দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের জন্য আবিষ্কার হলো ‘টকিং গ্লাস’

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ, ২০২১ ১১:২৯:৪৮ || পরিবর্তিত: ২৫ মার্চ, ২০২১ ১১:২৯:৪৮

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের জন্য আবিষ্কার হলো ‘টকিং গ্লাস’

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের কষ্ট লাঘব এবং স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের তিন শিক্ষার্থীদের সমান্বয়ে আবিষ্কার হলো ‘টকিং গ্লাস’। ফলে অন্ধ ব্যক্তিরাও স্বাভাবিক মানুষের মতোই পড়াশুনা ও পথ চলতে পারবেন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ সরকারে আইসিটি বিভাগের এটুআই (অ২ও) এর ডিজেবিলিটি চ্যালেঞ্জ ফান্ডে ২০১৮ সালে এই  প্রকল্পটি গৃহীত হয় যার সুপারভাইজার হিসেবে ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হোসাইন ফয়সাল, উদ্যোক্তা হিসেবে ছিলেন একই বিভাগের শিক্ষার্থী সোহেল মাহমুদ, রিপন চন্দ্র দাস ও বিপুল মন্ডল।

২ বছর পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে এই প্রযুক্তির কার্যকারী ব্যবহারে সফল হন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক টিম। এটি অন্ধ মানুষের জন্য একটি লাইভ শোনার যন্ত্র যা ব্যক্তির সামনে সমস্ত লেখা পড়তে পারে, যে কোনো বস্তু শনাক্ত করতে পারে। উদ্ভাবকরা এই ডিভাইসটিকে ‘টকিং গ্লাস’ নামকরণ করেছেন। এই নতুন উদ্ভাবনের অনুরূপ কোনো ডিভাইস বা প্রযুক্তি, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি বলে দাবি করেছেন তারা।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স ও ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এই ‘টকিং গ্লাসে’। ব্যবহারকারীরা এটা চশমা হিসেবে  ব্যবহার করবেন। চোখের সামনে লেখার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা চশমায় সংযুক্ত থাকবে অত্যাধুনিক ক্যামেরা। ডিভাইসটি একটি স্থিরচিত্র নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে (১ সেকেন্ডের মধ্যে)  চিত্রের লেখা প্রসেস করে ব্যবহারকারীকে পড়ে শুনাবে।

এ বিষয়ে ‘টকিং গ্লাস’ ডিভাইসের প্রধান উদ্যোক্তা সোহেল মাহমুদ বলেন, আমাদের দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রায় ১ কোটি নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে পরিবারের বোঝা হয়ে আছেন। আমরা তাদেরকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে চাই। আমাদের ইচ্ছা আছে ডিভাইসটিতে আরো নতুন কিছু ফিচার যুক্ত করার। ফান্ডিং জটিলতার কারণে সেটা করতে পারছি না। তবে আশাকরি দ্রুত এই সমস্যা কাটিয়ে ডিভাইসটি বাজারে ছাড়তে পারবো।

টকিং গ্লাস টিমের সুপারভাইজার কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, আমরা দুই বছর কাজ করে ব্লাইন্ড পিপলদের জন্য এই ডিভাইসটি আবিষ্কার করেছি। প্রাথমিকভাবে ডিভাইসটিতে ৬ টি  ফিচার যুক্ত করেছি ফলে ব্লাইন্ড পিপলরা পড়াশুনা, চলাফেরা, মুদ্রা শনাক্তকরণ, অবস্থান ও সামনে থাকা অবজেক্ট শুনতে পাবে। ফান্ডিং পেলে আরো বেশকিছু ফিচার যুক্ত করে খুব শীঘ্রই বাজারে ছাড়তে পারবো বলে আশা করছি।

প্রজন্মনিউজ২৪/সাইফুল    

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ