আদলতের রায় অপরাধীকে পড়তে হবে বই

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ০৫:০৮:০৭ || পরিবর্তিত: ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ০৫:০৮:০৭

আদলতের রায় অপরাধীকে পড়তে হবে বই

বাড়িতে বসেই ভোগ করবেন সাজা অপরাধী। সাজার দিনগুলোতে পড়তে হবে দশটি নিদিষ্ট বই সাথে মানতে হবে আট শর্ত। শর্ত ভঙ্গ করলে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে থাকতে হবে কারাগারের অভ্যান্তরে। সবটা সময় নজরদারি রাখবে সমাজসেবা অধিদফতরের প্রবেশন অফিসার।

গতকাল (২৩ ফেব্রুয়ারি) যশোরে মাদক মামলায় দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত পারভীর বেগমকে এমন দৃষ্টান্তমূলক রায় দেয়ন জেলা যুগ্ম দায়রা জজ দ্বিতীয় আদলতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুগ্ম দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আইয়ুব খান বাবুল।

 

রায় অনুযায়ি যে বইগুলো পড়তে হবো - জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি, নীলিমা ইব্রাহিমের আমি বীরঙ্গনা বলছি, মালেকা বেগমের মুক্তিযুদ্ধে নারী, মুহাম্মদ জাফর ইকবালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আনিসুল হকের মা, জহির রায়হানের আরেক ফাগ্লুন, একুশের গল্প, সেলিনা হোসেনের নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ও যাপিত জীবন, শওকত ওসমানের আর্তনাদ ও সৈয়দ শামসুল হকের আরও একজন।

 

বাকি শর্তসমূহ- সমাজসেবা অধিদফতরের প্রবেশন অফিসারের নজরদারিতে বাড়িতে থেকে কোনো প্রকার অপরাধের সাথে জড়ানো যাবে না, সর্বত্র শান্তি বজায় রাখবেন এবং সকলের সাথে সদাচারণ করবেন, আদালত অথবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাকে কখনো তলব করলে যথাস্থানে হাজির হবেন, কোনো প্রকার মাদক সেবন, বহন, সংরক্ষণ এবং সেবনকারী, বহনকারী ও হেফাজতকারীর সাথে মেলামেশা বা চলাফেরা করতে পারবেন না, আদালত কর্তৃক প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে থেকে নিজের বাসস্থান ও জীবন ধারণের উপায় সম্পর্কে অবহিত করবেন, এই সময়কালীন প্রবেশন অফিসারের লিখিত অনুমতি ব্যতীত নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না।

 

আইনবিদরা মনে করেন,  আলতের এমন উদ্যোগ খুবই ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক। এতে সমাজে অপরাধে প্রবণতা কমবে। কল্যাণ আসবে পরিবার ও সমাজে ।

প্রজন্মনিউজ২৪/এসএ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন