করোনা হলেই লম্বা একটা ঔষুধের ফর্দ লিখে দেওয়ার দরকার নাই

প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল, ২০২১ ০৯:০০:৫৭

করোনা হলেই লম্বা একটা ঔষুধের ফর্দ লিখে দেওয়ার দরকার নাই
ফ্লোরিডায় বসবাসরত ডা. রুমী আহমেদ জানতে চেয়েছেন- “আমাদের মুরুব্বি চিকিৎসক কেউ কি নাই যে একটু জোর গলায় বলতে পারেন কোভিড পজিটিভ হলেই সবাইকে লম্বা একটা ঔষুধের ফর্দ লিখে দেওয়ার দরকার নাই? কেউ কি একথাগুলো মাইক নিয়ে একটু বলবেন কভিডে মোনাস, ফেক্সো, জিঙ্ক, ভিটামিন ডি, সি, এজিথ্রোমাইসিবি/ ডক্সিসাইক্লিন, স্ক্যাবো, আভিগান, ক্ল্যাকসেন, রিভোকসিরিবান ইত্যাদি ঔষধগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই? এর মধ্যে কিছু কিছু ঔষধ বেশ ক্ষতিকরও হতে পারে?  হাসপাতালে ভর্তি রুগী ছাড়া ক্ল্যাকসেন অপ্রয়োজনীয় ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ? ” আমাদের চিকিৎসকরা ডা. রুমীর এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেবেন কিনা জানি না। তবে ঢাকার মিডিয়া এই প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এইা প্রশ্নগুলো নিয়ে মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচনা হওয়া  দরকার। ডা. রুমীর পুরো স্ট্যাটাসটা এখানে তুলে দিলাম।   “বাংলাদেশে কি এখন বেশ কয়েকটা ফিল্ড হাসপাতাল খোলার সময় হয়নি? যেভাবে খোলা হয়েছিল বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে গত বছর! এই হাসপাতালগুলোতে দরকার খালি চারটা জিনিস - মাথার উপর ছাদ, জনপ্রতি একটা বিছানা, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সাপ্লাই আর প্রেডনিসোলোন ট্যাবলেট!  বাংলাদেশ সরকারের একটা কোভিড টাস্ক ফোর্স আছে - ওরা কি এখনও বিদ্যমান আছেন? ওখান থেকে একটা নিৰ্দেশনা কি আসতে পারে না যে কোভিড টেস্ট পজিটিভ হলেই মুড়িমুড়কির মতো সিটি স্ক্যান চেষ্ট, সিআরপি, ফেরিটিন, ডিডাইমার ইত্যাদি ব্লাড টেস্ট করার কোনো দরকার নাই?  কে বলবেন, কোভিড নেগেটিভ হলো কিনা দেখার জন্য টেস্ট করে টেস্ট কিট নষ্ট করার দরকার নাই! আমাদের মুরুব্বি চিকিৎসক কেউ কি নাই যে একটু জোর গলায় বলতে পারেন কোভিড পজিটিভ হলেই সবাইকে লম্বা একটা ঔষুধের ফর্দ লিখে দেবার দরকার নাই? কেউ কি একথাগুলো মাইক নিয়ে একটু বলবেন কভিডে মোনাস, ফেক্সো, জিঙ্ক, ভিটামিন ডি, সি, এজিথ্রোমাইসিবি/ ডক্সিসাইক্লিন, স্ক্যাবো, আভিগান, ক্ল্যাকসেন, রিভোকসিরিবান ইত্যাদি ঔষধগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই? এর মধ্যে কিছু কিছু ঔষধ বেশ ক্ষতিকর ও হতে পারে?  হাসপাতালে ভর্তি রুগী ছাড়া ক্ল্যাকসেন অপ্রয়োজনীয় ও ঝুঁকির? আমাদের কি এই পাবলিক হেলথ সার্ভিসটা দেয়ার একজন ও লোক নেই যে বলতে পারবেন যে কোভিড এ একটি ঔষধ ই প্রয়োজন হয় এবং তা কাজ করে রুগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৪% এর নিচে নেমে গেলে! এর আগে না এবং এই ঔষধটি হচ্ছে প্রেডনিসোলোন বা ডেক্সামেথাসোন। এর বাইরে আর কোন কার্যকরী ঔষধ নেই! বাকি লম্বা ঔষধের ফর্দ লিখে আপনার শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতি করা হচ্ছে! প্রশ্ন করার কি কেউ নেই - কোন বিবেকে যুক্তিতে টেস্ট ইত্যাদি না করে রোগিকে এলটিপ্লেজ নামের ভয়ঙ্কর রিস্কি ওষুধ দেয়া হয়? মেরোপেনেম টাইপের এন্টিবায়োটিক আমাদের লাষ্ট রিসোর্ট - লাস্ট এন্টিবায়োটিক! আর সব এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়ে গেলে খুব সিলেকটিভ কেইসে এটা ইউজ করার কথা| এটার রেজিস্ট্যান্স ডেভেলপ হয়ে গেলে রেজিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়ার সাথে যুদ্ধ করার জন্য আমাদের হাতে আর কোন অস্ত্র থাকবে না! রুগী  হাসপাতালে ভর্তি হতে না হতেই কেন গণহারে মেরোপেনেম শুরু করে দিতে হবে? টোসিলিজুম্যাব দামি ঔষধ - খুব সিলেক্ট কেইসে এক ডোজ বা খুব বেশি হলে দুই ডোজ দেয়া যায় অল্প কিছু রুগীকে, কিন্তু ডেইলি টোসিলিজুম্যাব- এই বিজ্ঞানটার আবিষ্কার কোথায় কবে হলো?  Esbriet আর ofev - এই দুটো নুতন ঔষধ - একটা বিশেষ টাইপের লাঙ ফাইব্রোসিস এর পেশেন্ট এর জন্য! আমরা ছয় মাস ধরে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এবং এটা নিশ্চিত করে যে এটা অন্য কিছু না বা অন্য ধরণের ফাইব্রোসিস না - আমরা এ ঔষুধ টা শুরু করি! শুরু করার পর প্রতি দুই সপ্তাহ পর পর রক্ত পরীক্ষা করি অন্তত দুবছর - কারণ এই ঔষধ এ লিভার ড্যামেজ হতে পারে! আমি এখন দেখছি অনেক রুগীকে ক্যাজুয়ালি এই ঔষধটা প্রেস্ক্রাইব করা হচ্ছে কোভিড ডায়াগনোসিস হলেই! একথা বলার কি কেউ নেই কভিডের ৯০% এর বেশি রুগীর কোন সিমটম হবে না ও কোন ঔষধ লাগবে না? কে বলবেন, কোভিড প্রতিরোধে শুধু লাগবে ডাবল মাস্ক পড়া নাক মুখ ঢেকে আর ইনডোর গ্যাদারিং পরিহার করা?   প্রতিদিনই একজন দুজন করে পরিচিত মানুষ মারা যাচ্ছেন!” প্রজন্মনিউজ২৪/লিংকন

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন