পাবনার পেঁয়াজচাষিরা হতাশ : উৎপাদন খরচই মিলছে না

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী, ২০২১ ০৪:৪৮:১৬

পাবনার পেঁয়াজচাষিরা হতাশ : উৎপাদন খরচই মিলছে না

দাম ভালো পাওয়ায় পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছিলেন পাবনার পেঁয়াজচাষিরা। এবারে সেই আশায় অধিক হারে পেঁয়াজের চাষ করে খরচের টাকা পেতেই শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তারা।

পেঁয়াজচাষিদের অভিযোগ, প্রথমত ভরা মৌসুম। তারপর এই মৌসুমে মূলকাটা পেঁয়াজ আর দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। এই সময়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হওয়ার কারণেই মূলত দেশি পেঁয়াজের বাজারে ধস নেমেছে। ফলে তারা তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

পাবনার সুজানগরে পেঁয়াজের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা ভিড় করলেও পেঁয়াজের কাক্সিক্ষত দর ওঠেনি। উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে কৃষকরা পেঁয়াজের ন্যূনতম দাম নির্ধারণের দাবি তুলছেন।

সুজানগরের টাটিপাড়া গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, গত বছর পেঁয়াজের দাম বেশি থাকায় বীজ সংকট দেখা দিয়েছিল। প্রায় ১০ গুণ বেশি দামে চার হাজার টাকা কেজি দরে প্রায় ১৬ কেজি পেঁয়াজের বাল্ব কিনে মাত্র দুই বিঘা জমিতে কন্দ পেঁয়াজ (মুড়িকাটা পেঁয়াজ) আবাদ করতে খরচ হয় ৯৫ হাজার টাকা। তিনি পেঁয়াজ তুলেছেন প্রায় ৯০ মণ। গত রোববার ২০ মণ বিক্রি করেছেন প্রতি মণ ১১০০ টাকা দরে। গত এক সপ্তাহে মণপ্রতি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা কমেছে। বাজার দর এমন থাকলে উৎপাদন খরচ তোলাও কঠিন হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, অন্যান্য বছর এক বিঘা জমিতে কন্দ পেঁয়াজ আবাদ করতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হলেও এবার খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। পেঁয়াজ বীজ আর বাল্বের দাম বাড়ায় খরচ বেড়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ।

সুজানগর পেয়াজের পাইকারি বাজারের আড়তদার রশিদ বিশ্বাস বলেন, ভারত থেকে আমদানি শুরু হওয়ায় পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের এখন যা দর সেটা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। রশিদ জানান, গত বছর জানুয়ারির প্রথম দিকে নতুন পেঁয়াজ ওঠার সময় মণপ্রতি দাম ছিল সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা। এই পরিস্থিতি থাকলে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাবে।

পাবনা বড় বাজারের কয়েকজন পাইকার ও খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, কয়েকদিনের ব্যবধানে ৪০/৪৫ টাকা কেজি দরের পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়েছে ২৮/৩০ টাকা পাইকারি দরে। আর খুচরা বাজারে ৩২/৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, মুড়িকাটা পেঁয়াজ বেশিদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায় না। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই পেঁয়াজ বিক্রি করে দিতে হয়। এই সময়ে বাইরে থেকে পেঁয়াজ আমদানি করায় যারা পাইকারি পেঁয়াজ ক্রয় করে বাঁধাই করেছেন তারাও বিপাকে পড়েছেন। আর যারা উৎপাদন করেছেন তারাও আমাদের মতোই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

প্রজন্মনিউজ২৪/গাজী আক্তার

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ