তাইজুল খেলতে চান তিন ফরমেটে

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০১:০১:০২

বাংলাদেশ স্পিনার তাইজুল ইসলামকে বোলিং করতে দেখলে এখন যে কেউ চমকে যেতে পারে। মনে হয় যেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক স্পিনার এবং বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং পরামর্শক ড্যানিয়েল ভেট্টরি বোলিং করছেন। আগের বোলিং এ্যাকশন পরিবর্তন করে ফেলেছেন তাইজুল। এখন আর রানআপ শেষে বল ছোড়ার আগে লাফিয়ে বল ছুড়েন না। ভেট্টরির মতোই শর্ট রানআপে বোলিং করেন। নতুন বোলিং এ্যাকশন আয়ত্ত করেছেন। তার এই বোলিং এ্যাকশন নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি স্পিনার ভেট্টরির পরামর্শেই হয়েছে। আর এই এ্যাকশন নিয়ে তিন ফরমেটে খেলার আশা দেখেন তাইজুল।
টেস্ট ক্রিকেটেই খেলার সুযোগ বেশি পান স্পিনার তাইজুল। আর তাই ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরু করে টেস্টেই বেশি খেলেছেন। ২৯টি টেস্ট খেলেছেন। সেখানে ৯টি ওয়ানডে ও ২টি টি২০ ম্যাচ খেলতে পেরেছেন। মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল এ নিয়ে বলেছেন, ‘আমার আগের যে এ্যাকশনটা ছিল জায়গায় জায়গায় বল করাটা অনেক সুবিধা ছিল। কিন্তু ঐ এ্যাকশনটাতে তিন ফরমেটে চালিয়ে নেয়া কঠিন। বৈচিত্র্যের মাত্রাটা একটু কম ছিল। এখন যে নতুন বোলিং এ্যাকশনটা এটা নিয়ে (ড্যানিয়েল) ভেট্টরির (স্পিন বোলিং পরামর্শক) সঙ্হে কথা বলেছি, সে বলল, ‘এটা দিয়ে তিন ফরমেটে খেলতে পারবা’। যার জন্য বিভিন্ন দিক চিন্তা করে, বলের বাউন্সের দিক চিন্তা করে, বিভিন্ন বৈচিত্র্যের কথা চিন্তা করে এ্যাকশনটা পরিবর্তন করা।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমি ইতোমধ্যে ফলাফলও পাচ্ছি ব্যাটসম্যানদের বল করে। বৈচিত্র্যের দিকে সাহায্য করছে নতুন এ্যাকশনটা।’
স্পিন বোলিং পরামর্শক ড্যানিয়েল ভেট্টরির পরামর্শেই নতুন বোলিং এ্যাকশন নিয়ে কাজ করেছেন তাইজুল। আগের বোলিং এ্যাকশনে খুব বেশি বৈচিত্র্য ছিল না। আর তাই তিন ফরমেটের ক্রিকেটেও সাফল্য পাওয়াও কষ্টসাধ্য ছিল। সুযোগও তাই কমই মিলেছে। এখন নতুন এ্যাকশন নিয়ে তিন ফরমেটেই খেলতে পারবেন বলে মনে করছেন তাইজুল। তাইজুল বলেন, ‘৩-৪ মাস পর মাঠে ফিরে আসা কঠিন। তারপরও ক্রিকেট বোর্ড যে সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে, আমরা ২ মাসের মতো প্র্যাকটিস করলাম। ব্যক্তিগতভাবে আমি বোলিং নিয়ে কাজ করেছি। ভেট্টরির সঙ্গে কথা বলেছি আমার বোলিং নিয়ে, মাঝখানে এ্যাকশন বদলেছি। এ্যাকশন নিয়ে কাজ করেছি। শরীরের সঙ্গে এখন এ্যাকশন মানিয়ে গেছে। এখন টানা ২ ঘণ্টা বোলিং করতেও সমস্যা হচ্ছে না। আমাদের ব্যক্তিগত অনুশীলন যখন ছিল তখন যে সুবিধাটা হয়েছে যার যার কাজগুলো নিজের মতো করে করতে পেরেছি। সপ্তাহ দুয়েক হলো ব্যাটম্যানদের বোলিং করছি নেটে। আত্মবিশ্বাস বাড়তে শুরু করেছে, আরও কিছুদিন গেলে আরও বাড়বে আশাকরি।’ টেস্টে তাইজুলের বড় শক্তি, লাইন-লেংথে টানা বল করে যাওয়া। নতুন এ্যাকশনে ফ্লাইটের বৈচিত্র্যও পরিবর্তনের শঙ্কা থাকে। তাইজুল জানান, ‘এ জন্য বলের বাড়তি বাউন্সের দিক চিন্তা করে, ওভার স্পিনের কথা চিন্তা করে, বিভিন্ন বৈচিত্র্যের কথা চিন্তা করেই এ্যাকশন বদলে ফেলেছি। এর মধ্যে ফলও পাচ্ছি, বৈচিত্র্য পেতে সহায়তা করছে নতুন এ্যাকশন।’
অনুশীলনে সাফল্য মিলছে। বোঝাই যাচ্ছে নতুন এ্যাকশনে সন্তুষ্টও তাইজুল। এখন ম্যাচে তা দেখানোর অপেক্ষা। সেই অপেক্ষা কী এখনই ফুরাবে? শ্রীলঙ্কা সফর যে অনিশ্চয়তায়। এরপরও অনুশীলন থেমে নেই। তাইজুল জানান, ‘আমরা যারা ক্রিকেটার বা যে কোন খেলার খেলোয়াড়ই বলুন, এত লম্বা সময় খেলার বাইরে থাকা কঠিন। আমরা মাঠে থাকতেই পছন্দ করি। সামনে শ্রীলঙ্কা সিরিজ হওয়াটা তাই খুবই জরুরী। তাহলে ক্রিকেটাররা সবাই মাঠে ফিরতে পারব। আগের অবস্থায় ফিরতে পারলে ভাল লাগবে।’

প্রজন্মনিউজ২৪/হাবিব

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ