যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় কোমর পানি : তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘স্যালি’

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৩:৪৩:৫৪

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় অঞ্চলে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘স্যালি’। ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ও নজিরবিহীন বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়ার অফিসের মতে, প্রায় চার মাসের বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ৪ ঘণ্টায়। সৃষ্টি করেছে ভয়াবহ বন্যার।

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় অঞ্চলে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘স্যালি’। ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ও নজিরবিহীন বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়ার অফিসের মতে, প্রায় চার মাসের বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ৪ ঘণ্টায়। সৃষ্টি করেছে ভয়াবহ বন্যার।


পানিতে ভাসছে উপকূলীয় দুই রাজ্য আলাবামা ও ফ্লোরিডার বহু এলাকা। রাস্তায় রাস্তায় কোমর সমান পানি। বিভিন্ন স্থানে বহু গাছপালা উপড়ে গেছে। প্রকাণ্ড ওক গাছ উপড়ে ছিঁড়ে গেছে বৈদ্যুতিক তার।

ফ্লোরিডার পেন্সাকোলা ও সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ। ঝড়ে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ হয়েছে আরও কয়েকজন। খবর বিবিসি ও সিএনএন।

চলতি বছর আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্টি কয়েকটি ঝড়ের অন্যতম ‘স্যালি’। মেক্সিকো উপসাগরের আলাবামা উপকূল দিয়ে বুধবার ভোরে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬৯ কিলোমিটার বেগে স্থলভাগে আঘাত হানে ক্যাটাগরি-২ ঝড়টি।

বিকালের দিকে এটি দুর্বল হয়ে একটি ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হয়। এ সময় এর গতিবেগ ১১৩ কিলোমিটারে নেমে যায়। তবে গতি হারালেও এগিয়ে যাওয়ার সময় আলাবামা ও ফ্লোরিডায় তাণ্ডব চালায়। সঙ্গে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটায়।

এতে ফ্লোরিডার বেশ কিছু এলাকা ও আলাবামার দক্ষিণাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বন্যা। একে ‘বিপর্যয়কর ও সর্বনাশা’ বন্যা বলে বর্ণনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার।

আলাবামার অরেঞ্জ সৈকত থেকে পুলিশ কর্মকর্তা ট্রেন্ট জনসন জানিয়েছেন, পানির সঙ্গে একটি লাশ ভেসে এসেছে। মৃত্যুর ঘটনাটি হারিকেনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

এনএইচসির মতে, ক্যাটাগরি-২ ঝড়ে বাতাসের গতি সচরাচর ৯৬ মাইল থেকে ১১০ মাইল হয়। এর ফলে সাধারণত ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি ও গাছপালা উপড়ে যায়। ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ সেন্টিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় গাল্ফ কোস্টের বেশ কিছু অংশ তলিয়ে গেছে।

ফ্লোরিডার পেন্সাকোলা অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের প্রধান গিনি ক্রানর বলেন, চার ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালানো ঝড়ে প্রায় চার মাসের বৃষ্টি হয়েছে।’ এতে পেন্সাকোলার উপকূলীয় এলাকাগুলো দেড় মিটার পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঝড়ের কারণে বড় বড় ওক গাছ উপড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে। এতে পেন্সাকোলা ও আশপাশের ৫ লাখেরও বেশি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।

আলবামা ও ফ্লোরিডা উপকূলের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ধীরগতিতে এগোতে থাকা ঝড়ের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতিতে তারা বেকায়দায় পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ৩৮ বছরের গ্রান্ট সল্টজ বলেন, বহু বছর পর এমন বাতাস দেখা গেল।

পেন্সাকোলার হলিডে ইন হোটেলে কর্মরত জর্ডান মিউজ (৩৫) বলেন, সকাল ৮টার দিকে বন্যার পানি সর্বোচ্চ উচ্চতায় ওঠে। হোটেলে বিদ্যুৎ ও পানি ছিল না।

তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি এত খারাপ হবে আমাদের ম্যানেজার বুঝে উঠতে পারেননি, প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে আর প্রচণ্ড ঝড় বইছে।’ হোটেলে যা কিছু পেয়েছে লোকজন তাড়াহুড়া করে সব কিনে নিয়ে গেছে, জানিয়েছেন তিনি।


পেন্সাকোলা বে ব্রিজ যা ‘থ্রি মাইল ব্রিজ’ নামেও পরিচিত, এর ‘বড় একটি অংশ’ ভেসে গেছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্টিস।
 

প্রজন্মনিউজ২৪/সাখাওয়াত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন