ধ না হওয়ায় পরের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে মহাপরিচালক আহমদ শফী নিজেই তাঁর পদ থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দেন।

পরবর্তী সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে আহমদ শফীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে আহমদ শফীকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
 


প্রজন্মনিউজ২৪/এএআই

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ