জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার চূড়ান্ত অনুমোদন

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ১১:০১:৩৭

জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার চূড়ান্ত অনুমোদন

জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকাটিও জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেল যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) গতকাল শনিবার এ অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ফাইজার ও মডার্নার টিকা অনুমোদন দেয়। খবর এএফপি ও বিবিসির।

যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে এ পর্যন্ত যতগুলো টিকার অনুমোদন পেয়েছে, সবই দুই ডোজের। অর্থাৎ এক ডোজ নেওয়ার কিছুদিন পর দ্বিতীয় ডোজ নিতে হয়। কিন্তু জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা এক ডোজের। অর্থাৎ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এক ডোজই যথেষ্ট। তা ছাড়া এ টিকা দামেও তুলনামূলক সস্তা, সংরক্ষণেও সুবিধা আছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জনসনের টিকা আগামী সপ্তাহের শুরুতে পাওয়া যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ টিকার অর্ডার দিয়েছে। এ ছাড়া কোভ্যাক্স কর্মসূচির অধীন দরিদ্র দেশগুলোয় করোনার টিকা সরবরাহে জনসনের এই টিকার ৫০ কোটি ডোজ অর্ডার দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী, ভোক্তা ও শিল্প প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের গঠিত ২২ সদস্যের কমিটি দীর্ঘ ভার্চ্যুয়াল বৈঠক শেষে জনসনের টিকার অনুমোদনে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে নিজেদের টিকার কার্যকারিতাসংক্রান্ত ফলাফল গত মাসে প্রকাশ করে জনসন অ্যান্ড জনসন। ওষুধ উৎপাদনকারী বৃহৎ প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান জ্যানসেন বলেছে, তারা যেসব তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে, সে অনুযায়ী গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রেও এ টিকা উচ্চমাত্রায় কার্যকর।

জনসনের টিকার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়কে স্বাগত জানিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘এটি সব মার্কিনের জন্য দারুণ খবর। এটি উৎসাহব্যঞ্জক এক অগ্রগতি।’ তবে করোনার সংক্রমণ রোধে এখনো অনেক লড়াই চালিয়ে যেতে হবে বলে সতর্ক করে দেন।

যুক্তরাষ্ট্রে জনসনের টিকা আগামী সপ্তাহের শুরুতে পাওয়া যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ টিকার অর্ডার দিয়েছে। এ ছাড়া কোভ্যাক্স কর্মসূচির অধীন দরিদ্র দেশগুলোয় করোনার টিকা সরবরাহে জনসনের এই টিকার ৫০ কোটি ডোজ অর্ডার দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

নিজেদের উৎপাদিত টিকার কার্যকারিতা নিয়ে আগেই এফডিএর কাছে তথ্য-উপাত্ত দাখিল করেছে জনসনের স্বত্ত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান বেলজিয়ামভিত্তিক জ্যানসেন। পর্যালোচনা শেষে এই টিকার কার্যকারিতা নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্যসংবলিত নথিও প্রকাশ করে এফডিএ। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি এ উপসংহারে আসে যে করোনার উপসর্গযুক্ত ও গুরুতর অসুস্থতা—উভয় ক্ষেত্রে জনসনের টিকার কার্যকারিতা প্রমাণিত।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক ডোজের এই টিকাও বেশ নিরাপদ ও কার্যকর। ফাইজার ও মডার্নার টিকার অর্থসাশ্রয়ী বিকল্প হবে এটি। আর তা সংরক্ষণ করা যাবে রেফ্রিজারেটরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায়; প্রয়োজন পড়বে না ফ্রিজার বা বিশেষ কোনো সংরক্ষণাগারের।

যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে চালানো জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার ট্রায়ালে (মানবদেহে পরীক্ষা) দেখা গেছে, করোনার তীব্র সংক্রমণে এটি ‘উচ্চমাত্রায় একই রকম’ কার্যকর। তবে সার্বিকভাবে সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে এটি কম কার্যকর হয়েছে। দেশ দুটিতে ভাইরাসের নতুন ধরনগুলোকে প্রভাব বিস্তারকারীর ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে।

এটি সব মার্কিনের জন্য দারুণ খবর। এটি উৎসাহব্যঞ্জক এক অগ্রগতি। তবে করোনার সংক্রমণ রোধে এখনো অনেক লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, গুরুতর অসুস্থতা প্রতিরোধে জনসনের টিকা ৮৫ শতাংশের বেশি কার্যকর। তবে সার্বিকভাবে কার্যকর ৬৬ শতাংশ। সার্বিক অবস্থার মধ্যে মধ্যম মাত্রার অসুস্থতাও অন্তর্ভুক্ত। টিকা গ্রহণের ন্যূনতম ২৮ দিন পরের অবস্থাও বিবেচনায় আনা হয়েছে এখানে। যাঁরা এ টিকার ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের কেউ টিকা নেওয়ার ২৮ দিন পর মারা যাননি বা হাসপাতালে ভর্তি হননি।

জনসন অ্যান্ড জনসন বলেছে, আগামী মাসের মধ্যে দুই কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আগামী জুনের মধ্যে ১০ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি চুক্তির আওতায় তারা এ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা প্রতিরোধে যেখানে ফাইজার ও মডার্নার টিকার দুই ডোজ প্রয়োজন, সেখানে জনসনের টিকা শুধু এক ডোজই লাগবে না; বরং এর কার্যকারিতার সুফল হিসেবে টিকাদানের জন্য তুলনামূলক কম চিকিৎসাকর্মী নিয়োগ দেওয়াই যথেষ্ট হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে সাড়ে ছয় কোটির বেশি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দৈনিক ১৩ লাখের মতো মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটিতে নতুন রোগী, হাসপাতালে ভর্তির হার ও কোভিড-১৯-এ মৃত্যুর ঘটনা কম দেখা যাচ্ছে। তবে করোনাভাইরাসের রূপান্তর এ অগ্রগতির জন্য এখনো হুমকি বলে সতর্ক করে যাচ্ছেন শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

প্রজন্মনিউজ২৪/এমএইচটি

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ