বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র: কাটা হয়েছে ছক, বিশ্রামে দুই ইউনিট

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ০৩:৪৪:০৯

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র: কাটা হয়েছে ছক, বিশ্রামে দুই ইউনিট

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের একমাত্র কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দেশর উত্তরাঞ্চলের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। কয়লার স্বল্পতার কারণে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মধ্যে মাত্র একটি ইউনিট আংশিক চালানো সম্ভব হবে। বাকি দুটি ইউনিট সারা বছরই থাকবে বিশ্রামে। আসছে গ্রীষ্ম মৌসুম, সেচ ব্যবস্থা এবং রমজানের বিদ্যুৎতের চাহিদা মেটাতে ৩৫৪ দিনের  ছক কেটেছে সরকার। 

 

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসইন  জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বছরের ৩৫৪ দিন চালানের একটি ছকে তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে গ্রীষ্ম, সেচ ও রমজানের সময ১০৯ দিনের জন্য খানিকটা বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। বাকি ২৪৫ দিন উৎপাদন কমিয়ে আনা হবে। গত ১২ জানুয়ারি থেকে আগামী ৩০ এপ্রিল এই ১০৯ দিন কেন্দ্রটি ১৮০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এ জন্য প্রতি দিন ১ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন করে কয়লা সরবরাহ করা হচ্ছে। এই সময়ের জন্য মোট ২ লাখ ১২ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হবে। এখন কোল ইয়ার্ডে কয়লা মজুত রয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪ মেট্রিক টন।। এছাড়া ১ মে থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১৬০ থেকে ১৮০ মেগাওয়াট লোডে কেন্দ্রটি চালানো হবে। তখন দৈনিক কয়লার প্রয়োজন হবে এক হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। আর ১ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রটি চালানো হবে ১৫০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট লোডে। তখন কয়লার প্রয়োজন হবে দৈনিক ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন।

 

তিনি জানান,  বড় পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট।  এরমধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট করে  মোট ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি কেন্দ্র আগেই বড় পুকুরিয়াতে ছিল।  এর বাইরে নতুন করে আরও একটি ২৭৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিট নির্মাণ করা হয়েছে।  কিন্তু তিনটি ইউনিটের মধ্যে প্রথম দুটি ইউনিট সারা বছরই বন্ধ থাকে। তৃতীয় ইউনিটটিও সারা বছর গড়ে অর্ধেক বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে না।

 

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্র জানায়,  উত্তরাঞ্চলের চাহিদার তুলনায় কম  উৎপাদন হওয়ায় বিদ্যুতের যোগান অন্য এলাকা থেকে সরবরাহ করতে হয়। এটি করতে গিয়ে রংপুর এবং রাজশাহী অঞ্চলে লো ভোল্টেজ দেখা দেয়। এ কারণে ওই অঞ্চলের জন্য একটি একক (একমাত্র) বিদ্যুৎকেন্দ্র হলেও বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রটিকে চালিয়ে রাখা জরুরি হয়ে পড়ে।

 

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবির) সূত্র জানায়,  আমদানি করা কয়লা দিয়ে চালানোর কোনও উদ্যোগও বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রে ফলপ্রসূ হওয়ার নয়। বাংলাদেশে এখন জলপথে বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করা হয়। কয়লার বিশাল জাহাজ দক্ষিণ থেকে উত্তরে যাওয়ার মতো নাব্য নদীতে নেই। এছাড়া বড়পুকুরিয়া পর্যন্ত কোনও রেল লাইনও নেই, তাছাড়া দেশে কখনও রেল ওয়াগনে কয়লা পরিবহন করা হয় না। ফলে এই অঞ্চলে কয়লা না পাওয়া গেলে ভবিষ্যতেও বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে এভাবেই অলস বসে থাকতে হবে।

প্রজন্মনিউজ২৪/এসএ

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন