কর্মদক্ষতার ওপর বাজেট বরাদ্দ হবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে: ইউজিসি

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২০ ০৫:৩৩:০৫

কর্মদক্ষতার ওপর বাজেট বরাদ্দ হবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে: ইউজিসি

আগামী অর্থবছর থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মদক্ষতা যাচাই করে বাজেট বরাদ্দের কথা ভাবছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। একইসঙ্গে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলতে গবেষণায় বরাদ্দের পরিমাণও বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছে ইউজিসি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইউজিসি’র অডিটোরিয়ামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেট সংক্রান্ত দুই দিনব্যাপী  অনুষ্ঠিত সভার সমাপনী দিনে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানায় ইউজিসি।

সভায় ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা খুবই দরকার। আর্থিক কাজে ভুলের কোনও সুযোগ নেই। এ খাতে এক পয়সা পর্যন্ত ছাড় দেওয়া যাবে না। তবে বাজেটে বরাদ্দকৃত টাকা যাতে অলসভাবে পড়ে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ’

এসময় চেয়ারম্যান সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের আইন-কানুন মেনে এবং ইউজিসি’র অনুমোদন নিয়ে দাফতরিক কাজ সম্পাদন করার অনুরোধ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, ‘দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যাতে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হয়, শিক্ষায় গুণগতমান বজায় রেখে এগিয়ে যায় এবং বিশ্ব র‌্যাকিংয়ে সম্মানজনক স্থান করে নিতে পারে, সেজন্য গবেষণায় বরাদ্ধ বৃদ্ধি করা হবে ।’

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামীতে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে তিনি বলেন, ‘কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাজেট বরাদ্দের কথা ভাবছে কমিশন। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মদক্ষতা কমে গেলে সামগ্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিচে নেমে যায়। ’

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তাদের অভিন্ন গ্রেড ও বেতন নির্ধারণ দাবি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এক বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া যাবে না। কারণ, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব আইন ও বিধি-বিধান দিয়ে পারচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন মানে যথেচ্ছার নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন শুধুমাত্র অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে, আর্থিক বিষয়ে প্রযোজ্য নয়। আর্থিক বিষয়ের জন্য অবশ্যই ইউজিসি’র অনুমোদন নিতে হবে। ’

এসময় তিনি সিনেট-সিন্ডিকেটে অর্থ সক্রান্ত বিষয় পাস করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারের আর্থিক বিধি-বিধান ও পে-স্কেল অনুসরণের পরামর্শ দেন।

সভায় অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। ‘স্ট্রাটেজিক প্ল্যান ফর হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ-২০৩০’ এ শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্ধ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তবে খাতওয়ারি বরাদ্দকৃত টাকা প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে অবশিষ্ট ২৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক ও বাজেট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ নেন।

সভায় ২০২০-২০২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং ২০২১-২০২২ অর্থবছরের মূল বাজেটের সুবিধা-অসুবিধা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ প্রধান অতিথি হিসেবে সভায় ভার্চুয়ালি যোগদান করেন। কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরের সভাপতিত্বে বাজেট সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর ও অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিশনের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান।  এছাড়া, এ  সভায় ইউজিসি’র বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রজন্মনিউজ/মেহেদী

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ