সিলেটে সাজানো গুমের মামলায় আসামি তিন ভাই

প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর, ২০২০ ১০:৪৫:৫৫

সিলেটে সাজানো গুমের মামলায় আসামি তিন ভাই

মৎস্য খামার প্রকল্পে বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়েছেন ওসমানীনগরের উমরপুর ইউপির সিকন্দরপুর গ্রামের প্রবাসী জমশেদ আলী লেফাছ। চাচাতো ভাইদের কর্মসংস্থানের জন্য ফিশারি (মৎস্য খামার) গড়ে তুললেও তারাই এখন খামার ও তার ভূ-সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ জমশেদের। শুধু তাই নয়, প্রায় ৮ বছর আগে মানসিক ভারসাম্যহী নিখোঁজ চাচাতো ভাইকে গুম করার সাজানো মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে জমশেদ ও তার দুই ভাইকে। এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

জমশেদ জানান, ২০১৩ সালে ওসমানীনগরের সম্মানপুর মৌজায় যৌথ মালিকানার সাড়ে ১০ কেদার (৩১৫ শতক) ভূমিতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা দিয়ে ফিশারি গড়ে তোলেন। মাসিক ৮ হাজার টাকা বেতনে খামার দেখাশোনার দায়িত্ব দেন চাচাতো ভাই আবদুল্লাহপুর গ্রামের ছিদ্দিক আলীর ছেলে রানু মিয়া ও জানু মিয়াকে। রানু-জানুর তত্ত্বাবধানে জনবল নিয়োগসহ ব্যয় করেন আরও ২০ লাখ টাকা। ২০১৪ সালে খামারে মাছের পোনাসহ আরও প্রায় ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চাচাতো ভাই রানু মিয়া ও জানু ৩ বছর খামারের আয়-ব্যয়ের হিসাব না দিয়ে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবগত করা হলে রানু-জানু হিসাব বুঝিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১৯ সালে নতুন করে ফিশারিতে জমসেদ আরও ৫ লাখ টাকার মাছ চাষ করেন। এদিকে রানু ও জানু মিয়া টাকার হিসাব না দিয়ে নানা চক্রান্ত করতে থাকেন। চলতি বছরের ১৪ মে জমসেদ মিয়ার ৯০ শতক ভূমির পাকা ধান এবং বাড়ির মূল্যবান গাছ কেটে নেন তারা। এসব ঘটনায় রানু, জানু মিয়া এবং তাদের সহযোগী মফিজুর ও হিবরুকে অভিযুক্ত করে মামলা দিলে তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়েও পুলিশ এফআইআর না করে নন-এফআইআর প্রসিকিউশন করেছে বলে অভিযোগ করেন জমসেদ।

এ সময় রানু, জানু ও তাদের সহযোগীরা প্রায় ১৪-১৫ লাখ টাকার মাছ লুট করেন। এ বিষয়ে চলতি বছরের ১৪ জুলাই রানু ও জানুসহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেন। মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ওসমানীনগর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু পুলিশ মূল আসামিদের বাদ দিয়ে প্রতিবেদন দেয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে জমসেদ শরণাপন্ন হন সিলেট পুলিশ সুপারের। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা কৌশলে আসামিপক্ষকে সমর্থন করে প্রতিবেদন পাঠাতে কালক্ষেপণের সুযোগে ২০১২ সালের ১২ আগস্ট রানু ও জানুর আরেক ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় নিখোঁজ হামদু মিয়াকে গুম করা হয়েছে মর্মে রানু মিয়া আদালতে মামলা করেন। এ মামলায় জমশেদ ও তার প্রবাসী দুই ভাই পিয়ার আলী মধু, আছকির আলী দুদুসহ ৪ জনকে আসামি করা হয়। ভুক্তভোগী জমশেদ বলেন, চাচাতো ভাইদের সব সময়ই আর্থিক সহযোগিতা করে আসছি। তাদের কথায় রাজি হয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে ফিশারি করে দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমার পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাতের অপচেষ্টা এবং উল্টো সাজানো গুমের মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে।

এদিকে নিখোঁজ হামদু মিয়ার স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীকে কেউ নিখোঁজ করেনি। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। ইতিপূর্বে তিনি দু-তিন বার নিখোঁজ হয়ে ৫-৬ মাস পর আবার বাড়ি ফিরেছিলেন। ৮ বছর আগে নিখোঁজ হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। আমি সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছি। অপরদিকে রানু ও জানু মিয়া দাবি করেন, জমশেদ আমাদের জায়গা লিজ নিয়ে ফিশারি করে আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাতের পাঁয়তারা ও আমার ভাইকে গুমসহ লিজের টাকা না দিয়ে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই সিলেটের এসআই তারিকুল ইসলাম বলেন, ওই মামলার তদন্ত চলছে। সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওসমানীনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক বলেন, যতটুকু জেনেছি, ওই প্রবাসী চাচাতো ভাইদের ফিশারি করে দিয়েছিলেন। পরে টাকা-পয়সা ও পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে জমশেদ মিয়া আদালতে মামলা করেন, যা তদন্তাধীন রয়েছে। সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখে দ্রুত এ ব্যাপারে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

প্রজন্মনিউজ২৪/সাখাওয়াত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ