বাংলাদেশ ব্যাংক সার্ভারে আবারো ম্যালওয়ার শনাক্ত

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারী, ২০২১ ০৫:৪৫:৩৪

বাংলাদেশ ব্যাংক সার্ভারে আবারো ম্যালওয়ার শনাক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমসের সাথে জড়িত বাংলাদেশ ব্যাংকের একাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রিজার্ভ চুরির ঘটনার পর সবাই খুব স্বাভাবিকভাবেই ভেবেছেন যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চই তাদের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করবে। 

তবে বাস্তবতা ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। গত রবিবার ১০ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভারে একটি ম্যালওয়ারের উপস্থিতি ধরা পড়ার পর জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা এর কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশ্য।

রিজার্ভ চুরির ঘটনার সময়ও একইভাবে একটি ম্যালওয়ার, তথ্য চুরি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট আরটিজিএস সিস্টেমের তথ্য হ্যাকারদের হাতে তুলে দিয়েছিলো।

মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়ার্কস্টেশন এবং সাধারণের ব্যবহার্য ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছিলো ঝুঁকি মোকাবেলার পদক্ষেপ হিসেবে।

গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইন্টারনেট সংযোগ চালু করা হয়নি বলে ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে যে অফিসের কাজে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজন হলে আইসিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবস্থাপনা বিভাগকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্রের মাধ্যমে আবেদন জানাতে হবে।

ব্যাংকের কার্যনির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ জাকির হাসান ঢাকা ট্রিবুইনকে বলেন, ‘’ নতুন এক্টিভাইরাস ইন্সটল করার পর কিছু ম্যালওয়ার ধরনের প্রোগ্রামের অস্তিত্ব ধরা পড়ায় পূর্বসতর্কতা হিসেবে আমরা ইন্টারনেট সেবা সাময়িক বন্ধ রেখেছি।‘’

তবে বিশেষ প্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ থাকায় ব্যাংকের নৈমিত্তিক কাজকর্মে কোনও সমস্যা হচ্ছে না বলেও তিনি যোগ করেন।

চলতি সপ্তাহ থেকে সবার জন্য আবারো ইন্টারনেট সেবা উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ব্যাকডোর নামক সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তানভীর হাসান জোহা এবিষয়ে বলেন, ’’ম্যালওয়ার খুব মারাত্মক ধরনের ভাইরাস বা প্রোগ্রাম। সাধারণত কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যাক্তির গোপনীয় তথ্য চুরির কাজে বিভিন্ন ধরনে ম্যালওয়ার ব্যবহার করে থাকে হ্যাকাররা’’

দেশের অধিকাংশ ব্যাংকের সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার নেই যার সাহায্য সাইবার ঝুঁকি প্রশমন অথবা প্রতিহত করা সম্ভব।

সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেটের বহুল প্রচলন এবং সহজলভ্যতার সুযোগে প্রচুর ম্যালওয়ার জাতীয় প্রোগ্রাম দেশের নেটওয়ার্কে প্রবেশ করার আশংকা রয়েছে।

যথাসময়ে ম্যালওয়ার শনাক্ত ও মুছে ফেলা না হলে ভয়ংকর সাইবার আক্রমণ এবং আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকির শংকা রয়েছে অদূর ভবিষ্যতে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিট অফ ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের দেওয়া গবেষণাপত্র অনুযায়ী দেশের শতকরা ৫০% ব্যাংক সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।

দক্ষ জনবলের অভাব এবং আকস্মিক কোনও আক্রমণের প্রতিবিধান করার মতো দক্ষ লোকবলের অভাবও এর জন্য দায়ী বলে জানান বর্তমানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস এন্ড টেকনোলোজিতে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত তানভীর হাসান জোহা।

তিনি আরো বলেন, ‘’দেশের ব্যাংকগুলোর উচিত আইটি নিরাপত্তার বিষয়ে নপ্তুন করে চিন্তাভাবনা করে পদক্ষেপ নেওয়া কারণ আইটি হামলার ধরন এবং ব্যাপকতা নিয়ত পরির্তনশীল। এই মহামারির সময়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিং বৃদ্ধি পাওয়াতে এই ঝুঁকি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।‘’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইটি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও সহায়তা বিভাগের কার্যনির্বাহী পরিচালক দেবদুলাল রায় জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অতিসত্বর একটি সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার চালুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে শুধুমাত্র সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টারই যথেষ্ট নয় সাইবার হামলা মোকাবেলার ক্ষেত্রে। নিরাপত্তার ৮০% নির্ভর করে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের উপর।

আইটি নিরাপত্তা জোরদার করা একটি চলমান প্রক্রিয়া কারণ প্রতিদিনই নিত্যনতুন ভাইরাসের আক্রমণ এবং নতুন ভাইরাসের উৎপত্তির আশংকা আছে এবং থাকবে- তিনি যোগ করেন।

প্রজন্মনিউজ২৪/গাজীআক্তার

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন