আয়োডিন দাম কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী, ২০২১ ০৩:৩১:১২

আয়োডিন দাম কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ

আয়োডিন দাম কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিসিক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিসিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ তৈরি কার্যক্রমের মাধ্যমে আয়োডিনের ঘাটতি পূরণ (সিআইডিডি) প্রকল্প স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে পটাসিয়াম আয়োডেটের (আয়োডিন) দাম কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করার বিষয়টি বিসিকের ৮টি লবণ জোনে কর্মরত কর্মকর্তা ও লবণ মিল মালিকগণকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

খাবার লবণ আয়োডিনযুক্তকরণে ব্যবহৃত হয় পটাসিয়াম আয়োডেট। পটাসিয়াম আয়োডেট বাংলাদেশে উৎপাদন হয় না। বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। প্রতি টন লবণ পরিমিত মাত্রায় আয়োডিনযুক্ত করতে ৭০ থেকে ৯০ গ্রাম পটাসিয়াম আয়োডেটের প্রয়োজন হয়। প্রতিবছর লবণে আয়োডিনযুক্তকরণে প্রায় ৩০ মেট্রিক টন পটাসিয়াম আয়োডেট ব্যবহৃত হয়।

একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিদেশ থেকে পটাসিয়াম আয়োডেট আমদানি করে লবণ কারখানার চাহিদা অনুযায়ী সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে পটাসিয়াম আয়োডেট সরবরাহ করে বিসিক।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে পটাসিয়াম আয়োডেটের দাম প্রতি কেজি চার ৭০০ টাকা থেকে কমিয়ে তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতে লবণ কারখানাসমূহকে সহায়তার অংশ হিসেবে পটাসিয়াম আয়োডেটের দাম আরেক দফা কমিয়ে প্রতিকেজি আড়াই হাজার টাকা মূল্যে সরবরাহের নির্দেশ প্রদান করেন বিসিক চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসান।

দেশের লবণশিল্পকে বাঁচাতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে এটি একটি অন্যতম পদক্ষেপ। শতভাগ মানুষকে পরিমিত মাত্রায় আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে বিসিক। পটাসিয়াম আয়োডেটের মূল্যহ্রাস লবণশিল্পকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। লবণ কারখানা মালিকগণ স্বপ্রণোদিত হয়ে পরিমিত মাত্রায় (উৎপাদনকালে ৩০-৫০পিপিএম/প্রতি কেজিতে ৩০-৫০ মিলিগ্রাম) লবণে আয়োডিন মিশ্রণ নিশ্চিত করবে বলে বিসিক কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে।

উল্লেখ্য, জাতীয় লবণনীতি অনুযায়ী শিল্প মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনায় বিসিক লবণ শিল্পের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকে। কক্সবাজারে অবস্থিত বিসিকের লবণ শিল্পের উন্নয়ন কর্মসূচি কার্যালয়ের আওতাধীন ১২টি লবণ কেন্দ্রের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে লবণ চাষে সার্বিক সহায়তা প্রদান এবং নিয়মিতভাবে লবণ উৎপাদন ও মজুদ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। পাশাপাশি বিসিক সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ তৈরি কার্যক্রমের মাধ্যমে আয়োডিন ঘাটতি পূরণ (সিআইডিডি) প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণ মিলসমূহকে ৮টি লবণজোনে ভাগ করে লবণ মিলসমূহ হতে নিয়মিতভাবে তথ্য সংগ্রহসহ সার্বিক কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

 প্রজন্মনিউজ২৪/গাজীআক্তার

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন