অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে সয়াবিন তেলের দাম

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী, ২০২১ ০৩:৩৯:২০

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে সয়াবিন তেলের দাম

অতীতের রেকর্ড ভেঙেছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটতে থাকা ভোজ্যতেলের দামে এখন নাকানি-চুবানি খাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

ভ্যাট ও ট্যাক্স কমিয়ে দাম নাগালের মধ্যে রাখার পরামর্শ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংগঠন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাবের।

দেশে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েই চলছে। গড়েছে রেকর্ডও। গত ১৫ জানুয়ারির পর বাজারজাত করা এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৩৫ টাকা। আর পাঁচ লিটারের দাম ৬৬০ টাকা। পরিসংখ্যান বলছে গত পাঁচ মাসে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক মাসে অন্তত তিন দফায় বোতল ও খোলা উভয় ধরনের সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে পাম অয়েলের দামও। প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩২ টাকা। পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবির হিসেবে এক বছর আগের তুলনায় বাজারে এখন সয়াবিনসহ ভোজ্যতেলের দাম ১৯ থেকে ২৩ শতাংশ বেড়েছে।

বিক্রেতারা বলেন, রূপচাঁদা তেলের সর্বশেষ দাম ৫ লিটার ৬৬০টাকা আর এক লিটার ১৩৫ টাকা। কোম্পানিগুলো একদিন পর পর এসে বলে লিটারে ৫ টাকা করে বেড়েছে। ক্রেতারা বলেন, আমাদের কাজ নেই। আর এদিকে বাজারের পণ্যের দাম বাড়ছে। এসব নিয়ে আমরা খুব হতাশার মধ্যে আছি।

পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। তিনি জানান, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করছে আমদানিকারকরা।
 
পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমরা অনেক দাম দিয়ে তেল ক্রয় করেছি। পাইকারি বাজারে প্রতি মণ তেল ৪,৪০০ টাকা করে বিক্রি করছি। আজকে আমরা লস দিয়ে প্রতি মণ ৪,৩৮০০ টাকা করে বিক্রি করছি। তবে বোতলের তেলগুলো আমরা বিক্রি করি না।

তবে এ নিয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও কোনও কোম্পানিই বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব সভাপতি বলছেন, তেলের মতো নিত্য পণ্যের চড়া দাম মানুষের কষ্ট বাড়াবে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, তেলের তিন স্তরের রেট দিতে হয়। এটি মনে হয় সঠিক নয়। তাই ভ্যাট শুল্ক কমিয়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যায় কিনা তা ভাবা দরকার।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও আমদানিকারক ও সরকারের যৌথ চেষ্টায় দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

 প্রজন্মনিউজ২৪/গাজীআক্তার

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন