সংশোধিত হচ্ছে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা,২০২০

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ০৪:৪৪:১৫

সংশোধিত হচ্ছে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা,২০২০

বিশ্বজুড়ে এখন ডিজিটাল ব্যবসা বা ই-কমার্সের জয়জয়কার। কোভিড-১৯ আসার পর এই মাধ্যম ব্যবহার করে ঘরে বসেই পণ্য কিনেছেন মানুষ, এখনো কিনছেন। এতে বাজারে গিয়ে কেনাকাটার যেমন ঝক্কি কমছে, মানুষের সময়ও বাঁচছে।

এ সুবিধার বিপরীত চিত্রও আছে। পণ্য কেনার জন্য অগ্রিম টাকা দিয়েও ভোগান্তিতে পড়েন অনেকে। পণ্য পাচ্ছেন না, আবার টাকাও ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। অনেক ডিজিটাল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকলাপ স্বচ্ছ নয় বলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের জবাবদিহিও হয় না। সে জন্য এই সেবার অসুবিধার দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। নির্দেশিকার একটি খসড়া তৈরি করে মন্ত্রণালয় মতামতের জন্য গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে পাঠিয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, ক্রেতা ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং বা নগদ—যেকোনো মাধ্যমে অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করলে এবং বিক্রেতা কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে মূল্য পরিশোধের সাত দিনের মধ্যে ক্রেতার পুরো টাকা ফেরত দিতে হবে। আর ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো চার্জ (মাশুল) লাগলে তা মার্কেটপ্লেস বা বিক্রেতাকে বহন করতে হবে। মূল্য ফেরতের বিষয়টি ক্রেতাকে ফোন, ই-মেইল বা অন্য কোনো মাধ্যমে জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ ফেরত না পেলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করতে পারবেন ক্রেতা।

দেশে বর্তমানে ডিজিটাল ব্যবসা চলছে এখন জাতীয় ডিজিটাল কমার্স (সংশোধিত) নীতিমালা, ২০২০-এর আওতায়। কিন্তু এর আওতায় কোন কোম্পানি কীভাবে পরিচালিত হবে, এখন সেই নির্দেশনা নেই। ফলে গোটা ডিজিটাল ব্যবসা খাত নিয়েই জটিলতা দেখা দিয়েছে। কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও জমছে অভিযোগের পাহাড়।

দেশে বর্তমানে ডিজিটাল ব্যবসা চলছে এখন জাতীয় ডিজিটাল কমার্স (সংশোধিত) নীতিমালা, ২০২০-এর আওতায়। কিন্তু এর আওতায় কোন কোম্পানি কীভাবে পরিচালিত হবে, এখন সেই নির্দেশনা নেই। ফলে গোটা ডিজিটাল ব্যবসা খাত নিয়েই জটিলতা দেখা দিয়েছে। কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও জমছে অভিযোগের পাহাড়।

জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব মো. জাফরউদ্দীন বলেন, ‘সবার মতামত নিয়ে আমরা একটা নির্দেশিকা তৈরি করছি। আশা করছি আগামী মাসেই তা চূড়ান্ত হবে। তখন তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।’

খসড়ায় বলা হয়, পণ্য বা সেবা কেনাবেচা, ফেরত ও পরিবর্তনের শর্ত বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে বা মার্কেটপ্লেসে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। পণ্য বা সেবা বিক্রি বা প্রসারের জন্য কোনো ধরনের লটারি বা লটারিজাতীয় কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে। কোন পণ্যের স্টক কত, তা-ও জানাতে হবে গ্রাহকদের।

পণ্য স্টক করার জন্য বিক্রেতার নিজস্ব গুদামঘর থাকতে হবে। অন্য বিক্রেতার পণ্য নিজেদের ই-কমার্স সাইটে বিক্রি করলে কী পরিমাণ পণ্য মজুত আছে, তার ওপর নির্ভর করেই ক্রেতাদের কাছ থেকে ক্রয়াদেশ

নিতে হবে। কোনো তৃতীয় পক্ষের পণ্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি করা হলে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ থাকতে হবে।

ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রেতা বা গ্রাহকদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য নেয়। এ তথ্যের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, কী কী ধরনের তথ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সংগ্রহ করতে পারবে, তথ্য কোথায় সংরক্ষিত থাকবে, পরে সেগুলো কোথায় ব্যবহৃত হবে—এসব বিষয়ে ক্রেতাদের পূর্বানুমতি নিতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহবিষয়ক শর্তগুলো ক্রেতারা যে দেখেছেন, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওয়েবসাইটে চেক বক্স থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের ভার্চ্যুয়াল ওয়ালেট তৈরি করা যাবে না এবং ক্রেতাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো পণ্য কেনার জন্য বাধ্য করা যাবে না।

খসড়ায় বলা হয়েছে, পণ্যের মূল্য পরিশোধের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য পৌঁছাতে হবে সরবরাহকারী বা সরবরাহের জন্য নিয়োগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের কাছে। ক্রেতাকে তা মোবাইলের খুদে বার্তা (এসএমএস) দিয়ে তা জানাতে হবে।

ক্রেতার কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেওয়া হলে এবং ক্রেতা-বিক্রেতা একই শহরে অবস্থান করলে অগ্রিম নেওয়ার ৫ দিন এবং ভিন্ন শহরের হলে ১০ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে হবে। যেসব পণ্যের ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি রয়েছে, সরবরাহের সময় সেগুলোর কার্ড ক্রেতাকে দিতে হবে। সেই কার্ডে উল্লেখ থাকতে হবে কত দিন এবং কোথা থেকে এই সেবা পাওয়া যাবে।

ক্রেতারা যাতে সহজে যেকোনো বিষয়ে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন, সে জন্য ক্রেতাসংখ্যার আনুপাতিক হারে কাস্টমার কেয়ারে কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। যেকোনো অভিযোগ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের ব্যবস্থা করতে হবে।

বলা হয়েছে, ক্রেতা যাতে সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সে জন্য পণ্যের মূল্য ও সব ধরনের করের কথা ওয়েবসাইটে উল্লেখ করতে হবে। এ ছাড়া মার্কেটপ্লেসে বিক্রয়যোগ্য পণ্য বা সেবার যথাযথ বিবরণ, মূল্য এবং পণ্য পৌঁছানোসহ অন্যান্য খরচের কথা সুস্পষ্টভাবে জানাতে হবে। পণ্যের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখও জানাতে হবে। কোনো নকল বা ভেজাল পণ্য প্রদর্শন করা যাবে না।

বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে নিবন্ধন নম্বর, কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের নিবন্ধন নম্বর এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সদস্য নম্বর উল্লেখ করতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন