ত্বকের ক্ষতি করে যেসব খাবার

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২০ ১২:৩৯:২১ || পরিবর্তিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২০ ১২:৩৯:২১

ত্বকের ক্ষতি করে যেসব খাবার

বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য ত্বকের সুস্থতা অপরিহার্য। কিন্তু লাইফস্টাইলের কিছু অসঙ্গতি রূপ-লাবণ্য নষ্ট করতে পারে। কেবল ত্বকে প্রসাধনী ব্যবহার করলেই সৌন্দর্য বাড়ে না, আরো কিছু বিষয়েও খেয়াল রাখতে হয়। রূপ-লাবণ্যের প্রক্রিয়া চলে শরীরের ভেতরে, তাই প্রতিদিন কোন খাবার খাওয়া হচ্ছে তাতে বিশেষ নজরদারি জরুরি। কিছু খাবার খেলে চর্মরোগের ঝুঁকি কমে ও ত্বকের কোমলতা বা কমনীয়তা বাড়ে। এর বিপরীতে কিছু খাবার ব্রণ, রোসাশিয়া ও ত্বকের অন্যান্য সমস্যার কারণ হতে পারে। এখানে ত্বকের ক্ষতি করে এমন নয়টি খাবারের তালিকা দেয়া হলো।

* ফাস্ট ফুড: ত্বকে কী ব্যবহার করছেন তার মতো গুরুত্বপূর্ণ হলো কী খাচ্ছেন সেটাও। যারা ফাস্টফুড খেতে ভালোবাসেন তাদের জন্য খারাপ খবর রয়েছে। ফাস্ট ফুড খেলে ব্রণ ওঠতে পারে ও ত্বক লাল হতে পারে। ত্বককে উজ্জ্বল, মোলায়েম ও আর্দ্র রাখতে ফাস্ট ফুডের পরিবর্তে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার খেতে উৎসাহিত করছেন ত্বক বিশেষজ্ঞরা।

* মিষ্টি পানীয়: আপনি হয়তো শুনেছেন যে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সফট ড্রিংকস, ডায়েট সোডা ও অন্যান্য চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। কিন্তু কেবল মেদ নয়, গবেষণা অনুসারে বলা যায় যে এসব পানীয় ত্বকের জন্যও ভালো নয়। ‘বিয়ন্ড বিউটিফুল: ইউজিং দ্য পাওয়ার অব মাইন্ড অ্যান্ড অ্যাস্থেটিক ব্রেকথ্রোস টু লুক ন্যাচারালি ইয়াং অ্যান্ড রেডিয়ান্ট’ বইয়ের লেখক ডা. ডোরিস ডে বলেন, ‘ডায়েট সোডা ও সফট ড্রিংকস উভয়েই ত্বকে প্রদাহ বৃদ্ধি করতে পারে। আমার ক্ষমতা থাকলে এসব পানীয় নিষিদ্ধ করে দিতাম।’ তবে ফলের জুস পান করতে পারেন।

* মসলাদার খাবার: ত্বকে রোসাশিয়া দেখা দিলে বাছ-বিচার করে খাবার খেতে হবে। নিউ ইয়র্ক সিটির মাউন্ট সিনাই হসপিটালের ডার্মাটোলজি বিভাগের কসমেটিক অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল রিসার্চের পরিচালক জশুয়া জেকনার বলেন, ‘আপনার রোসাশিয়া হলে মসলাদার খাবার কমাতে চেষ্টা করুন। মসলা রক্তনালীকে প্রসারিত করে, যার ফলে রোসাশিয়ার মাত্রা বাড়ে।’ তবে কেবল মসলাদার খাবারই একমাত্র অপরাধী নয়, আরো কিছু খাবারও রোসাশিয়া বাড়াতে পারে।

* পাস্তা: গবেষণায় দেখা গেছে, পাস্তা খাওয়ার পর ব্রণ সম্পৃক্ত প্রদাহ বেড়ে গেছে। কিন্তু কেবল পাস্তাই একমাত্র খলনায়ক নয়, যেকোনো পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটের খাবারই (যেমন- সাদা পাউরুটি) ব্রণ উদ্দীপক প্রদাহ বাড়াতে পারে। গবেষণায় পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও প্রদাহের মধ্যে যোগসূত্র পাওয়া গেছে। ত্বকে ব্রণ কমাতে ডায়েট থেকে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট তথা উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের খাবার কমাতে হবে। কোন খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কত তা জানা থাকতে হবে। পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট সীমিত করার একটি সহজ উপায় হলো, ডায়েটে গোটা শস্যজাতীয় খাবার বাড়ানো।

* দুগ্ধজাত খাবার: কেবল পাস্তার মতো পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট/উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের খাবার নয়, দুগ্ধজাত খাবারও ব্রণের প্রকোপ বাড়াতে পারে। ২০১৭ সালে জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড অ্যাস্থেটিক জার্নালে প্রকাশিত একটি বড় গবেষণা রিভিউতে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ব্রণ ও গরুর দুধের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। দ্য প্রো-অ্যাজিং হ্যান্ডবুকের লেখক ও কসমেটিক ডার্মাটোলজিস্ট পল জারোড ফ্রাঙ্ক বলেন, ‘দুগ্ধজাত খাবার প্রদাহ বাড়ায় বলে ব্রণের অবস্থা আরো খারাপ হয়।’ তাই অনেক ত্বক বিশেষজ্ঞ ব্রণের প্রবণতা থাকলে গরুর দুধ পানে অনুৎসাহিত করেন।

* পটেটো চিপস: সাধারণত শিশুরা চিপস জাতীয় খাবার খেয়ে থাকেন। নিঃসন্দেহে এসব খাবার শিশুর জন্য ক্ষতিকারক। তবে কিছু প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরও পছন্দের স্ন্যাকস হলো চিপস, বিশেষ করে পটেটো চিপস। আপনার চিপস খাওয়ার প্রবণতা থাকলে অভ্যাসটি পরিহারের কথা ভাবুন, কারণ এরকম খাবার ত্বকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ও ব্রণের প্রকোপ বাড়ায়।

* ফ্রাইড চিকেন: ফ্রাইড চিকেনের মতো তেলে ভাজা সুস্বাদু খাবার আপনার পছন্দ হলেও, এ খাবারটিকে কিন্তু আপনার অপছন্দ করে। এর কারণ হলো, তেলে ভাজা খাবারের ট্রান্স ফ্যাট প্রদাহ বাড়িয়ে ত্বকের ক্ষতি করে অথবা রোসাশিয়ার মতো চর্মরোগ সৃষ্টি করে। তাই ত্বকের সুরক্ষায় কেবল চিকেন ফ্রাইড নয়, তেলে ভাজা অন্যান্য খাবারও এড়িয়ে চলার কথা ভাবতে পারেন।

* চিনি: মাঝেমধ্যে মিষ্টি খাবার খেতে সমস্যা নেই, কিন্তু চিনিযুক্ত খাবারকে নেশায় পরিণত করলে ত্বকও রেহাই পাবে না। অন্যান্য উচ্চ গ্লাইসেমিক খাবারের মতো চিনিও দ্রুত রক্ত শর্করা বাড়িয়ে প্রদাহ ও গ্লাইকেশনকে উদ্দীপ্ত করে- এটা কোলাজেন ফাইবারকে অনমনীয় করে ত্বকের কোমলতা কমায় ও সময়ের আবর্তনে বলিরেখা বাড়ায়, জানান ডা. জেকনার।

প্রজন্মনিউজ২৪/মুজাহিদ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ