জিন সম্পাদনায় নতুন প্রযুক্তিতে বাজিমাত , রসায়নে নোবেল দুই নারী বিজ্ঞানীর

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২০ ১২:৫০:৩৫

জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে ডিএনএ সম্পাদনার 'সূক্ষ্ণতম' কৌশল উদ্ভাবনের স্বীকৃতিতে এ বছর রসায়ন শাস্ত্রের নোবেল পেয়েছেন দুই বিজ্ঞানী। রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস বুধবার এ পুরস্কারের জন্য জার্মানির গবেষক ইমানুয়েল কার্পেন্টার এবং যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার এ ডাউডনার নাম ঘোষণা করে।

নোবেল কমিটি বলছে, এ দুই গবেষকের উদ্ভাবিত 'সিআরআইএসপিআর-সিএএস৯' প্রযুক্তি নিখুঁতভাবে জিন সম্পাদনার কাজটি সম্ভব করেছে, যার পথ ধরে ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি তৈরি হচ্ছে। আশা জাগছে জন্মসূত্রে পাওয়া বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের। এছাড়া এটি ব্যবহার করে গবেষকরা খুব সহজেই প্রাণী, উদ্ভিদ এবং অণুজীবের ডিএনএ পরিবর্তন করতে পারেন।

এবারের নোবেল পুরস্কারের এক কোটি সুইডিশ ক্রোনার ভাগ করে নেবেন ইমানুয়েল কার্পেন্টার ও জেনিফার এ ডাউডনা। এর আগে গত বছর লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির উন্নয়ন ঘটিয়ে মার্কিন বিজ্ঞানী জন বি গুডএনাফ ও এম স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম এবং জাপানের আকিরা ইয়োশিনো রসায়ন শাস্ত্রের নোবেল পান।

রসায়নে এ পর্যন্ত ১৮৩ জনকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে রসায়নশাস্ত্রে অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার জেতেন আমেরিকার বিজ্ঞানী ফ্রান্সেস এইচ আরনল্ড, জর্জ পি স্মিথ এবং যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানী স্যার গ্রেগরি পি উইন্টার।

ইমানুয়েল কার্পেন্টার ১৯৬৮ সালে ফ্রান্সের জুভিসি সুর অর্গে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সালে প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউট থেকে পিএইচডি করা ইমানুয়েল এখন জার্মানির রাজধানী বার্লিনে অবস্থিত ম্যাক্স পস্নাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য সায়েন্সেস অব প্যাথোজেনসের পরিচালক হিসেবে কর্মরত।

জেনিফার এ ডাউডনার জন্ম ১৯৬৪ সালে ওয়াশিংটনে। বোস্টনের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল থেকে ১৯৮৯ সালে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি এখন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। এছাড়া হাওয়ার্ড হজেস মেডিকেল ইনস্টিটিউটের ইনভেস্টিগেটর হিসেবে দায়িত্বরত।

এদিকে মহাবিশ্বের অন্যতম বিস্ময় কৃষ্ণ গহ্বর সম্পর্কে নতুন আবিষ্কারের গবেষণায় চলতি বছর পদার্থে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী রজার পেনরোস, মার্কিন জ্যোতির্বিদ রেইনহার্ড গেঞ্জেল ও জার্মান পদার্থবিদ আন্দ্রিয়া ঘেজতিন। মঙ্গলবার রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি এ বছরের পদার্থে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।

নতুন নতুন উদ্ভাবন, গবেষণা এবং মানব জাতির কল্যাণে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রত্যেক বছর নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। সুইডিশ ব্যবসায়ী ও ডিনামাইট আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছা অনুযায়ী ১৯০১ সাল থেকে বিজ্ঞান, সাহিত্য, অর্থনীতি ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দিয়ে আসা হচ্ছে।

নোবেল কমিটিগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার দ্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি থেকে সাহিত্যে, শুক্রবার নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শান্তিতে এবং সোমবার দ্য রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করবে।

প্রজন্মনিউজ২৪/হাবিব

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ