জাল টাকা তৈরিই নেশা ও পেশা!

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২০ ০১:১৮:১৮

জাল টাকা তৈরিই নেশা ও পেশা!

২০১১ থেকে ২০১৯ এই ৮ বছরে জাল টাকা তৈরি করতে গিয়ে এ যাবত পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে ৬ বার হুমায়ন কবির। কিছুদিন পর পর জেল থেকে বেরিয়ে আবারও জড়িয়ে পড়েন একই কারবারে। এভাবে বারবার গ্রেপ্তার ও জেল থেকে বেরিয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়াটাই তার নেশা ও পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন। এমনকি তিনি তার জাল টাকার কারখানায় বেতনভুক্ত কর্মচারীও নিয়োগ দিয়েছেন। অপরাধের শিল্পটা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে বিভাগীয় পর্যায়ে ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনা ছিল হুমায়নের। কিন্তু তার পরিকল্পনায় বাধ সাধে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার রাতে ৭ম বারের মতো ৪৯ লাখ জাল টাকা এবং টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ আবারও গ্রেপ্তার হন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনের ডিসি মশিউর রহমান যায়যায়দিনকে বলেন, জাল টাকা তৈরি ও বাজারজাত করে আগেও ছয়বার গ্রেপ্তার হয়েছেন হুমায়ন কবির (৪৭)। সর্বশেষ দেড় বছর আগে জেল থেকে বেরিয়ে আরও বড় পরিসরে জাল টাকা তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন তিনি। এমন খবরের ভিত্তিতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় নূরজাহান রোডের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকেসহ জামাল উদ্দিন, তাসলিমা আক্তার ও সুখী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি আসুস ল্যাপটপ, চারটি ইপসন প্রিন্টার, কয়েকটি কাটার, অনেকগুলো স্ক্রিন, ডাইস, নিরাপত্তা সুতা, বিভিন্ন রঙের কালি, আঠা, বিপুল পরিমাণের জলছাপযুক্ত বিশেষ কাগজ, বিপুল পরিমাণে অন্যান্য সামগ্রী ও সফট ডাটা/কপি উদ্ধার করা হয়। যা দিয়ে আনুমানিক চার কোটি জাল টাকা তৈরি করা সম্ভব।

জানা গেছে, ২০১১ সালে প্রথম জাল টাকা কারবারে যুক্ত থাকার অপরাধে ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হন হুমায়ন কবির। এ সয়ম তার কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। সে সময় দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তির পর আবারও জড়িয়ে পড়েন জাল টাকার কারবারে। কিন্তু তিনি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও তার উপর গোয়েন্দা নজরদারি ছিল। ২০১২ সালের শেষের দিকে আবারও ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হন হুমায়ন। দ্বিতীয়বার জেলে যাওয়ার পর প্রায় ২ বছর পর বেরিয়ে এসে গা ঢাকা দেন তিনি।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৭ সালে বিপুল পরিমাণ জাল টাকাসহর্ যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। তিনবার গ্রেপ্তারের পর আইন-আদালত তার অনেকটাই চেনা-জানার মধ্যে চলে আসে। এরপর থেকে তিনি আর পেছনে ফিরে তাকাননি। প্রতি বছরই জাল টাকা কারবারের অভিযোগে জেলে যেতে হয়েছে তাকে। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আরও তিনবার জেলে যান। প্রতিবারই তার বিরুদ্ধে জাল টাকা তৈরি ও বাজারজাতের অভিযোগ ছিল। সর্বশেষ গত রোববার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় ৭ম বারের মতো। এভাবে তার নামে এখন রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মামলার সংখ্যা ১০টি। তার সহযোগী জামালের নামেও রয়েছে জাল টাকা তৈরির দুটি মামলা।

এই চক্রটি সারা বছর ধরে জাল টাকা তৈরি করলেও কোনো ধরনের উৎসবকে সামনে রেখে তারা তৎপর হয়ে ওঠে। এবারও দুর্গাপূজায় তাদের দেশব্যাপী জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল। এজন্য তিনি গ্রেপ্তার দুই নারী তাসলিমা আক্তার ও সুখী আক্তারকে বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসাবে নিয়োগ দেন। নিখুঁতভাবে টাকা সাইজ অনুসারে কাটা ও নিরাপত্তামূলক সুতা স্থাপনের জন্য তাসলিমাকে ১৫ ও সুখীকে ১০ হাজার টাকা মাসে বেতন নির্ধারণ করা হয়। তাসলিমা আক্তারের স্বামী সাইফুল ইসলাম গত জানুয়ারি মাসের্ যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলখানায় আছেন। তাসলিমার আগে থেকেই জাল টাকা তৈরির বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকায় তার বেতন একটু বেশি ধরা হয়।

ডিসি মশিউর রহমান জানান, গ্রেপ্তার হুমায়নের ভাই কাওসারও একজন জাল টাকার ব্যবসায়ী। বর্তমানে কাওসার একই অভিযোগে কারাগারে আটক আছেন। এ চক্রটি আগে ঢাকায় বসে জাল টাকা তৈরি করলেও দেশের বিভিন্ন জেলাতে পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে এক লাখ জাল টাকা মাত্র ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করত। এতে তাদের ধরা পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকায় এবার তারা বিভাগীয় পর্যায়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছিল। তার পরিকল্পনায় ডিলারদের দায়িত্ব ছিল জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া। এ ধরনের একটি তালিকাও পাওয়া গেছে। কয়েকটি বিভাগে টাকাও পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকার সূত্র ধরে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

প্রজন্মনিউজ২৪/হাবিব

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ